Jump to content

Search the Community

Showing results for tags 'ফরেক্স নিউজ'.



More search options

  • Search By Tags

    Type tags separated by commas.
  • Search By Author

Content Type


Categories

  • ইন্ডিকেটর
  • এক্সপার্ট এডভাইসর
    • বিডিপিপস EA ল্যাব
  • স্ক্রিপ্ট
  • ট্রেডিং স্ট্রাটেজী
  • ট্রেডিং প্লাটফর্ম
  • ফরেক্স ই-বুক
    • বাংলা ই-বুক
  • চার্ট টেমপ্লেট

Forex Bangladesh - বিডিপিপস

  • ট্রেডিং এডুকেশন
    • সাধারণ ট্রেডিং আলোচনা
    • ফরেক্স স্টাডি
    • প্রশ্ন এবং উত্তর
  • ফরেক্স ট্রেডিং আলোচনা
    • ফরেক্স নিউজ
    • ট্রেডিং আইডিয়া
    • ট্রেডিং স্ট্রাটেজি
  • ট্রেডিং সফটওয়্যার
    • ফরেক্স ইন্ডিকেটর
    • এক্সপার্ট এডভাইসর
    • মেটাট্রেডার এবং MQL
  • ফরেক্স ব্রোকার
    • ফরেক্স ব্রোকার
  • বিডিপিপস ফোরাম সাপোর্ট
    • ফোরাম সাপোর্ট
  • অফ-টপিক
    • অপ্রাসঙ্গিক
    • ফরেক্স হিউমার
  • লাইভ ট্রেডিং রুম

Categories

There are no results to display.


Found 9 results

  1. আসুন আজ আমরা জেনে এই এমন একজন কিংবদন্তী ফরেক্স ট্রেডারের সম্পর্কে, যাকে বলা হয়, “ দ্য ম্যান, যিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে ভেঙ্গে দিয়েছেন!” শান্তির এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে।চারিদিকে হামলা আর হামলা। ভেঙ্গে পড়েছে ইতালী ও জাপানের শাসন ব্যবস্থা। এদিকে হিটলার তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে শুরু করেছেন ইহুদী হত্যা। হাঙ্গেরি নামের একতি রাজ্য ছিল সেই সময় জার্মানির দখলে। আজ যা স্বাধীন হাঙ্গেরি দেশ নামে পরিচিত। সেসময়ের এই হাঙ্গেরী রাজ্য থেকে হিটলারের হামলার খবর পেয়ে প্রান বাচাতে নিজের দেশ ত্যাগ করলেন ছোট্ট এক বালক তার বাবাকে সাথে নিয়ে।তাদের ভয়, তারা ইহুদী। হিটলারের নাৎসি বাহিনী যদি তাদের খবর পেয়ে যায়, তবে তাদেরকেও মেরে ফেলবে! দীর্ঘদিন পালিয়ে বেরিয়ে, একবেলা খেয়ে না খেয়ে অবশেষে ইমিগ্রেশন নেন ইংল্যান্ডে। এদিকে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। হিটলারের শাসনেরও পতন হয়। এই বালক ও তার পরিবার আর নিজের দেশে ফিরে যান না। থেকে যান ইংল্যান্ডেই। শুরু করেন পড়াশোনা। গ্রাজুয়েশন ও পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেন ইংল্যান্ড থেকেই ফিলসফি বিষয়ের উপরে। এরপর নেমে পড়েন কারেন্সী লেনদেনের ব্যবসায়। নানান চড়াই উতরাই পার হয়ে আসা এই মানুষটি আলোচনায় আসেন ১৯৯২ সালে। ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ সালে UK Currency Crisis নিউজের উপর ফান্ডামেন্টালি এনালাইসিস করে তিনি GBP কারেন্সীর উপরের সেল ট্রেড নিয়েছিলেন এবং এই ট্রেডে তিনি ১ বিলিয়নেরও বেশি প্রফিট করে ফেলেন। যে দিনটিকে ফরেক্স এর ইতিহাসে Black Wednesday বলা হয়। আর এই মানুষটি হয়ে যান ফরেক্স এর ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। মুলত তার এই ট্রেড ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল খোদ The Bank of England এর ফান্ডে। অর্থাৎ এখানে লিকুইডিটি প্রোভাইডার হিসেবে ছিলেন এই ব্যাংকে। সুতরাং প্রফিতের পুর অর্থ এই ব্যাংককে দিতে হয়েছিল। এই ব্যক্তির নাম “জর্জ সরোস’। জর্জ সরোসের এই বিপুল পরিমানের প্রফিটের ফলে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম হতবাক ও থমকে গেছিল। এরপর থেকে জর্জ সরোসকে বলা হয়, “The Man, Who broke The bank of England”। স্বভাবতই তিনি তাইই করেছিলেন। জর্জ সরোস বর্তমানে ‘দ্য কোয়ান্টাম এন্ডোমেন্ট ফান্ড’ নামের ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কো-ফাউন্ডার ও ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২৭ বিলিয়নেরও বেশি ফান্ড নিয়ে ট্রেড করে যাচ্ছে। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠানটি ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের সাহায্য নিয়ে মুলত প্রাইস একশন ফলো করে ট্রেড করে থাকেন। আপনি যদি ফরেক্স ট্রেডার হয়ে থাকেন, তবে আপনার নিজের ট্রেডিং পেশার এসকল সফল ও কিংবদন্তী মানুষদের ব্যাপারে আপনার পরিস্কার ধারনা থাকা উচিত। তবেই আপনিও তাদের দেখানো পথ অনুসরন করতে শিখবেন। অন্যথায় পাল বিহীন ও মাঝিবিহীন নৌকা হয়ে মাঝ দরিয়ায় (ফরেক্স মার্কেট) হাবুডুবু খেয়েই যাবেন অনবরত। যতদিন না আপনার সর্ব শেষ শক্তিটুকুও (একাউন্ট ব্যালান্স) একেবারে শেষ না হচ্ছে!! সবার জন্য শুভকামনা রইল। অনেক অনেক ভাল থাকবেন সবাই <3 <3 <3
