Jump to content
Sign in to follow this  
rafi2014

আবারো মার্কিন অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে বিশ্বের

Recommended Posts

কয়েকটি ভাঙাচোরা ইঞ্জিনের চেয়ে একটি ভালো ইঞ্জিনে ওড়া অনেক নিরাপদ। বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। এখন মার্কিন ইঞ্জিনটি আবারো ঘুরতে শুরু করেছে, যা বিশ্বজুড়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো গত তিন মাসে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানির মূল্য কমে যাওয়ায় খরচের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা; জানুয়ারিতে ভোক্তা আস্থা বেড়ে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ধারণা, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছবে, যা সার্বিক হিসাবে বিশ্ব অর্থনীতির গতির তুলনায় বেশি। সব দিক দিয়ে পরিস্থিতি বেশ ভালো। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু মার্কিন অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা অপ্রত্যাশিত কিছু ফলাফলও বয়ে আনে।

এক দশক আগে মার্কিন ভোক্তারা বেশ বেপরোয়াভাবে বিপুল ঋণ নিয়েছিল। চীনের তৈরি পণ্যদ্রব্যে ভর্তি ছিল তাদের বাড়িঘর। রফতানিকারকরাও তাদের অর্জিত বিপুল অর্থ দেশেই জমা করছিল। ফলে সুদের হার কমে যায়, যা আরো ঋণ গ্রহণে উত্সাহপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে। ইউরোপও পিছিয়ে ছিল না, সুযোগ বুঝে হাড়কিপটে বলে পরিচিত জার্মানরাও গোটা অঞ্চলে ঋণের প্রবাহ বাড়িয়ে দিতে শুরু করে।

মন্দার পরে অবশ্য এ ভারসাম্যহীনতা কিছুটা হলেও বদলে যেতে শুরু করে। ঋণের প্রতি আসক্ত বলে পরিচিত মার্কিন ও স্প্যানিশ ভোক্তারা অবশেষে বাধ্য হয়ে ঋণের ভার কমাতে উদ্যোগী হন। মনে হচ্ছিল তাদের নতুন স্বভাব বোধহয় এবার স্থায়ী হতে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬ শতাংশ, তা ২০০৯ সালে অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়।

কিন্তু বাদবাকি বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের মতো এখনো ততটা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অত্যন্ত শ্লথ হয়ে পড়েছে ইউরো জোনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এবং সে প্রবৃদ্ধির জন্যও অঞ্চলটি নির্ভর হয়ে পড়েছে রফতানির ওপর। এ একক মুদ্রা ব্লকটির দেশগুলোর চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত এখন তাদের জিডিপির ২ দশমিক ৬ শতাংশে চলে এসেছে। জার্মানির বাণিজ্য উদ্বৃত্তও পৌঁছেছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে, যা এখনো দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

ওদিকে চীনেরও প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। গত জানুয়ারিতে দেশটি নতুন বাণিজ্য উদ্বৃত্তের রেকর্ড গড়েছে। এমনিতেই কয়েক বছর ধরে দেশটির রফতানি কমে আসছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রফতানির চাইতেও বেশি কমছে আমদানির পরিমাণ। ২০১০-১৩ সময়ে ডলারের বিপরীতে ১০ শতাংশ বেড়েছিল ইউয়ানের মান, গত বছর থেকে তা আবার নামতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরতা সামনের দিনগুলোয় আরো বাড়তে পারে। জার্মানরা এখন তাদের সঞ্চয়গুলো দেশে বিনিয়োগ করার চাইতে বিদেশে পাঠাতেই বেশি আগ্রহী। ইউরোপজুড়ে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিপুল ঋণের ভারে জর্জরিত, শ্রমিকদের মজুরি দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং আরো ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাতেও কোনো অর্থ নেই। জার্মানির মতো গোটা অঞ্চলটাই এখন প্রবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছে।

এ মুহূর্তে দুই ধরনের বিপদ সামনে ওত পেতে আছে। স্বল্পমেয়াদে দুর্বল রফতানি, ডলারের ঊর্ধ্বগতি ও তেলের মূল্যপতনে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পতন মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্যদের টেনে তোলার বদলে এ তিনটি কারণেই উল্টো নেমে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এসব মিলিয়ে এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা এখনো পূরণ না হওয়ায় ফেডের উচিত সুদের হার বৃদ্ধিতে তাড়াহুড়ো না করা।

ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতার কারণে ২০০০ পরবর্তী দশকের আর্থিক চক্রের আগমনই দীর্ঘমেয়াদে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। সে সময়ে অন্যান্য দেশের রফতানিকারকদের কল্যাণে মার্কিন ভোক্তারা আরো ঋণ গ্রহণে উত্সাহিত হয়েছিল। মন্দা-পূর্ব সময়ে মার্কিন ভোক্তাদের আয়ের বিপরীতে ঋণের অনুপাতের হার ছিল ১২০ শতাংশ, বর্তমানে তা ১০০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ঋণে আসক্ত মার্কিনরা সেই পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার জন্য বেশ আকুল।

কিন্তু বিশ্বের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব শুধু আমেরিকার একার নয়। বিশ্ব নেতাদের উচিত হবে না কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প হিসেবে তাদের মুদ্রার ক্রমাগত পতনকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া। নিশ্চিতভাবে একটি শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তাই বলে যুক্তরাষ্ট্রই সর্বেসর্বা নয়।

ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

 

  • Love 3

Share this post


Link to post
Share on other sites

ধন্যবাদ এইরকম তথ্য বহুল আর্টিকেলের জন্য। :idea::star::((

 

যেখানেই আমি কোন বাংলা ফিনানসিয়াল রিপোর্ট পাই আমি তা বিডি পিপস এর জন্য কালেকশান করে পোস্ট করে দিই। ফরেক্স এর সাখে জড়িত সকলেরেই নউজ সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা থাকা দরকার। কমেন্ট এর জন্য ধন্যবাদ।

  • Love 1

Share this post


Link to post
Share on other sites
Guest
You are commenting as a guest. If you have an account, please sign in.
Reply to this topic...

×   Pasted as rich text.   Paste as plain text instead

  Only 75 emoticons maximum are allowed.

×   Your link has been automatically embedded.   Display as a link instead

×   Your previous content has been restored.   Clear editor

×   You cannot paste images directly. Upload or insert images from URL.

Loading...
Sign in to follow this  

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×