Jump to content

Recommended Posts

একসময় জার্মানি, ফ্রান্সে, ইতালিরও নিজস্ব মুদ্রা ছিল। ফরেক্স ট্রেডারদের ট্রেড করার মত অনেক কারেন্সি পেয়ারও ছিল। তারপর ইউরো এল। দেশগুলোর নিজস্ব কারেন্সিগুলো বাতিল হল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চাইলেই ইচ্ছেমত কারেন্সি ছাপাবার ক্ষমতা হারাল। ইউরোপের বনেদি দেশগুলোর বনেদি কারেন্সি ইউরো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনপ্রিয় কারেন্সিতে পরিনত হল। EUR/USD হয়ে উঠল ফরেক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার। আপনি সবসময় EUR/USD ট্রেড করেন। কিন্তু, ইউরো সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? জানেনকি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত হওয়ার পরেও কেন ডেনমার্ক, পোল্যান্ড ইউরো ব্যবহার করে না? জানেনকি ইউরোর দরপতনের উত্থান পতনের পেছনে প্রধান কারনগুলো কি কি?

bdpips_1516354088__euro.png

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭ টি দেশের মধ্যে (ব্রেক্সিটের কারনে UK কে বাদ দিয়ে ধরে) ১৯ টি দেশের প্রধান কারেন্সি হচ্ছে ইউরো। এই ১৯ টি দেশের তালিকা একটু পরে দিচ্ছি, তবে কয়েকটি বাদে গুরুত্বপূর্ন সবগুলো দেশই ইউরো ব্যবহার করে। যেমন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড, স্পেন ইত্যাদি। এই সবগুলো দেশেরই আগে নিজস্ব কারেন্সি ছিল। তবে, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারী ইউরো প্রচলনের পরে ইউভুক্ত এই দেশগুলো ইউরো ব্যবহার করা শুরু করে। ইউভুক্ত যে দেশগুলো ইউরো ব্যবহার করে, তাদেরকে একত্রে ইউরোজোন বলে ডাকা হয়।
 
যে ১৯ টি দেশ ইউরো ব্যবহার করে:
অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুইনিয়া, লুক্সেম্বার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন


যে ৮ টি দেশ ইউরো ব্যবহার করে নাঃ
বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, হাঙ্গেরি, পোলান্ড, রোমেনিয়া ও সুইডেন
 
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই ৮ টি দেশ কেন ইউরো ব্যবহার করে না? UK কে ধরলে যা আগে ৯ ছিল। ১৯৯২ সালের Maastricht Treaty অনুযায়ী সকল ইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ইউরো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু, সে সময়েই ডেনমার্ক ও ইউকে বিশেষ অব্যাহতি লাভ করে। আর বাকি ৭ টি দেশই এর পরে ইউতে যোগ দেয়। সাধারণত ইউতে যোগ দেয়ার পর প্রথম ২ বছর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষন করে ইউরো ব্যবহার চালু করার কথা। কিন্তু, ইউ এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোকে ইউরো ব্যবহারে বাধ্য করার জন্য তেমন একটা চাপ দেয়নি।
 