  2. ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের পরপরই রাতে প্রস্তুত থাকুন ১৭ই ডিসেম্বর এর জন্য। কেননা, ঘড়ির কাটা রাত ১২ টা পার করার এক ঘন্টা পরই, অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত ১ টাতেই যে সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড। আর তাই, ৩ ই ডিসেম্বরের মত আরেকটি বড় মার্কেট মুভমেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রেডাররা। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে আবার ৩ই ডিসেম্বরের মোট অপ্রত্যাশিত কিছু হবে কি? সবচেয়ে ঘোর ইউরো সমর্থকও হয়ত আশা করেননি যে, ইসিবি সুদের হার কমানোর পরেও EUR/USD শক্তিশালী হবে এবং এতটা শক্তিশালী হবে। যদিও EUR/USD এতটা শক্তিশালী হওয়ার পড়ে অনেক বিশ্লেষকই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে ট্রেডাররা সুদের হার আরও বেশি কমানো হবে বলে প্রত্যাশা করেছিল এবং তা না হওয়ায় EUR/USD দুর্বল হয়েছে। কিন্তু, এরকম যুক্তি নিউজের আগে না এসে পরে দেওয়ায় তা ধোপে টিকছে না। তবে মারিও দ্রাঘি নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মার্কেট তার বক্তব্য বুঝতে ভুল করেছে। ইসিবি সুদের হার কমানোর পরেও EUR/USD ৫০০ পিপসেরও বেশি শক্তিশালী হওয়ায় এবং সম্প্রতি ১.১০ ব্যারিয়ারও ভেঙ্গে ফেলায়, প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ট্রেডাররা। ১৬ ডিসেম্বরও কি এরকম অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে? আপাত দৃষ্টিতে সুদের হার বাড়ানোর ফলে EUR/USD র নিশ্চিত ১০০-৩০০ পিপস দুর্বল হওয়ার কথা থাকলেও ৩ ডিসেম্বরের মোট অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেননা সুদের হার বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত নয়। ১৭ই ডিসেম্বর কি ঘটতে যাচ্ছে? ১৬ই ডিসেম্বরই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারের রিজার্ভ ওপেন কমিটি বা FOMC । মূল এজেন্ডা হল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার ঘোষণা করা। দীর্ঘদিন ধরেই সুদের হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে রাখা হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবার সুদের হার বাড়িয়ে ০.৫০ শতাংশ করা হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঠিক আট বছর আগেই ফেড সুদের হার কমিয়ে ০.২৫ শতাংশে নিয়ে আসে। সেবারও কিন্তু প্রত্যাশা করা হচ্ছিল যে সুদের হার কমানো হবে। তবে, প্রত্যাশা ছিল সুদের হার শতকরা ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু, সবাইকে চমকে দিয়ে একেবারেই ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে ফেড। যার ফলশ্রুতিতে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয় ডলার ও শক্তিশালী হয় EUR/USD. যেহেতু, সুদের নতুন হার ০.৫০ শতাংশ প্রত্যাশিতই, তাই যদি ফেড সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশে বা ১ শতাংশে নিয়ে আসে, তাহলে তা EUR/USD কে কমপক্ষে ২০০-৩০০ পিপস দুর্বল করবে। আর যদি ফেড সুদের হার প্রত্যাশামতই বাড়িয়ে ০.৫% করে, তাহলে তা অর্থনীতির সাধারণ নীতি অনুসারে EUR/USD কে দুর্বল করার কথা থাকলেও EUR/USD দুর্বল বা শক্তিশালী, দুটোই হতে পারে। সেক্ষেত্রে, মার্কেটে বড় ধরনের স্পাইক হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ফেড সুদের হার নাই বাড়ায় এবং FOMC স্টেটমেন্টেও অতি দ্রুতই সুদের হার না বাড়ানোর কোন জোরালো ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে ডলার দুর্বল হয়ে EUR/USD আরও ২০০-৩০০ পিপস শক্তিশালী হতে পারে। তবে যাই ঘটুকনা কেন, মার্কেটে যে বড় মুভমেন্ট ঘটতে যাচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। ১৭ই ডিসেম্বরের আরও আপডেটের জন্য বিডিপিপসের সাথেই থাকুন।
