Jump to content

orko

Moderators
  • Content count

    53
  • Joined

  • Last visited

  • Days Won

    18

orko last won the day on May 20

orko had the most liked content!

Community Reputation

86 Excellent

About orko

  • Rank
    মডারেটর

Profile Information

  • Gender
    Not Telling
  1. যারা বেশ কিছুদিন ধরে ফরেক্সে ট্রেড করছেন, তারা প্রায়ই দেখে থাকবেন যে কিছু ব্যক্তি ফেসবুক বা বিডিপিপস বা অন্য কোন সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই ট্রেডে প্রফিট করার স্ক্রিনশট পাব্লিশ করে থাকে। যা দেখে যেসব ট্রেডার মানি ম্যানেজমেন্ট মেনে একটু একটু করে ভালো ট্রেড করার চেস্টা করছেন, প্রায়ই তাতে হতাশ হয়ে যান। কারন এক মাসেই হয়ত তিনি যে প্রফিট করতে পারেননি, এক দিনেই কেউ তা করে বসে আছেন। কেন একজন মানুষ তার প্রফিটের স্ক্রিনশট ফেসবুকে বা ফোরামে পোস্ট করে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? যারা রেগুলার এরকম প্রফিটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে, তাদের কয়জনকে আপনি লসের স্ক্রিনশট প্রকাশ করতে দেখেছেন? ফরেক্সে কি মানুষ শুধু লাভই করে, লস করে না? মূলত দুই ধরনের মানুষ তাদের প্রফিটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে। এক, যারা একেবারেই নতুন। কিছু লাভ করতে পারলেই তারা এক্সাইটেড হয়ে যান ও সবার সাথে তা শেয়ার করতে পেরে খুশি হন। দুই, যারা তাদের এই প্রফিট অন্যদের দেখিয়ে তা দিয়ে সিগন্যাল সেল করতে চান বা অন্যের ফরেক্স অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করতে চান। কেউ কেউ অবশ্য শুধুমাত্র অন্যদের উৎসাহ দেয়ার জন্যেই লাভের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। তবে তারা, লাভ এবং লস, দুটোর স্ক্রিনশটই নিয়মিত প্রকাশ করেন, যেটাকে ট্রেডিং জার্নালও বলা যায়। যাই হোক, প্রফিটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা অবশ্যই খারাপ কিছু নয়। তবে, কেউ এগুলো ব্যবহার করে ফরেক্সে সাফল্য দাবি করে যদি আপনার কাছে সিগন্যাল বিক্রি করতে চায় অথবা আপনার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করতে চায়, তবে আপনাকে অনেক কিছু যাচাই করতে হবে। কারন, অনেক ভাবেই এগুলো ম্যানিপুলেট করা যায়। ১। ফটোশপ দিয়ে ফেক প্রফিটের স্ক্রিনশট তৈরি করা একসময় এগুলো খুব সহজ ছিল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কিন্তু, এখন মানুষ আর বোকা নেই, শুধুমাত্র প্রফিটের স্ক্রিনশট দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। কেউ আপনাকে তার প্রফিটের কোন স্ক্রিনশট দিলে, তার কাছে তার মেটাট্রেডারের ইনভেস্টর পাসওয়ার্ড চান, যেটা দিয়ে শুধু তিনি কি কি ট্রেড করেছেন, সেটা দেখা যাবে। কোন ট্রেড ওপেন, ক্লোজ বা মডিফাই করা যাবে না। অনেকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারনে আপনাকে ইনভেস্টর পাসওয়ার্ড দিতে চাবে না, তবে এ ধরনের মানুষ তাদের লাভের স্ক্রিনশটও সবজায়গায় প্রকাশ করে বেরাবে না। তাই, শুধু স্ক্রিনশট কখনোই বিশ্বাস করবেন না। ২। ভুয়া ব্রোকারের সাথে যোগসাজশে ভুয়া ট্রেডিং স্টেটমেন্ট তৈরি করা ধরুন, আপনি নিজেই একটি ব্রোকার। আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকে একই সময়ে বাই এবং সেল, দুই ধরনের ট্রেডই ওপেন করলেন। এরপর, যে ট্রেডটা উইন করেছে, সেটা রেখে লসের ট্রেডটা ডিলিট করে দিলেন (এটা শুধু ব্রোকারের পক্ষেই করা সম্ভব)। এখন, পরে যদি কেউ আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখে, তাহলে সে দেখবে যে, আপনার অনেকগুলো লাভের ট্রেড রয়েছে। যদিও, আপনি আসলে কোন আনালাইসিস না করেই, একই