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইউ গঠনের সময় বড় দেশগুলোর, বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের একটা গোপন উদ্দেশ্য ছিল। এই দুটো দেশ, বিশেষ করে জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ছিল। অর্থনীতি খুব শক্তিশালী হওয়ায় স্বভাবতই জার্মানির কারেন্সি ডয়েচে মার্ক ছিল অনেক শক্তিশালী, যেটা রপ্তানীকারক যেকোন দেশের জন্য সমস্যা। কেননা, তাতে পণ্যের মূল্য বেড়ে যায় কারেন্সির উচ্চ মূল্যের কারনে। আবার, একার পক্ষে জার্মানি বা ফ্রান্স কারো পক্ষেই সম্ভব না ডলার বা পাউন্ডের মত জনপ্রিয় করা নিজেদের কারেন্সিকে, যেটা বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করার জন্য খুবই জরুরি। তাই, তাদের মাথায় এল যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবগুলো দেশের জন্য যদি একটি কারেন্সি চালু করা যায়, তাহলে এক ঢিলে কয়েকটি পাখি মারা যাবে। প্রথমত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অনেক তুলনামুলক দুর্বল দেশও থাকবে। যেহেতু, সবগুলো দেশের একটাই কারেন্সি থাকবে, তারমানে হচ্ছে সবগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর ইউরোর মূল্যমান নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে, জার্মানির অর্থনীতি খুব শক্তিশালী পর্যায়ে চলে গেলেও, ইউরো ততটা শক্তিশালী হবে না। ফলে, রপ্তানীতে জার্মানি একটা অদ্ভুত সুবিধা লাভ করবে, শক্তিশালী কারেন্সি কিন্তু দুর্বল অর্থনীতি। আবার, ইউরো জার্মানির কারেন্সি থেকে দুর্বল হলেও ইউভুক্ত দুর্বল বা মধ্যম সারির দেশগুলোর কারেন্সি থেকে শক্তিশালী হবে। একই কারেন্সিতে পুরো ইউরোপজুরে ব্যবসা হলে, স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল বা মধ্যম সারির দেশগুলো জার্মান বা ফ্রান্সের কোম্পানিগুলোর সাথে প্রোডাক্টের গুনগতমানে পেরে উঠবে না, আবার চাইলেও নিজেদের কারেন্সিকে দুর্বল করে পন্যের মূল্য কমাতে পারবে না। ফলে, আস্তে আস্তে জার্মানি বা ফ্রান্স ইউ এর সামগ্রিক অর্থনীতি দখল করে নেবে।
 
আরও সুবিধা আছে,, জার্মানি নিজে একা চাইলে অন্য কোন দেশ তার সাথে ডয়েচে মার্কে ট্রেড করবে না, কিন্তু, যদি ইউভুক্ত এতগুলো দেশ যদি বলে যে, আমার সাথে ব্যবসা বানিজ্য করতে হলে ইউরোতেই করতে হবে, ডলারে বা পাউন্ডে না, তখন তা করতে অন্য দেশগুলো বাধ্য। শুধু বুদ্ধি করে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। তাহলেই, নিজেদের সুবিধামত ব্যবসা বানিজ্য করা যাবে।
 
তাছাড়া, ইউ এর ছোট বড় সবগুলো দেশেরই একটা অভিন্ন সুবিধা ছিল যে, এর ফলে আর দেশগুলোর বার বার কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করার ঝামেলা পোহাতে হবে না। ইউরোপের মধ্যে আগে থেকেই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি ব্যবসা বানিজ্য করত। এক কারেন্সি ব্যবহার করলে ইউরোপের ভেতরে ব্যবসা বানিজ্য আরো দ্রুত, সহজতর ও নিরাপদ হবে। কেননা, ইউরোর দাম যতই বাড়ুক কমুক না কেন, ইউরোপের ভেতর তো তার প্রভাব তেমন পড়বে না। ইউরোপের ভেতরের কোন কোম্পানি তার পণ্যের উৎপাদনের জন্য কাচামাল ইউরোপের ভেতর থেকেই বেশি কিনবে। কেননা, বাইরে থেকে কিনলে কারেন্সি এক্সচেঞ্জের ব্যয় ও ঝামেলা যেমন আছে, তেমনি কারেন্সিগুলোর ক্রমাগত উত্থান পতনের জন্যে কাচামালের দামও ক্রমাগত উঠানামা করবে। যেটা ইউরোজোনের মধ্যে মোটামুটি সবসময় স্থিতিশীল থাকবে।
 
বলা বাহুল্য, এই পরিকল্পনা পুরোপুরি কাজে দেয়। আর এজন্যেই জার্মানি, চীনের এই বিশাল উত্থানের পরেও আজও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানীকারক দেশ এবং খুবই শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতির অধিকারী।  ফ্রান্স তার পরিকল্পনামত সাফল্য না পেলেও, ইউরোর সুবিধামত ঠিকই ভোগ করছে ইউরোর দুর্বল মূল্যমানের কারনে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইতালি, গ্রীস। বিশেষ করে, গ্রীসের জনগণ ইউরোর উপর ত্যক্ত বিরক্ত ও নিজেদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে। অন্য সব কারেন্সির তুলনায় ইউরোর উত্থান পতনের পেছনে তাই শুধুমাত্র একটি দেশ নয়, ইউরোজোনের সবগুলো দেশেরই ভুমিকা আছে। আর তাই, ইউরো ট্রেড করতে হলে আপনাকে শুধু জার্মানি বা ফ্রান্স নয়, সবগুলো দেশের অর্থনীতির হালচালের উপরই কমবেশি খেয়াল রাখতে হবে। ইউরোজোনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসিবির উপর নজর রাখতে হবে।
 