  3. আবারও মার্কেট কাঁপাল NFP। গতকাল থেকেই ফরেক্স ট্রেডাররা অপেক্ষা করছিলেন NFP এর জন্য, আর তাই মার্কেট মুভমেন্টও ছিল অনেক কম। আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ এ প্রকাশিত হয় NFP রিপোর্টটি এবং এবারের ফলাফল হল 271K, যা প্রত্যাশিত 181K থেকে অনেক অনেক বেশি। তাই, মার্কেটে NFP এর প্রভাবও পরে অনেক বেশি। গতকালের নিউজে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম: কিন্তু, EUR/USD প্রত্যাশা থেকেও অনেক বেশি দুর্বল হয়েছে এবং মাত্র ১০ মিনিটেই ১.০৮৬৪ থেকে ১৫০ পিপসসের ও বেশি দুর্বল হয়ে ১.০৭০৮ এ নেমে আসে। এই মুহুর্তে, আবার কিছুটা মূল্য সংশোধনের পর EUR/USD ১.০৭৪৪ এ ট্রেড হচ্ছে। শক্তিশালী ডাউনট্রেন্ড অব্যাহত থাকায় EURUSD আরো দুর্বল হতে পারে। এই সপ্তাহের অধিকাংশ নিউজের পরেই প্রত্যাশিত মার্কেট মুভমেন্ট ঘটায় বেশ চমত্কার একটি সপ্তাহ গেল ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য। আপনার সাফল্য বা ব্যর্থতা, দুটোই শেয়ার করুন। কারণ, উভয়টি থেকেই আমাদের সবার অনেক কিছু শেখার আছে।
  4. ইনবক্সে ধন্যবাদ জানিয়ে বেশ কয়েকজন মেসেজ দিয়েছেন, প্রেডিকশন অনুযায়ী মার্কেট মুভ করায়। আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা। প্রেডিকশন হচ্ছে আগে থেকেই অনুমান করা করা, মার্কেটে কি হবে সামনে। তবে, আমরা কিন্তু কোন প্রেডিকশন দেই না। বরং জানিয়ে দেই, কি নিউজ এলে মার্কেটে তার ইমপ্যাক্ট কি হবে, কিভাবে ট্রেড করতে হবে এবং ফরেক্স মার্কেট বেশ কিছুদিন ধরেই একদম প্রত্যাশিতভাবে মুভ করছে। আর তাই আপনার মনে হচ্ছে প্রেডিকশন অনুসারেই ফরেক্স মার্কেট মুভ করছে। গতকালই বলা হয়েছিল, আর এজন্য নিউজদুটির ফলাফল প্রত্যাশামত আশাই যথেষ্ট ছিল। US ADP employment প্রত্যাশামতই এসেছে এবং ISM non-manufacturing (প্রত্যাশিত ৫৬.৬ এর বিপরীতে ৫৯.১) নিউজের ফলাফল এসেছে প্রত্যাশা থেকেও ভালো। এমনিতেই ডাউনট্রেন্ডে রয়েছে EUR/USD এবং এই নিউজগুলো ভালো আসায়, আর সাথে দ্রাঘির Dovish বক্তব্যের কারনে প্রত্যাশা অনুযায়ীই ত্বরানিত হয় EUR/USD এর পতন। মার্কেট ইতিমধ্যেই ১.০৮৯৬ ভেঙ্গে ফেলেছে কিন্তু ১.০৮৪৭ কিন্তু ঠিকই সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। তাই, EUR/USD কমে ১.০৮৪ এ নেমে আসলেও, ১.০৮৪৭ সাপোর্ট ভাঙ্গতে পারেনি এখনও। বিগত তিন ঘন্টা ধরেই প্রাইস বার বার ১.০৮৪ এ গিয়ে সেখান থেকে আবার ফেরত আসছে। কিন্তু, এই সাপোর্ট বেশিক্ষণ টিকবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। আজ US Unemployment Claims রিপোর্ট প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আসলে আরো দুর্বল হবে EUR/USD. সেক্ষেত্রে, পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে ১.০৮০৮ (জুলাই মাসের সাপোর্ট)। আজ বৃহস্পতিবারের আরও গুরুত্বপূর্ণ নিউজঃ বিকেল ৫:৪৫ এ ECB (ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক) প্রধান মারিও দ্রাঘি মিলানে বক্তব্য রাখবেন। বুধবারে ফ্র্যাঙ্কফুটে তার বক্তব্যের পর এই বক্তব্যেও ইউরোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যেতে পারে তার কাছ থেকে। সাধারণত তার বক্তব্য মার্কেটে ভালো আলোড়ন সৃষ্টি করে। সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত হবে UK Rate Decision সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড অক্টোবর মাসের মিটিংয়ে সুদের হার রেকর্ড নিম্ন ০.