প্রাইসে বাই সেল দুটোই করেছিলেন। এভাবে ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করে মানুষকে সবচেয়ে সহজে ঠকানো যায়। কেননা, সম্ভাব্য কোন বিনিয়োগকারী কোনভাবেই বুঝতে পারবে না, চালাকীটা কই করা হয়েছে। এমনটা কোন বড় ব্রোকারের সাথে করা প্রায় অসম্ভব। আর প্রফেশনাল কোন ফরেক্স ট্রেডারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তার ডিপোজিটের সুরক্ষা। তাই, সে অল্প স্প্রেডের কারনে কখনোই স্বনামধন্য ব্রোকার ছাড়া অন্য কোন ব্রোকারের সাথে ট্রেড করবে না। তাই, কাউকে নিজের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করতে দেয়ার আগে ভালো করে দেখে নিন, ওই ব্যক্তি কোন রেপুটেডেড ব্রোকারের সাথে ট্রেড করছে কিনা। একদম অচেনা কোন ব্রোকার হলে, শুরুতেই তাকে বাদ দিন। ৩। পুরো ট্রেডিং স্টেটমেন্ট শেয়ার না করা অনেকে ইনভেস্টর পাসওয়ার্ড না দিয়ে শুধুমাত্র তাদের MyFxBook অ্যাকাউন্টের লিংক শেয়ার করেন, যেখান থেকে একজন ট্রেডারের ট্রেডিং এর বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়। তবে, ট্রেডার চাইলে কিছু কিছু জিনিস প্রাইভেট করে দিতে পারেন, যেটা সবাই দেখতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কোন ট্রেডার যদি সম্পূর্ণ ট্রেডিং হিস্টোরি লুকিয়ে শুধুমাত্র ডিপোজিট, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ইত্যাদি শো করে, তাহলে এড়িয়ে চলুন। কোন ট্রেডারের বর্তমান Account Balance না দেখে, তার Equity দেখুন। কেননা, আপনার কয়েকটা ট্রেড খুব বড় কোন লসে থাকলেও, সেগুলো বন্ধ করার আগ পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স সবসময় একই দেখাবে। কিন্তু, Equity এর মাধ্যমে সবসময় রিয়েল ব্যালেন্স দেখা যায়। একজন ট্রেডারের বিগত কয়েক মাসের সব ট্রেড না দেখতে পারলে আপনি এটাও জানতে পারবেন না যে, সাম্প্রতিককালে তিনি লাভে আছেন নাকি লসে আছেন। এমনও হতে পারে, কোন এক ট্রেডারের ৫০০ টি ট্রেডের মধ্যে ৫০ টি ট্রেড লস এবং MyFXBook তার উইনিং রেটিও দেখাচ্ছে ৯০%। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অধিকাংশ ট্রেডেই লস করেছেন এবং অধিকাংশ লাভের ট্রেডই অনেক আগের যখন মার্কেট অনুকুলে ছিল। ৪। ফেক উইনিং রেটিও (winning ratio) অনেকেই গর্ব করে বলে বেড়ান যে তার সিস্টেমের winning ratio ৯০%, অর্থাৎ, তার সিস্টেম ফলো করে ট্রেড করলে প্রতি ১০০ টি ট্রেডের ৯০ টিতেই আপনি জয়লাভ করবেন। কিন্তু, মনে রাখবেন, আপনি চাইলেই যেকোন ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট এর উইনিং রেটিও বাড়াতে পারবেন। এর জন্য খুব অল্প লটে অনেকগুলো ট্রেড খুলুন। এখন, কোন ট্রেড এক পিপস লাভে গেলেই ক্লোজ করে দিন। আর লসে গেলে ক্লোজ করবেন না। যেহেতু, মার্কেট প্রায়ই বাড়ে কমে, তাই, এভাবে শতকরা ৯৮ ভাগ ট্রেডই প্রফিটেবল ভাবে ক্লোজ হবে ও ১ পিপস করে আপনি ৯৮ টা ট্রেডে ৯৮ পিপস লাভ করবেন। কিন্তু, বাকি ২ টা ট্রেডের প্রত্যেকটা হয়ত ২০০ পিপস লসে আছে। এখন, ওই দুইটা ট্রেড লসে ক্লোজ করলেও মেটাট্রেডারে আপনার উইনিং রেটিও ৯৮% দেখাবে, যদিও সবমিলিয়ে আপনি ২০৪ পিপস লসে আছেন। ৫। অল্প সময়ের রেজাল্ট দেখেই কাউকে বিশ্বাস করা জুয়ার ব্যাপারটা বোঝেন তো? একটা লটারি কিনেই তাতে আপনি কোটি টাকা পুরস্কার পেতে পারেন। কিন্তু, এই লটারি আবার কবে মিলবে, তার কি কোন ঠিক আছে? ঠিক তেমনিভাবেই অনেকে ফরেক্সে এসেই স্টপ লস ছাড়াই মার্কেটের সাম্প্রতিক আপ ডাউন লক্ষ্য করে কয়েকটি ট্রেড উইন করে স্ক্রিনশট পাবলিশ করা শুরু করে দেন। বেশি রিস্ক নেওয়ায় সহজেই তাদের অ্যাকাউন্ট কয়েকগুন হয়ে যায়। কিন্তু যখনই মার্কেট তাদের প্রতিকূলে চলে যায়, তারা সব হারিয়ে ফেলেন। মনে