Jump to content
Sign in to follow this  
তানভীর™

পাউন্ডকে প্রভাবিত করে এমন ৫ ধরনের নিউজ রিপোর্ট - ১ম পর্ব

Recommended Posts

নিয়মিত ট্রেড করে থাকলে পাউন্ড যে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কারেন্সি, তা আর আপনার অজানা থাকার কথা না। নিয়মিত ট্রেড করতে গিয়ে কম-বেশি প্রত্যেক ট্রেডারই উপলব্ধি করেছেন যে, পাউন্ড সম্পর্কিত প্রায় সবগুলো কারেন্সিই বেশ ভোলাটাইল, অর্থাৎ হুটহাট মার্কেটে প্রচুর পরিমান প্রাইস পরিবর্তনে সক্ষম। ফরেক্স ট্রেড করতে গেলে পাউন্ড সম্পর্কে প্রতিটি ট্রেডারের কি কি জানা উচিত, তা নিয়ে বিডিপিপসে একটি বিস্তারিত লেখা রয়েছে। আজকে আমরা জানবো কোন ৫ ধরনের নিউজ রিপোর্ট পাউন্ডকে অর্থাৎ পাউন্ড সম্পর্কিত পেয়ারগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।

pound-post.png

পাউন্ডের বিপুল জনপ্রিয়তার জন্য প্রায় প্রতিটি ফরেক্স ট্রেডারই ডলারের পাশাপাশি পাউন্ডের পেয়ারগুলো দিয়ে তাদের ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করে। যেসব ট্রেডার ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করে ট্রেড করে, অর্থাৎ ট্রেডিংয়ের সময় অর্থনৈতিক রিপোর্টসমূহ এবং ডাটা রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখে, তারা কোন নিউজ রিপোর্টগুলো পাউন্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে, তা জানতে পারলে তাদের ট্রেডিংয়ে উপকৃত হবে এবং সেসব বিষয়ে অতিরিক্ত নজর দিতে পারবে। এই লেখায় সেরকমই কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রিপোর্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যা নতুন এবং পুরাতন ২ রকম ট্রেডারদেরই সাহায্য করবে পাউন্ড ট্রেডিংয়ে ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের বিষয়গুলোকে আরও ভালভাবে বুঝতে।

৫টি প্রধান অর্থনৈতিক ইন্ডিকেটর

শুরু  করার আগে এটুকু জানা জরুরী যে, পৃথিবীর প্রায় সবগুলো দেশের কারেন্সিগুলোই মূলত সাধারণ কিছু বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। একই  বিষয়গুলো কম-বেশি তাদের দুর্বল বা শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। বিশেষ  করে ৫টি বিষয়ে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায় এবং এরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে সেই কারেন্সিটিকে।  পাউন্ডও তার ব্যাতিক্রম নয়। আর্থিক নীতিমালা (Monetary Policy), মুদ্রাস্ফিতি (Inflation), কনজিউমার কনফিডেন্স ও সেন্টিমেন্ট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP), ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট এই বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে। এই ৫ ধরণের রিপোর্ট বিবেচনায় রাখলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন রিপোর্টগুলো একক বা সম্মিলিতভাবে যেকোনো কারেন্সিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করতে যাচ্ছে। চলুন জানা যাক এ বিষয়গুলো পাউন্ডকে কিভাবে প্রভাবিত করে।

১. মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)

যে রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবেঃ CPI, PPI

পাউন্ডের মুল্যায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হল মুদ্রাস্ফীতি। সাধারণভাবে, যেসব দেশের মুদ্রাস্ফীতি বেশি, সেসব দেশের মুদ্রার মান অন্য দেশের মুদ্রার তুলনায় দুর্বল হয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বা কমলে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের  জন্য উদ্যোগ নিয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক  অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সুদের হার বা ইন্টারেস্ট রেট পরিবর্তন করে থাকে।

কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) এই রিপোর্টটি কিন্তু ইউকের মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা জানার অন্যতম একটি নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ট্রেডাররাই এই CPI রিপোর্টটির ওপর বেশ নজর রাখেন এবং গুরুত্বের সাথেই নিয়ে থাকেন। ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স এই রিপোর্টটি প্রকাশ করে। কোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোক্তা বা ক্রেতারা (consumer) কি পরিমান দামের পন্য বা সেবা কিনছে, তার পার্থক্য এই CPI রিপোর্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। এ রিপোর্টটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড (BoE) এ রিপোর্টটি বিবেচনা করে মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। তাই CPI তে কোন নতুন পরিবর্তন এলে তা যদি ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার থেকে আলাদা হয়, তবে আশা করা যায় যে তা ভবিষ্যতে BoE এর আর্থিক নীতিমালায় পরিবর্তন আনবে, যা কিনা পাউন্ডকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা নির্ধারণে ভুমিকা রাখে, পাশাপাশি প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI) ও এক্ষেত্রে কিছু ভুমিকা রাখে। PPI কে অনেকেই মুদ্রাস্ফীতির নির্ণায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর হিসেবে বিবেচনা করেন। একদম কাঁচামালের পর্যায় থেকেই মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো এ রিপোর্টে ধরা পরে, যা কিনা পরবর্তীতে CPI কে প্রভাবিত করে। আর যেহুতু PPI রিপোর্টটি CPI এর আগেই প্রকাশিত হয়, তাই মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ধারনা পেতে CPI এবং PPI দুটিকেই বিবেচনায় রাখতে হবে।

২. আর্থিক নীতিমালা (Monetary Policy)

যে রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবেঃ  Bank Interest Rate, BoE Inflation Report

পাউন্ডের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনেটারী পলিসি বা আর্থিক নীতিমালাগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রধান আর্থিক লক্ষ্য হল মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা কমের মধ্যে রাখা এবং পাউন্ডের কনফিডেন্স বজায় রাখা। তাই যখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে পাউন্ডের মুদ্রাস্ফীতি এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যা পাউন্ডের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ঠিক তখনই BoE বিভিন্ন আর্থিক নীতিমালা আরোপ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করে। ট্রেডাররা এসব আর্থিক নীতিমালা বা মনেটারী পলিসি, যেমন - ইন্টারেস্ট রেট কখন বা কি পরিমাণে পরিবর্তন হবে সেসব অনুমান করার চেষ্টা করে।

এই আর্থিক নীতিমালাগুলো সম্পর্কে অবগত থাকতে ট্রেডাররা ব্যাংক রেটের যেকোনো পরিবর্তন অনুসরণ করে। ব্যাংক রেট হল যে ইন্টারেস্ট রেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক BoE অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে চার্জ করে। এই রেট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হয় Monetary Policy Committee (MPC) এর একটি মাসিক মিটিংয়ে। আপনি নিয়মিত ফরেক্স ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেই মাঝে মাঝে MPC Meeting নামে বা এরকম কিছু ইভেন্ট দেখতে পারবেন। প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত এ মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং ব্যাংক রেট ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। তবে যদি MPC আগের রেটই বজায় রাখে, তবে আর এ সংক্রান্ত কোন আলোচনা হয় না। কিন্তু যদি মনেটারি পলিসি কমিটি (MPC) ব্যাংক রেটে কোন পরিবর্তন আনে, তবে তারা এ সংক্রান্ত একটি স্টেটমেন্ট বা বিবরণী প্রকাশ করে। সাধারণত ট্রেডাররা এই স্টেট্মেন্টকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকে, কারণ বেশিরভাগ সময় এ বিবরণী থেকে ভবিষ্যতে পাউন্ড কোনদিকে যেতে পারে সে সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

১ম পর্বে আলচনাকরা হল মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং আর্থিক নীতিমালা (Monetary Policy) নিয়ে। ২য় পর্বে আলোচনা করা হবে বাকি ৩টি প্রধান অর্থনৈতিক ইন্ডিকেটর কনজিউমার কনফিডেন্স ও সেন্টিমেন্ট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP) এবং ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট নিয়ে। ১ম পর্বটি কেমন লাগলো নিচে মন্তব্যে জানাতে জানাতে ভুলবেন না।

Share this post


Link to post
Share on other sites

পাউন্ডের সিরিজটা অসাধারন হয়েছে তানভীর ভাই।  EURO & USD  er জন্যও এরকম সিরিজ চাই।

Share this post


Link to post
Share on other sites

Create an account or sign in to comment

You need to be a member in order to leave a comment

Create an account

Sign up for a new account in our community. It's easy!

Register a new account

লগিন

Already have an account? Sign in here.

Sign In Now
Sign in to follow this  

  • Similar Content

    • By FXBD
      যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি এপ্রিলে কমেছে!

      যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি হঠাৎ করে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তার সর্বনিম্ন লেভেলে কমেছে কারণ কম খরচে মুদ্রিত  ক্যাশ  ব্রিটানের মাধমে  কিছু ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছিল এই তথ্য প্রকাশের পর পাউন্ড ২০১৮ সালে তার সর্বনিম্ন লেভেলে নেমে গেছে।
      জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক বার্ষিক পরিবর্তন ২.৪ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল এটি অপরিবর্তিত থাকবে।
      বিস্তারিত:  https://goo.gl/QHNNAA
      *মার্কেট এর নিউজ ট্রেডিং সম্পর্কে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করবে, কিন্তু আপনাকে ট্রেডিং সম্পর্কিত নির্দেশ প্রদান করবে না।
    • By তানভীর™
      গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছি প্রথম ২ ধরনের নিউজ ও ডাটা রিপোর্ট নিয়ে যেগুলো পাউন্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। পাউন্ডের ওপর মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং আর্থিক নীতিমালা (Monetary Policy) এর প্রভাব জানতে এখানে ক্লিক করে প্রথম পর্বটি পড়ুন। এছাড়াও পড়তে পারেন স্বপ্নিল ভাইয়ের ফরেক্স ট্রেড করতে হলে পাউন্ড সম্পর্কে যা যা আপনার জানতে হবে লেখাটি। এ পর্বে আলোচনা করা হচ্ছে বাকি ৩টি প্রধান অর্থনৈতিক ইন্ডিকেটর কনজিউমার কনফিডেন্স ও সেন্টিমেন্ট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP) এবং ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট (BoP) নিয়ে।