৫% এ নামিয়ে এনেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে ইউকের শ্রমবাজার টার্গেট ২% মুদ্রাস্ফীতিতে পৌঁছানোর মত অবস্থায় নেই, তাই ২০১৬ এর বসন্ত পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি ১% এর নিচেই থাকবে। সুদের হার নির্ধারণ ছাড়াও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ত্রি-মাসিক মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লাশন রিপোর্টও প্রকাশ করবে। এছাড়া সুদের হার সংক্রান্ত ভোটের ফলও একই সময়ে প্রকাশিত হবে যা পূর্বের ন্যায় ১-০-৮ থাকবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬:৪৫ এ ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নে বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্যে নতুন রুপরেখা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যেতে পারে। ফেডের হকিশ মনভাবের প্রেক্ষিতে মার্ক কার্নেও কি হকিশ মনভাব দেখাবেন এবং রেট বৃদ্ধি করবেন? পূর্বেও কার্নেকে লক্ষ্য করা গেছে ফেডের অ্যাকশনের জন্য অপেক্ষা করতে এবং তাদের পথ অনুসরন করতে। সন্ধ্যা ৭:৩০ এ প্রকাশিত হবে US Unemployment Claims রিপোর্ট। গত সপ্তাহে কি পরিমাণ জনগণ বেকার ভাতার সুবিধা নিয়েছে তা প্রকাশিত হয় এই ডাটার মাধ্যমে। গত সপ্তাহে তা ১০০০ বাড়লেও টানা ৩৪ সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা ৩০০,০০০ এর নিচে রয়েছে যা বর্তমানে আমেরিকার শ্রমবাজার যে যথেষ্ট শক্তিশালী সে কথাই নির্দেশ করে। এ সপ্তাহে ২৬৪,০০০ ফলাফল আশা করা হচ্ছে।
  5. আজ বাংলাদেশ সময় রাত বারটায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের Federal Open Market Committee Meeting বা FOMC মীটিং। ট্রেডাররা অপেক্ষায় রয়েছেন, এই মিটিং কে ঘিরে ফেড এর নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত জানার জন্য। যদিও তাতে খুব একটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই এবং খুব শীঘ্রই ফেড সুদের হার বাড়াচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেন্ডিং সেলসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভালো আসায় অনেকে আশা করছেন ফেডের নীতিতে পরিবর্তন আসলেও আসতে পারে। FOMC সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন। মার্কেট এখন ফেডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে, তাই মার্কেট মুভমেন্ট কম হচ্ছে। রাত ১২ টার পরপরই মার্কেটে বড় ধরনের মুভমেন্টের সম্ভাবনা রয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে আজকে ১.১০ সাপোর্ট ব্রেক হতে পারে। এই মুহুর্তে EUR/USD ট্রেড হচ্ছে ১.১০৮৩ তে, GBP/USD ট্রেড হচ্ছে ১.৫২৯৩ তে এবং Inflation Data খারাপ আসার কারণে AUD/USD দুর্বল হয়ে এখন ট্রেড হচ্ছে ০.৭১৩১ এ।
  6. আজ সকালেই আমরা বলেছিলাম, সপ্তাহের কাঙ্খিত মুভমেন্ট ঘটতে পারে আজকে, যার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন ফরেক্স ট্রেডাররা । কেননা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিউজ ছিল আজ। প্রত্যাশা অনুযায়ীই নিউজগুলোর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে মার্কেটে। সুদের হারে কোন পরিবর্তন আনেনি ইসিবি, বরং প্রত্যাশা অনুযায়ীই ০.০৫ শতাংশে বহাল রেখেছে। তবে, প্রত্যাশা থেকেও ভালো এসেছে US Unemployment Claims রিপোর্ট। প্রত্যাশা 266K থাকলেও গত মাসে বেকারত্ব ভাতা দাবি করেছেন 259K বা ২ লক্ষ ৫৯ হাজার মানুষ। এর প্রভাবে ডলার শক্তিশালী হয়েছে ও বড় দরপতন ঘটেছে EUR/USD এর, ১.১৩৪৫ থেকে প্রায় ২০০ পিপস কমে EUR/USD নেমে আসে ১.১১৫৫ এ। এ সপ্তাহে প্রায় সব বিশেষজ্ঞই ধারণা করেছিলেন, EUR/USD দুর্বল হবে এবং ১.১১ এর দিকে নেমে আসবে। ঠিক তাই হয়েছে। আজকের দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিউজ ছিল GBP/USD এর জন্য, UK Retail Sales m/m. প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো আসায় (০.৩% এর পরিবর্তে ১.৯%) GBP/USD ১.৫৫ ব্রেক করে ১.৫৫০৮ এ চলে যায়, তবে এই ব্রেকআউট টেকেনি এবং পরবর্তীতে শক্তিশালী US Unemployment Claims রিপোর্ট এর প্রভাবে GBP/USD আবার ১.৫৩৮৫ এ নেমে আসে। তবে, তাও বেশিক্ষণ টেকেনি, রিট্রেস করে এখন ট্রেড হচ্ছে ১.৫৪২৪ এ। আরো পড়ুন : এই সপ্তাহের (১৯-২৩ জুলাই) গুরুত্বপূর্ণ নিউজসমুহ নিষ্প্রাণ মার্কেট : বৃহস্পতিবারের অপেক্ষা , কিছুটা শক্তিশালী ডলার বৃহস্পতিবার চলে এলো, মার্কেট কি মুভ করবে আজ?
