Jump to content
Sign in to follow this  
মার্কেট আপডেট

EURUSD – ২০২১ সাল যেমন যেতে পারে

Recommended Posts

বৈশ্বিক মহামারী ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এর ফলে বিভিন্ন দেশের কারেন্সিগুলোর প্রাইস কমলেও ২০২০ সালের শেষের দিকে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা বেশি দেখা যায়।

মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং ব্রেক্সিট কার্যকরী চুক্তিকে কেন্দ্র করে EURUSD পেয়ারটি গত দু’বছরের সর্বোচ্চ প্রাইসে উঠেছিল।  তবে পেয়ারটি ২০১৮ সালের সর্বোচ্চ প্রাইস ১.২৫৫৪ এখনও অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি। পেয়ারটি উল্লেখিত প্রাইস অতিক্রম করতে সক্ষম হবে কিনা সেটা দেখার বিষয়।

Untitled-1.jpg

২০২০ সালে EURUSD কে ঘিরে যে ইভেন্টগুলো কাজ করেছিল

২০১৯ সালের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী মাহামারির কারণ করোনাভাইরাস শুধু চীনের মধ্যে সীমাদ্ধ ছিল। পরবর্তী তিন মাস এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর দ্রুত ইতালিতে ভাইরাসের সংক্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। ইাতালি গ্রাসের পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের দরজায় আঘাত হানে।

ভাইরাস দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণ কেন্দ্র নিউইয়র্কের অর্থনীতি থামিয়ে দেয়। দেশটি লকডাউনে গেলেও স্প্রেড নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়। যা মার্কিন ডলারের দুর্বলতার অন্যতম কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অনেকের ধারণা ডোনাল ট্রাম্পের অবহেলা। শুরুতে দেশটি কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে ছিল। দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে অস্বীকার করেছিলেন। যা অসুস্থ রাজনীতির পরিচয় বহন করেছিল।

1.png

এর ফলে দেশটিতে ১৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সংক্রামিত হয়েছে এবং প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার লোক মারা গিয়েছে। তবে ২০২০ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন জরুরী অনুমোদন পাচ্ছে এবং প্রথম বিশ্বের জনগণ জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

তবে দেশগুলোতে সামাজিক দূরত্ব, ফেস- মাস্ক এবং রিমোট ওয়ার্কিং ২০২১ সালেও সাধারণ বিষয় হিসেবে থাকবে। যা মানবজীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তবে ক্ষুদ্র ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বা বাজারগুলো ডেউলিয়া হয়ে পড়লেও বর্তমানে কিছুটা ঘুরে দাড়াবার চেষ্টা করছে।

ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান

মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অর্থনীতির উপর মহামারির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বড় আকারের জরুরি কার্যক্রম শুরু করে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ ক্রয়ের অনুমোদন দেয়। এছাড়াও ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট ০.২৫% এ অপরিবর্তনীয় রেখেছিল। ডিসেম্বরে বৈঠকে ফেড অতি-শিথিল নীতি বজায় রেখেছে এবং ঘোষণা করেছে যে কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি সত্ত্বেও তারা উল্লেখিত নীতি বজায় রাখবেন। ব্যাংক নির্ধারিত ২% মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেলেও ইন্টারেস্ট রেট অপরিবর্তনীয় রাখতে পারে।

এদিকে মহামারী মোকাবেলায় ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২০ বিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং ঠিক এর পরেই এমার্জেন্সি পারসেস প্রোগ্রামে (PEPP) বছরের শেষ অবধি ৭৫০ বিলিয়ন ইউরোর অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে (PEPP) কয়েক ধাপে অনুমোধন বাড়িয়েছে।

আর্থিক উদ্দীপনা এখও বিধ্যমান রয়েছে। কেবল ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়। বিশ্বজুড়ে প্রধান ব্যাংকগুলো একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে ভাইরাস এবং বিধিনিষেধের সাথে অর্থনীতি যতক্ষণ লড়াই করবে ততক্ষণ আর্থিক প্রেরণার গতি বেশি থাকবে। ২০২১ সালের উদ্দীপনা অর্থ হলো মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।

কোন দেশ কতটুকু অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয প্রান্তিকে জিডিপি ৩৩.১% বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২.৮% কমেছিল। এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ১৩.৯% সংকুচিত হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে ১১.৬% বাউন্স করেছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২.৮% কমলেও পরবর্তীতে ০.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ২২ মিলিয়ন লোক চাকরি হারিয়েছে এবং মে থেকে নভেম্বরে কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

2.png

3.png

গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার পর সংক্রামনের দ্বিতীয় তরঙ্গ দেশ দুটির অর্থনীতিকে সমানভাবে আঘাত করেছে, যার ফলস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্তরে নতুন করে সীমাদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবুও, ভ্যাকসিন সরবরাহের ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং চাকরির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে,বিশ্ব ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে অর্থনৈতিক প্রত্যাবর্তনে সক্ষম হতে পারে। তবে মহামারীর পূর্বের অবস্থানে যাওয়া কষ্টসাধ্য।

জো বাইডেন, চীন এবং বানিজ্য যুদ্ধ

মহামারি বিশ্বে প্রভাব ফেলার পূর্বে ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু ছিল। তবে বিশ্ব আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর কি পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে নাকি স্বাভাবিক হবে?

যদিও ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন। তবে বাইডেনের সাথে চীনের সম্পর্ক কেমন হবে সেটা দেখার বিষয়।

বাইডেন তার আলোচনায় যে বিষয়গুলোর কথা বলেছেন তার মধ্যে তিনি চীনকে চাপ বজায় রাখবেন এবং অন্যায্য বাণিজ্য পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। এছাড়াও বাণিজ্য আরও ভালভাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মহামারী পরবর্তীতেও দেশ দুটির উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

EURUSD টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস

২০১৮ সালে EURUSD পেয়ারটি ১.২৫৫৪ প্রাইসে আসার পরবর্তীতে ডাউনট্রেন্ডে আসতে শুরু করে। তবে ২০২০ সালের শেষের দিকে পেয়ারের প্রাইস বৃদ্ধি পাচ্ছে।

4.png

২০০৮ সালে পেয়ারটি ১.৬০৩৬ প্রাইসে গিয়েছিল। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, পেয়ারের আপট্রেন্ড ২০২১ এর শুরুর দিকে অব্যাহত থাকতে পারে। পেয়ারের বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ১.২৫৫৪। পরবর্তীতে ইউরো/ডলারের ক্ষেত্রে ১.২৭৫০ রেজিস্ট্যান্স লেভেলে হতে পারে।

অপরদিকে পেয়ারটি ১.২০০০ প্রাইস অতিক্রম করে নামলে ডাউনট্রেন্ড বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পেয়ারটি ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তীকের প্রাইস ১.১৬০০ আসতে পারে।

সবচেয়ে কম স্প্রেডে EURUSD পেয়ারটি ট্রেড করতে XM Ultra Low অ্যাকাউন্ট খুলুন এখান থেকে।

Share this post


Link to post
Share on other sites

Join the conversation

You can post now and register later. If you have an account, sign in now to post with your account.

Guest
Reply to this topic...

×   Pasted as rich text.   Paste as plain text instead

  Only 75 emoji are allowed.

×   Your link has been automatically embedded.   Display as a link instead

×   Your previous content has been restored.   Clear editor

×   You cannot paste images directly. Upload or insert images from URL.

Loading...
Sign in to follow this  

বিডিপিপস চ্যাট রুম

বিডিপিপস চ্যাট রুম

    চ্যাট করতে লগিন বা রেজিস্ট্রেশন করুন।
    ×
    ×
    • Create New...