তবে, অসুবিধা যেমন আছে, সুবিধাও আছে। অনেক ফরেক্স ট্রেডার ইউরো শুধু সেল করেন যখন ইউরো শক্তিশালী হয়, কখনো বাই করেন না। কেননা, ইউরো তখনই শক্তিশালী হয়, যখন ইউরোজোনের সামগ্রিক অর্থনীতি ভালো থাকে। আর দুর্বল হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি সদস্যরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিপর্যস্ততাই যথেষ্ট। তাই, অভিজ্ঞ ফরেক্স ট্রেডার মাত্রই বুঝেন যে, ইউরো খুব শক্তিশালী হওয়া মানেই হচ্ছে ইউরো সেল করার আর প্রফিট করার সময় চলে এসেছে। আর এটাই ফরেক্স ট্রেডারদের মাঝে ইউরোর এত জনপ্রিয়তার প্রধান রহস্য, এর স্থিতিশীলতা। ইউরো গঠনের ইতিহাস থেকেই বুঝতে পারছেন যে, এর পেছনের প্রধান উদ্যোক্তা জার্মানি বা ফ্রান্স কখনোই চাবেনা ইউরো খুব শক্তিশালী হোক। আর এটাও চাবেনা যে খুব বেশি দুর্বলও হয়ে পড়ুক। তাই, পাউন্ড বা ইয়েনের মত অস্বাভাবিক উত্থান পতন ইউরোর কমই হয়।
 
এতগুলো দেশের অর্থনীতির খবর রাখার ঝামেলা, নাকি ইউরোর এই অদ্ভুত স্থিতিশীলতা, কোনটি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন? আপনার সুবিধা অনুসারে এখন আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারবেন, আপনি ইউরো ট্রেড করবেন কি না! কোন কোন ঘটনা বা ইভেন্টের কারনে ইউরো বা এর সবচেয়ে জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার EUR/USD সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়, তা নিয়ে আলোচনা করব আরেকদিন।
 
আপনি নিয়মিত ইউরো ট্রেড করে থাকলে আরো পড়ুনঃ
ECB – ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক কি? ফরেক্স মার্কেটে ইসিবির প্রভাবই বা কি?

  • Love 5
  • Thanks 1

Share this post


Link to post
Share on other sites

লেখাটা খুবই ভাল লাগলো স্বপ্নিল ভাই। এতদিন ধরে ট্রেড করি, ডলার, ইউরো, পাউন্ডের জীবনবৃত্তান্ত জানতাম না।

বিশেষ করে ঐ দেশগুলো কেন ইউরো ব্যবহার করে না তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এমন লেখা নিয়মিত চাই।

Share this post


Link to post
Share on other sites

Create an account or sign in to comment

You need to be a member in order to leave a comment

Create an account

Sign up for a new account in our community. It's easy!

Register a new account

লগিন

Already have an account? Sign in here.

Sign In Now
Sign in to follow this  

  • Similar Content

    • By ahmed oniruddha
      Weekly chart এনালাইসিস করে দেখা যায়, প্রাইস 1.17413 লেভেল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে 1.2540 লেভেলে পৌঁছায়, যা কিনা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একাধারে সাতটি ক্যান্ডেল বুলিশ অবস্থায় থাকার পর হঠাৎ করেই একটি বড় আকারের বিয়ারিস ক্যান্ডেল উপস্থিত হয়, যা কিনা মার্কেটকে একেবারে নামিয়ে দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। 