  7. FOMC ঝড়ে এমনিতেই দুর্বল ইউরো, পাউন্ড ও অন্যান্য কারেন্সিগুলো। মড়ার উপর খরার ঘা হিসেবে তার উপর আবার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ত্রৈমাসিক জিডিপি। প্রত্যাশা ৩ শতাংশ হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি বেড়েছে ৩.৫ শতাংশ হারে। সপ্তাহে ছিলই ডলারের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, আর দুটিতেই বাজিমাত করেছে ডলার। ১.৬০০০ যে দেয়াল ঠেকিয়ে রেখে ১.৬১ এ ফেরত পাঠিয়েছিল GBP/USD কে, তা আর পারেনি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। আজকেই যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি নিউজের পরপরই তা ভেঙ্গে গিয়েছে। GBP/USD নেমেছিল সর্বনিম্ন ১.৫৯৫৯ তে। তবে এখন কিছুটা শক্তিশালী হয়ে আবার ১.৬০ এর কাছাকাছি ট্রেড হচ্ছে। EUR/USD এর অবস্থাটা একটু ভিন্ন। নিকট ভবিষ্যতে ইউরোকে নিয়ে আশাবাদী কম লোকই আছেন। EUR/USD যে দুর্বল হবে, সে সম্ভাবনা বেশ জোরেশোরেই উঁকিঝুঁকি মারছিল। তাই, দেখার বিষয় ছিল, পতনটা কখন হবে, কিভাবে হবে। ১.২৬০০ এর শক্তিশালী বাধাও ভেঙ্গে গেছে। তাই, EUR/USD এর আরো দুর্বল হতে আপাতত আর কোন বাধা নেই। EUR/USD এর পরবর্তী শক্তিশালী বাধা হতে যাচ্ছে ১.২৫। EUR/USD যদি ১.২৫ এর কাছাকাছি যায়, তাহলে এই প্রাইসে বাই করে ১.২৪৯০ তে স্টপ লস সেট করে ১.২৫৫০ তে টেক প্রফিট সেট করতে পারেন আপনি। আমরা ধারনা করছি, ১.২৫ সহজে ব্রেক হবে না, কারন ঠিক এ জায়গা থেকেই গত ৩ অক্টোবর EUR/USD ট্রেন্ড রিভার্সাল করেছিল (চার্ট লক্ষ্য করুন)। তাই, ১.২৫০০ একটি শক্তিশালী সাপোর্টে পরিণত হয়েছে এবং এটাকে ভাঙতে হলে মার্কেটকে অন্তত দুই এক বার চেষ্টা করতে হতে পারে (বড় ধরনের কোন নিজের তাৎক্ষনিক প্রভাব না থাকলে) । এক্ষেত্রে লাভ ও লসের রিস্ক রেশিও ৩:১/৪:১ তবে অতীত বলে থাকে, একতরফা পতন কম হয়। মোটামুটি সব বিশ্লেষকই EUR/USD আরো দুর্বল হবে বলে অনুমান করলেও, আরো পতনের আগে পেয়ারটি ১০০/২০০ পিপস শক্তিশালী হতে পারে এবং এ ধরনের ঘটনা মোটেই বিরল নয়। তাই, এখনই অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রেড ওপেন না করতে চাইলে, আপনি প্রাইস ১.২৫ এর কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেড করতে পারেন, অল্প স্টপ লস ও বেশি টেক প্রফিট সেট করে। আর যদি, মার্কেট রিভার্স করে ১.২৭ ৫০ অথবা ১.২৮ এ পৌছায় তাহলে, ইকোনমিক ইন্ডিকেটরগুলো ইউরোজোনের অবস্থার উন্নতি না দেখালে, সেখান থেকেও আপনি সেল করতে পারেন যদি লং ট্রেড করতে চান। খুব সম্প্রতিই EUR/USD এর দীর্ঘমেয়াদি আপট্রেন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। প্রাইস ১.২৭৫০ বা ১.২৮ এ পৌঁছালে তা সেলারদের কাছে আকর্ষণীয় হবে। কারন সেলাররা সবসময়ই চায়, বেশি প্রাইসে সেল করতে, তাতে রিস্ক ও কমে, আর প্রফিটও করা যায় বেশি। EUR/USD এর জন্য পরবর্তী শক্তিশালী রেজিস্টান্স হচ্ছে ১.২৭৬৯। EUR/USD শক্তিশালী হতে এখন দুইটি জিনিস প্রয়োজন। ইউরোজোনের অর্থনীতির লক্ষণীয় উন্নতি অথবা মন্দা/ঋণ সংকট ফিরে আসবে না আর এমন কোন পূর্বাভাষ। অথবা সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ইকোনমিক রিপোর্টগুলো খারাপ আসা যাতে ডলার দুর্বল হয়। ডলারের দুর্বলতায় নয় বরং ইউরোর শক্তিমত্তাতেই EUR/USD শক্তিশালী হবে, এমন সম্ভাবনা কমই।
  8. এক ট্রেডেই এক বিলিয়ন ডলার প্রফিট! জর্জ সোরোস কে যদি আপনি না চিনে থাকেন, সমস্যা নেই। কিন্তু, নতুন করে ইউরোপিয়ান ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আবার খবরের শিরোনাম হলেন ফরেক্স ট্রেডিং এর সবচেয়ে সফলতম ব্যক্তিত্ব এই মাল্টি বিলিয়নিয়ার। ফোর্বস রাঙ্কিং অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে ১৯ তম অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন এই বিনিয়োগকারী। একটু একটু করে যখন আর্থিক মন্দা কাটিয়ে প্রবিদ্ধির ধারায় ফিরছে, তখন তা আকর্ষণ করেছে সোরোসোর মত বড় বিনিয়োগকারিদেরও। “আমি বিশ্বাস করি ইউরোতে” – বিখ্যাত জার্মান সাপ্তাহিক, স্পিগেল দেয়া সাক্ষাতকারে বেশ জোরগলাতেই বললেন সোরোস। “শীঘ্রই আমার ইনভেস্টমেন্ট টিম ইউরোপে বড় ধরনের অর্থের প্রবেশ ঘটাতে যাচ্ছে। যেমন ধরুন, সে ব্যাংকগুলোতে যেগুলোর জরুরী ভিত্তিতে মূলধন দরকার।” তার টিম গ্রিসেও বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি স্পিগেলকে বলেন, “দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে এখানে বিনিয়োগ টেকসই হবে