      ৩. কনফিডেন্স এবং সেন্টিমেন্ট (Confidence and Sentiment)
      যে রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবেঃ Gfk Consumer Confidence, Nationwide Consumer Confidence
      মার্কেট সেন্টিমেন্ট দিয়ে বোঝায় কোন একটি কারেন্সি, স্টক, কমোডিটি বা যেকোনো ট্রেড করা যায় এমন বিষয়ের ওপর ট্রেডার এবং জনসাধারণের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি কি রকম। একটি মার্কেটে বিভিন্ন ঘটনা যেমন প্রাইস মুভমেন্ট বা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সে মার্কেটের প্রতি ট্রেডারদের সেন্টিমেন্ট বোঝা যায়। যেমন প্রাইস বাড়লে বোঝা যায় ঐ ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টের প্রতি ট্রেডারদের বুল্লিশ সেন্টিমেন্ট কাজ করছে। আবার প্রাইস কমা নির্দেশ করে বিয়ারিশ সেন্টিমেন্টের কথা।
      এমন অনেক জরিপ বা সার্ভে আছে, যেগুলো মার্কেট সেন্টিমেন্ট পর্যালোচনা করে। আর সে কারণেই ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করে এমন ট্রেডারদের কাছে মার্কেট সেন্টিমেন্টের রিপোর্টগুলো বেশ গুরুত্ব পায়, কারণ ট্রেডাররা স্বভাবতই জানতে চায় মার্কেটের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠদের মনোভাব কি, কারণ বেশিরভাগ সময় তারাই মার্কেটের দিক পরিবর্তন করতে প্রভাব ফেলে। ইউকের কনফিডেন্স এবং সেন্টিমেন্টের নিউজগুলো এ কারণেই ট্রেডারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেগুলো নির্দেশ করে যে বেশিরভাগ মানুষ কি অর্থনীতির ব্যাপারে আশাবাদী নাকি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে। তাই এই বিষয়গুলোর পরিবর্তন এবং কি পরিমান এই ইন্ডিকেটরগুলো পরিবর্তন হচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিকভাবে পরিবর্তন, তথাপি পাউন্ডের শক্তিমত্তা নির্দেশ করতে ভুমিকা রাখে।
      ইউকের সেন্টিমেন্ট বোঝার জন্য মূলত ট্রেডাররা Gfk Consumer Confidence এবং Nationwide Consumer Confidence Index (NCCI) নিউজ দুটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ২টি রিপোর্টই মূলত ৫টি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এই প্রশ্নগুলো সাধারন অর্থনৈতিক অবস্থা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের প্রতি জনসাধারনের প্রত্যাশা এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়। GfK এবং NCCI এই ২টি রিপোর্টের মূল পার্থক্য হল কি পরিমান সময়কাল বিবেচনা করে প্রশ্নের উত্তর বিবেচনা করা হয়। NCCI জরিপে, উত্তর প্রদানকারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার মনোভাব এবং পরবর্তী ৬ মাস সম্পর্কে তার প্রত্যাশা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু GfK জরিপে, গত ১২ মাস সম্পর্কে উত্তর প্রদানকারীর মনোভাব এবং আগামী ১২ মাস সম্পর্কে তার প্রত্যাশা জানতে চাওয়া হয়। ২টি রিপোর্টের সাহায্যেই ইউকের অর্থনীতি সম্পর্কে জনসাধারণের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারা যায়।
      ৪. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP)
      যে রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবেঃ Manufacturing PMI, Services PMI, Retail Sales, GDP
      পুরো ইউকে জুড়ে যে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হয়, তা পাউন্ডের কারেন্সি ভ্যালু পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য দেশের মতই ইউকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায় Gross Domestic Product (GDP) বা জিডিপি রিপোর্ট থেকে। ৩ ধরনের জিডিপি রিপোর্ট সম্পর্কে ট্রেডারদের অবগত থাকা উচিত। এগুলো হলঃ Preliminary GDP, Revised GDP এবং Final GDP রিপোর্ট। সবার প্রথমে প্রকাশিত হয় Preliminary GDP রিপোর্টটি, আর তাই মার্কেটে এর প্রভাবও সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হল Preliminary GDP রিপোর্টের মাধ্যমেই ট্রেডাররা দেশের চলতি অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পায়। তবে প্রিলিমিনারী জিডিপি রিপোর্টে যে ডাটা থাকে, তাতে বেশ কিছু ভুল থাকে, যেগুলো রিভাইজড এবং ফাইনাল জিডিপি রিপোর্টে সংশোধন করা হয়। এ রিপোর্টটি Prelim GDP নামেও পরিচিত।
      যেহুতু প্রতি কোয়ার্টার বা ৩ মাসে জিডিপি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, অনেক ট্রেডাররাই অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালভাবে বোঝার জন্য জিডিপি রিপোর্টের পাশাপাশি আরও কিছু রিপোর্ট বিবেচনা করে। Retail Sales, Manufacturing PMI, Services PMI এ রিপোর্টগুলো প্রতি মাসে বের হয় যা ট্রেডারদেরকে ইউকের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারনা প্রদান করে। যেহুতু, ভোক্তাদের যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই রিটেইল সেলস রিপোর্টটি বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়।
      ৫. ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস (Balance of Payments )
      যে রিপোর্টগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবেঃ Trade Balance, Current Account
      ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট (BoP) রিপোর্টগুলো হল একটি দেশের সাথে সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অ্যাকাউন্টিং রেকর্ড। BoP মূলত ৩টি অ্যাকাউন্টের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। কিন্তু ফরেক্স ট্রেডারদের মূল বিবেচনায় থাকে Current Account রিপোর্টটি। এ রিপোর্টটির মাধ্যমে জানা যায় একটি দেশ কি পরিমাণ ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্ট করছে, কি পরিমাণ অর্থ দেশে আসছে এবং দেশের বাইরে যাচ্ছে। সাধারনভাবে, Current Account রিপোর্টে যদি Surplus হয়, অর্থাৎ দেশে বেশি অর্থ আসে এবং এক্সপোর্ট বেশি হয়, তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর বিপরীত হলে তা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। পাউন্ডের প্রতি এ রিপোর্টটির ভালো প্রভাব রয়েছে।
      ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টের ডাটাগুলো কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রিপোর্টেও থাকে। ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্ট প্রতি মাসে প্রকাশিত হয়, আর কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট ত্রৈ-মাসিকভাবে প্রকাশিত হয়। তাই ট্রেডাররা যদি অ্যানালাইসিসের জন্য শুধু এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ডাটা বিবেচনা করতে চায়, তবে ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্ট বিবেচনা করলেই হবে।
      শেষ কথা
      পাউন্ডকে প্রভাবিত করে এমন অসংখ্য অর্থনৈতিক ইন্ডিকেটর রয়েছে। কোনগুলো বেশি প্রভাব ফেলে, বর্তমান মার্কেট পরিস্থিতিতে কোন রিপোর্টগুলো বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এবং কোনগুলো ব্যবহার করা উচিত, সেটি নির্বাচন করা হল সঠিকভাবে ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করার জন্য প্রথম ধাপ। এ রিপোর্টগুলোকে ভালভাবে বোঝা এবং একাধিক রিপোর্টকে সমন্বিত করে মার্কেটের পরবর্তী গতিবিধি বুঝে ট্রেডের সিদ্ধান্ত নেয়া হল প্রকৃত কঠিন কাজ। কোন ট্রেডার যদি ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস অনুসরণ করে পাউন্ডের পেয়ারগুলো ট্রেড করতে চান, তবে এ ৫ ধরনের নিউজ রিপোর্টগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ট্রেড করা হবে প্রত্যেক ট্রেডারের জন্য প্রথম কাজ।
      পাউন্ডকে প্রভাবিত করে এমন ৫ ধরনের নিউজ রিপোর্টের ১ম পর্বটি না পড়ে থাকলে পড়ে নিতে পারেন এখান থেকে। আর ২ পর্বের পুরো সিরিজটি কেমন লাগলো শেয়ার করতে ভুলবেন না।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×