      চার ঘন্টার চার্ট এনালাইসিস করে দেখা যায়, মার্কেট গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত 1.2200 থেকে 1.2298 এই লেভেলের একটি রেন্জের মধ্যে আছে। অর্থাৎ 1.2200 কে আমরা একটি শক্তিশালি সাপোর্ট হিসেবে ধরতে পারি। আর মুরব্বিরা ধারণা করছেন (মুরব্বিদের কথা বেশিরভাগ সময়ই ফলে যায়), মার্কেট আবার 1.2540 প্রাইস লেভেল টেস্ট করতে পারে। এই 1.2540 প্রাইস লেভেলটি একটি শক্তিশালি রেসিসটেন্ট হিসেবে গত কয়েক বছর ধরেই বিবেচ্য, কারন এটি বিগত বছরগুলোতে খুব কম সময়ই rejected হয়েছে। তার মানে মার্কেট ঘুরে দাড়াতে পারাতে আবার।
       

      আমার ব্যক্তিগত পছন্দের ইচিমুকো ইন্ডিকেটরের ডেইলি চার্টেও স্পষ্টভাবে আপট্রে্ন্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 
       
      এদিকে ফরেক্স জগতের অন্যতম মুরব্বি Fxstreet.com সাহেব তাদের অতি সাম্প্রতিক সময়ের টেকনিকেল এনালাইসিসে বলেছেন, “যদি বড় ধরনের কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে তাহলে EUR/USD পেয়ারে আরেকটি অপট্রেন্ড আসার সম্ভাবনা খুব প্রবল”।
      আবার আরেক ‍মুরব্বি XM.COM সাহেবও ইনিয়ে বিনিয়ে এই কথাটিই বুঝাতে চেয়েছেন।
      তবে, মুরব্বিদের কেউই আপনাদের কষ্টার্জিত টাকার লসের দায়িত্ব নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
    • By forexnews
      EUR/USD পেয়ারটি এখন ১.২২ এর ঘরে ট্রেডিং হচ্ছে। বেশিরভাগ ট্রেডারেরই আশা ছিল পেয়ারটি ১.২৫ প্রাইস লেভেল অতিক্রম করায় ১.২৭ এর পথে অগ্রসর হবে। কিন্তু অনেক ট্রেডারদেরকে হতাশ করেই পেয়ারটি ১.২২ তে নেমে এসেছে।

      ১.২২৫০ প্রাইসকে কেন্দ্র করেই আজ EUR/USD ওঠানামা করছে। আজ ১.২২৮৬ তে উঠলেও তা আবার পরে ১.২২২৬ প্রাইসে নেমে আসে। বর্তমানে পেয়ারটি ১.২২৩৮ প্রাইসে অবস্থান করছে। গতকাল থেকেই ইউরো সাইডওয়ে ট্রেন্ডে রয়েছে। এ পর্যায় থেকে ইউরোডলারের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হতে পারে তাই ভাবছেন ট্রেডাররা।
      টেকনিক্যাল লেভেলঃ
      নিচের দিকে, ১.২২২৫ প্রাইসটি EUR/USD পেয়ারের জন্য নিকটবর্তী সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে (ফেব্রুয়ারী ৯ – সর্বনিম্ন) এবং ১.২২১০ (জানুয়ারি ২২ ও ফেব্রুয়ারী ৮ – সর্বনিম্ন) ও ১.২১৬০-৬৫ (জানুয়ারি ১৭ – সর্বনিম্ন)  প্রাইস লেভেলগুলোও পরবর্তী সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। ওপরের দিকে, ১.২২৬০ (20H মুভিং এভারেজ), ১.২২৯৫ (বর্তমান রেঞ্জ লিমিট) এবং ১.২৩৩০ (জানুয়ারি ২৯ ও ৩০ – সর্বনিম্ন) প্রাইস লেভেলগুলো রেজিসট্যান্স হিসেবে কাজ করতে পারে।
      দ্রাঘিঃ ইউরোর এক্সচেঞ্জ রেটকে তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষন করা হবে
      ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যাংক অনেক বেশী আত্নবিশ্বাসী যে অর্থনৈতীক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। কিন্তু ইউরো নিয়ে সৃষ্ট সংশয় এই প্রবৃদ্ধির পথে সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।“ স্ট্রাসবার্গে এক বক্তব্যে দ্রাঘি বলেন, “যদিও আমাদের আত্নবিশ্বাসের জায়গাটা হচ্ছে, আমাদের লক্ষ অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদেরকে সফল বলতে পারিনা।“ তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এক্সচেঞ্জ রেটের ভোলাটিলিটির ফলে নতুন হেডউইন্ডস এর উদয় হয়েছে, যা কিনা মধ্য মেয়াদি মূল্যের স্থীতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় যার কারণে এর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন দরকার।“
       