কিনা, দেখার বিষয় সেটাই। যদি তা সম্ভব হয়, তবে আমরা সেখানে বিনিয়োগ করবো” তবে, ইউরোপে বিনিয়োগের কথা জানালেও, ইউরোপের আর্থিক সংস্কার নিয়ে আবার জার্মানির সমালোচনা করেছেন সোরোস। বলেছেন, ইউরো নিয়ে জার্মানির প্রধানমন্ত্রী আঞ্জেলা মার্কেলের নীতি সংকট সমাধানের পরিবর্তে তা আরো ঘনীভূত করেছে। অভিযোগ আছে যে, নিজ স্বার্থেই ও ইউরোপে জার্মান আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ইউরোপের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দেশগুলোকে সাহায্যের নামে তাদের উপর নিয়ন্ত্রন আরো জোরদার করতে চায় জার্মানি। “ আমি ভয় পাচ্ছি যে ইউরো জোন দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে, যেটার সম্মুখীন হয়েছে জাপান, বিগত ২৫ বছর ধরে।“ তবে আশঙ্কার কথা বললেও, বড় বিনিয়োগকারীরা ফিরতে শুরু করলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে ইউরো জোন, সাথে ইউরো “বুল” রাও! দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী EUR/USD এর জন্য যা খুবই আবশ্যক।
  9. যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি অব্যাহত আছে বিগত বিশ বছর ধরেই। দেশটি যা রপ্তানি করে, আমদানি করে তার থেকে বেশি। যদিও দেশটি বহুদিন ধরে অর্থনীতির সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে এবং এখনও তা অব্যাহত আছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে বিষয়টি উদ্বেগজনক। কেননা, যে হারে দেশটি থেকে অর্থ স্থানান্তরিত হচ্ছে অন্য দেশে, সে হারে ফেরত আসছে না। ধরা যাক, এক বছরে চীনে যুক্তরাষ্ট্র পন্য রপ্তানি করল ১ ট্রিলিয়ন ডলারের, কিন্তু আমদানি করল ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের। এ ক্ষেত্রে বানিজ্য ঘাটতি হচ্ছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। প্রশ্ন হচ্ছে, এই দুই ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে চীন কি করবে? কারন চীনের মুদ্রা হচ্ছে ইউয়ান। চীন যেটা করতে পারে, তা হচ্ছে এই ডলার তারা রিজার্ভ হিসেবে রাখতে পারে অথবা ডলারে দিয়ে বিনিয়োগ করা সম্ভব এমন কোথাও বিনিয়োগ করতে পারে। রিজার্ভ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট অনেকের বেশি ডলার চীনের কেন্দ্রিয় ব্যাঙ্কে জমা রাখা দেশটির জন্য লাভজনক নয়। কারন, তাতে কেন্দ্রিয় ব্যাঙ্ক কোনো সুদ বা মুনাফা পাচ্ছে না। তাই, তারা চেষ্টা করবে এই অতিরিক্ত ডলার বিনিয়োগের জন্য। বাস্তব ক্ষেত্রে যা হয়, অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সিকিউরিটি, যেমনঃ সরকারি ঋণপত্রে এই ডলার বিনিয়োগ করে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ থেকে সরকারী বন্ডে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম লাভজনক কিন্তু অনেক বেশি নিরাপদ। কেননা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে কিন্তু একটি দেশের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম (যদিও সাম্প্রতিককালে গ্রীসের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু, তা প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ যেভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে, তা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানোর জন্য নেবে না) কি হতে পারে যদি বছরের পর বছর বানিজ্য ঘাটতি বাড়তেই থাকে? সরকারী ঋণপত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমান আরো বাড়বে। আর যেহেতু, এই ঋণপত্রের/বন্ডের উপর সরকারকে সুদ দিতে হয়, তার মানে আরও বেশি ডলার দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বা সরকারি ঋণ আরও বাড়তে যাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে দুইটি সমস্যা তৈরি হতে পারেঃ প্রথমত, ডলার ঘাটতি মোকাবেলায় আরও ডলার ছাপাতে হবে যা ডলারকে নিঃসন্দেহে দুর্বল করে দিবে এবং রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। দ্বিতীয়ত, সরকার বন্ডের সুদের হার কমিয়ে দিলে, অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী বন্ডে বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে। সেই ক্ষেত্রে তারা চাইবে তাদের হাতে থাকা ডলারকে অন্য মুদ্রায় রূপান্তরিত করে তা দিয়ে তুলনামূলক বেশি সুদের কোন বন্ডে বিনিয়োগ করতে। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমবে এবং অবধারিত ভাবেই ডলার দুর্বল হবে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য দুটি সমস্যারই পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে ডলারের দুর্বল হওয়ার মধ্যে দিয়ে। এর ফলে যে পন্য আগে যুক্তরাষ্ট্র ৩ ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে আমদানি করতে পারত, তা আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তবা ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে যা বানিজ্য ঘাটতিকে আরও বৃদ্ধি করবে। তারমানে, বানিজ্য ঘাটতি যথাসম্ভব কম রাখা অথবা নিজেদের অনুকুলে বৃদ্ধি করাটায় শ্রেয়। আর তাই, বলার অপেক্ষা রাখে কেনো ট্রেড ব্যাল্যান্স রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং কেনো বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ট্রেড ব্যাল্যান্স (Trade Balance) রিপোর্ট কি? ট্রেড ব্যাল্যান্স বা বাণিজ্য ভারসাম্য রিপোর্ট নির্দেশ করে কোন দেশের আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পার্থক্যকে। শুধু পণ্যই নয়, সেবাখাতও এর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত প্রতি মাসে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়। আর তাই, পূর্ববর্তি মাসের আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পার্থক্যই রিপোর্টে নির্দেশিত হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ? আশা করি, উপরের উদাহরণ থেকে আপনি ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন এই রিপোর্টের গুরুত্ব। ফরেক্স ট্রেডারদের কাছে রিপোর্টটির গুরুত্ব কতটুকু? রপ্তানি চাহিদার সাথে কোন দেশের মুদ্রার চাহিদা সরাসরি সম্পর্কিত। কেননা, রপ্তানি, আমদানি থেকে বেশি হলে, অন্য দেশের আমদানিকারকদের সে দেশের মুদ্রা কিনতে হবে আমদানি ব্যায় পরিশোধ করার জন্য (বড় দেশগুলোর ক্ষেত্রেই এটি বেশি প্রযোজ্য) । .আর তাতে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার চাহিদা বাড়বে ও মুদ্রা শক্তিশালী হবে। নিউজটি কতটি গুরুত্বপূর্ণ? নিউজটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মার্কেটে এর প্রভাব খুবই কম। উদাহরণস্বরূপ বিগত ৪ বারের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্ট প্রকাশের পর মুভমেন্ট উল্লেখ করা হলঃ ১১ ডিসেম্বর ২০১২ (ফলাফল প্রত্যাশিত - মার্কেটে কোনো প্রভাবই পড়েনি) ফলাফলঃ -42.24 (বিলিয়ন) প্রত্যাশাঃ -42.6 (বিলিয়ন) পূর্ববর্তী মাসঃ -41.55 (বিলিয়ন) প্রারম্ভিক প্রাইসঃ ১.২৯৮৯ প্রথম ৫ মিনিট - ২ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৯১, সর্বনিম্ন ১.২৯৮৯) প্রথম ১৫ মিনিট - ৮ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৯১, সর্বনিম্ন ১.২৯৮৩) প্রথম ৩০ মিনিট - ১৪ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৯৭, সর্বনিম্ন ১.২৯৮৩) পরবর্তী মার্কেট মুভমেন্ট একই ছিল এবং মার্কেট মুভমেন্টের উপর নিউজের কোনো প্রভাব ছিল না। ৮ নভেম্বর ২০১২ (নিউজের ফলাফল প্রত্যাশা থেকে বেশ ভালো আসে। কিছুটা মুভমেন্ট হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট দিকে হয়নি) ফলাফলঃ -41.55 (বিলিয়ন) প্রত্যাশাঃ -45 (বিলিয়ন) পূর্ববর্তী মাসঃ -44.22 (বিলিয়ন) প্রারম্ভিক প্রাইসঃ ১.২৭২৬ প্রথম ৫ মিনিট - ১৭ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭১৭, সর্বনিম্ন ১.২৭৩৪) পরবর্তী ৫ মিনিট - ২২ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৪২, সর্বনিম্ন ১.২৭২০) প্রথম ১৫ মিনিট - ২৫ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৪২, সর্বনিম্ন ১.২৭১৭) প্রথম ৩০ মিনিট - ৪১ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৫৮, সর্বনিম্ন ১.২৭১৭) প্রথম ১ ঘণ্টা - ৪১ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৫৮, সর্বনিম্ন ১.২৭১৭) (মার্কেট প্রথম ৩০ মিনিটের রেঞ্জেই পরবর্তী ১২ ঘণ্টা মুভ করে) নিউজটি প্রকাশের মুহূর্তে ইউরো/ইউএসডি ট্রেড হচ্ছিল ১.২৭২৬ এ এবং ১ ঘণ্টা পরে ট্রেড হচ্ছিল ১.২৭৩৫ এ। তার মানে, নিউজের পর মার্কেট ৪১ পিপস মুভ করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট দিকে যায়নি, প্রাইস আপ ডাউন হচ্ছিল। তার মানে, এবারও মার্কেটের উপর নিউজের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি) ১১ অক্টোবর ২০১২ (ফলাফল প্রত্যাশিত - মার্কেটে কোনো প্রভাবই পড়েনি) ফলাফলঃ -44.22 (বিলিয়ন) প্রত্যাশাঃ -44 (বিলিয়ন) পূর্ববর্তী মাসঃ -42 (বিলিয়ন) প্রারম্ভিক প্রাইসঃ ১.২৯২৭ প্রথম ৫ মিনিট - ১১ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৩১, সর্বনিম্ন ১.