    • By forexnews
      গত সপ্তাহ ইউরোডলারের জন্য ছিল বেশ দোদুল্যমান। দ্রাঘি, মিউচিন এবং ট্রাম্প সবাই মার্কেট কাঁপিয়েছে। কিছুদিন আগে আমরা ২টি বিখ্যাত রিসার্চ ফার্মের অ্যানালাইসিস প্রকাশ করেছিলাম যে ইউরোডলারের পরবর্তী গন্তব্য কোনদিকে হতে পারে। সেখানে ING রিসার্চ অ্যানালিস্টরা বলেছিলেন যে ইউরো-ডলারের ১.২৫ প্রাইসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর তা সত্যি প্রমানিত হল ২৫ জানুয়ারি। ইউরোডলার ১.২৫ এর ঘর ছাড়িয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। ২০১৪ সালের পর আবার পেয়ারটি ১.২৫ এর ঘরে পা রাখলো। দ্রাঘির বক্তব্যের উল্টো প্রভাবে ইউরোর প্রাইস বাড়লেও ডলারের কারণে তা আবার ১.২৫ এর নিচে চলে এসেছে। সোমবার পেয়ারটি কমে ১.২৩ এর ঘরে গেলেও আবার এখন ১.২৪ প্রাইসে ট্রেড হচ্ছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় প্রাইস কিছুটা কমেছিল, তবে ইউরোর সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে ১.২৭ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।

      TD রিসার্চ অ্যানালিস্টদের মতে ইউরো খুব শীঘ্রই ১.২৭ প্রাইসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বৃহস্পতিবারের ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের মিটিংয়ের পর ইউরো বছরের নতুন রেকর্ড প্রাইসে উঠেছে। তাদের মতে ইউরোর প্রাইস বৃদ্ধি আটকে রাখা আর সহজ হবে না। ইসিবিও বর্তমান অবস্থায় ইউরোর সম্পর্কে ডোভিশ (নেগেটিভ) মনোভাব দেখার সুযোগ আর পাবে না। TD রিসার্চ দলের মতে ইউরো ডলারের বিপরীতে খুব সহজেই ১.২৭ প্রাইসে চলে যাবে, এবং এ পথে তারা তেমন বাঁধা দেখতে পাচ্ছেন না।
      জনপ্রিয় BTMU রিসার্চ দলও ইউরোডলার সম্পর্কে একই মনোভাব ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে মার্কেট বুল্লিশ মনোভাবে রয়েছে। আর এই বুল্লিশ মনোভাবই ইউরোকে ডলারের বিপরীতে ১.২৭ এ নিয়ে যাবে সহজেই। আর কোন কারণে নিচে নামলেও ১.২২ এর নিচে নামার কোন সম্ভাবনা আপাতত তারা দেখছেন না। ডলার কিছুটা শক্তিশালী হলেও তা সামনে খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবেন না বলে তারা মনে করেন। BTMU রিসার্চ দল আরও বলেন, ইউরোডলার ১.২৫ এ রেসিস্ট্যান্স মোকাবেলা করতে পারে। তবে তা কাটিয়ে যেতে পারলেই ১.২৭ এর পথ সুগম।
      ১.২৭ ছাড়িয়ে গেলে ইউরোডলারের ১.২৯ প্রাইসে যাওয়ার পরবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় সকল মার্কেট বিশ্লেষণকারীরাই আপাতত ইউরো সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবছেন। স্বল্পমেয়াদী প্রাইস কমলেও দীর্ঘমেয়াদীভাবে ইউরো ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হবে তাই তাদের প্রত্যাশা। তবে কি EUR/USD পারবে ১.২৭ ছাড়াতে? সময় এবং মার্কেটই বলে দিবে সে কথা। EUR/USD এর পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে আপনি কি ভাবছেন?
       
    • By forexreturn
       
      যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×