২৯২০) পরবর্তী ৫ মিনিট - ১০ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৩২, সর্বনিম্ন ১.২৯২২) প্রথম ১৫ মিনিট - ১৪ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৩৪, সর্বনিম্ন ১.২৯২০) প্রথম ৩০ মিনিট - ১৫ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৩৪, সর্বনিম্ন ১.২৯১৯) প্রথম ১ ঘণ্টা - ২২ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৯৪১, সর্বনিম্ন ১.২৯১৯) নিউজটি মার্কেটের উপর মোটেই কোন প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। কোনো সুনির্দিষ্ট পথে মুভ করেনি মার্কেট, সাধারণ আপ ডাউন হয়েছে। সাধারণ সময়ে মার্কেট এমনই বা আরও বেশি মুভ করে থাকে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ (নিউজের ফলাফল প্রত্যাশা থেকে ভালো আসে। কিন্তু মার্কেটে কোনো প্রভাবই পড়েনি) ফলাফলঃ -42 (বিলিয়ন) প্রত্যাশাঃ -44 (বিলিয়ন) পূর্ববর্তী মাসঃ -42.99 (বিলিয়ন) প্রারম্ভিক প্রাইসঃ ১.২৭৮৪ প্রথম ৫ মিনিট - ৮ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৮৬, সর্বনিম্ন ১.২৭৭৮) পরবর্তী ৫ মিনিট - ৫ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৮২, সর্বনিম্ন ১.২৭৭৭) প্রথম ১৫ মিনিট - ১৩ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৭৯০, সর্বনিম্ন ১.২৭৭৭) প্রথম ৩০ মিনিট - ৩৬ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৮১৩, সর্বনিম্ন ১.২৭৭৭) (মার্কেট মুভ করে জার্মান আদালত কতৃক গ্রিসের বেলআউট প্রকল্প অনুমোদন করার জন্য) প্রথম ১ ঘণ্টা - ৬০ পিপস (সর্বোচ্চ্য ১.২৮৩৭, সর্বনিম্ন ১.২৭৭৭) (মার্কেট মুভ করে জার্মান আদালত কতৃক গ্রিসের বেলআউট প্রকল্প অনুমোদন করার জন্য) মার্কেট নিউজ পরবর্তী প্রথম ১৫ মিনিটে মোটেই মুভ করেনি। এর পর ইউরো/ইউএসডি দ্রুত বাড়লেও তা হয়েছে মুলত জার্মান আদালত কতৃক গ্রিসের বেলআউট প্রকল্প অনুমোদন করার জন্য। প্রথম ১৫ মিনিটের মুভমেন্ট লক্ষ্য করে বলা যায় যে এবারও মার্কেট এই নিউজের প্রভাবে মুভ করেনি। স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে যে, নিউজটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল এবং তাৎক্ষনিকভাবে ট্রেড করার মত উপযুক্ত নয়। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এই নিউজটি ট্রেড না করার উপদেশ দেন। এক নজরে ট্রেড ব্যালেন্স (Trade Balance) ট্রেড ব্যালেন্স কি? ট্রেড ব্যালেন্স নিউজ কোনো দেশের আমদানি ও রপ্তানির পার্থক্য নির্দেশ করে। রেজাল্ট পজিটিভ হওয়া মানে রপ্তানি, আমদানি থেকে বেশী (বাণিজ্য উদ্বৃত্ত)। .রেজাল্ট নেগেটিভ হওয়া মানে, রপ্তানি আমদানি থেকে কম (বাণিজ্য ঘাটতি)। কখন প্রকাশিত হয়? সাধারণত প্রতি মাসের ৮-১৫ তারখের মধ্যে নিম্নোক্ত বাংলাদেশি সময়ে প্রকাশিত হয়ঃ ইউএস ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টঃ নভেম্বর- মার্চঃ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটা, এপ্রিল-অক্টোবরঃ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা কানাডা ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টঃ নভেম্বর- মার্চঃ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটা, এপ্রিল-অক্টোবরঃ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা জার্মানি ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টঃ নভেম্বর- মার্চঃ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা, এপ্রিল-অক্টোবরঃ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টা অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টঃ নভেম্বর- মার্চঃ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টা / সাড়ে সাতটা / সাড়ে আটটা যুক্তরাজ্য ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টঃ নভেম্বর- মার্চঃ বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটা, এপ্রিল-অক্টোবরঃ বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটা গুরুত্ব ও মার্কেট মুভমেন্টঃ নিউজটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মার্কেটে বড় মুভমেন্ট তৈরি করে না। রেটিং: গুরুত্বঃ ৩/৫ ভোলাটিলিটি/মার্কেট মুভমেন্টঃ ১/৫ সহজবোধ্যতাঃ ১/৫ পরামর্শঃ যেহেতু, নিউজটি মার্কেটে যথেষ্ট মুভমেন্ট তৈরি করতে পারে না এবং কোনো সুনির্দিষ্ট দিকও তৈরি করতে পারে না, তাই আমাদের পরামর্শ হল নিউজটি ট্রেড না করা।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×