রাখবেন, সমস্ত ট্রেডিং স্ট্রাটেজিই কিছু কিছু মার্কেটে খুব ভালো রেজাল্ট করে। যখনই, মার্কেট পরিবর্তিত হয়, তখনই রেজাল্টও পরিবর্তিত হয়। একটি ট্রেডিং প্লান আসলে কতটা ভালো, তা ভালোভাবে বোজার জন্য, বিভিন্ন ধরনের মার্কেটে তার ফল কেমন ছিল, সেটা বিশ্লেষণ করতে হয়। মাত্র ২-৩ মাসের ফলাফল দেখে কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কারন, হয়ত এই পুরোটা সময় মার্কেট ট্রেন্ডে ছিল আর স্ট্রাটেজিটি ট্রেন্ডিং মার্কেটের জন্য ডেভেলপ করা। যখনই মার্কেট রেঞ্জের মধ্যে মুভ করবে, তখনই স্ট্রাটেজিটি খারাপ রেজাল্ট করবে। তাই, কাউকে নিজের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করতে দিতে হলে, অবশ্যই তার দীর্ঘদিনের ট্রেড দেখতে হবে। তার সমস্ত লাভ কি শুধুমাত্র কয়েকটি ট্রেড থেকেই আসা, নাকি অধিকাংশ ট্রেডের লাভই গড় লাভের সমান, তা দেখতে হবে। তিনি কোন ব্রোকারের সাথে ট্রেড করছেন, সেটা যেমন দেখতে হবে, তেমনি দেখতে হবে তিনি ঠিকমত মানি ম্যানেজমেন্ট রুলস মেনে চলেন কিনা। ফরেক্সে এমন প্রতারনার আরো অনেক উপায় আছে, যা ব্যবহার করে সহজেই কেউ আপনার সামনে নিজেকে প্রফিটেবল ট্রেডার হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে। তাই, কারো সাথে ডিপোজিট করার আগে বা তার সিগন্যাল কেনার আগে, খুব ভালো করে চিন্তাভাবনা করে বুঝে শুনে বিনিয়োগ করতে হবে। মনে রাখবেন, কেউ সিগন্যাল সেল করলেই বা আপনার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করতে চাইলেই, সে বাটপার নয়। দুনিয়াজুরে বিভিন্ন হেডজ ফান্ড লক্ষ লক্ষ মানুষের হইয়ে ট্রেড করছে। কিন্তু, বাংলাদেশে যেহেতু প্রতারণার মাত্রা মারাত্মক আকার ধারন করেছে, তা সাবধান থাকার দায়িত্ব আপনারই। জানি, অনেকেই বলবেন যে, কোন হেডজ ফান্ড কি কখনোই আপনাকে তার ট্রেড দেখবে দিবে? দিবে না। তাহলে, একজন সিগন্যাল সেলার বা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার কেন আপনাকে তার সমস্ত ট্রেড দেখতে দিবে? এভাবে তো ট্রেডিং স্ট্রাটেজি চুরিও হতে পারে। এর উত্তর হচ্ছে, একটি হেডজ ফান্ড একদিনে না, দীর্ঘদিনে তার রেপুটেশন তৈরি করে। ইনভেস্টররা একটি হেডজ ফান্ডের ট্রেড দেখতে না পারলেও, বিগত বছরগুলোতে ফান্ডটি ইনভেস্টরদের কি পরিমান প্রফিট দিয়েছে, সেটা দেখেই ইনভেস্টররা তাতে বিনিয়োগ করেন। এছাড়াও, একটি হেডজ ফান্ডে অনেক দক্ষ মার্কেট বিশ্লেষক ও ট্রেডার থাকে, যাদের স্টক বা ফরেক্স মার্কেট সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি আছে। তারপরেও, অনেক হেডজ ফান্ড লস করে। সেখানে, অচেনা হটাত করে উড়ে আসা কাউকে একজন ট্রেডার সম্পূর্ণ না জেনে কেন তাকে তার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করার দায়িত্ব দিবে। এই পোস্টটিতে একটি ধারনা দেওয়া হয়েছে কিভাবে প্রতারনা করা হয়। এটা একজন ট্রেডারের দায়িত্ব, একজন ইনভেস্টরকে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করানো। পরে একসময় আলোচনা করব, সিগন্যাল সেল করে বা অন্যের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করে সফল হতে চাইলে আপনাকে কি কি করতে হবে।
  2. আগের পর্বগুলোতে আমরা জেনেছি কমোডিটি কি, কমোডিটি কিভাবে কেনাবেচা করা হয়, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কি আর এর কাজই বা কি। আপনি যদি আগের পর্বদুটি নাও পড়ে থাকেন, তাহলেও এই লেখাটি বুঝতে অসুবিধা হবে না। চাইলে পরে পরে নিতে পারবেন এই লিংক থেকেঃ আমিন সাহেবের কমোডিটি ট্রেডিং - কমোডিটি কি? ও কমোডিটি ট্রেডিং - যেভাবে কমোডিটি কেনাবেচা করা হয় আগের পর্বে একটা প্রশ্ন ছিল, কমোডিটি মার্কেটে আমিন সাহেবের মত ছোটখাট ট্রেডারদের ভূমিকা কি? তাদের কাজ কি? তারা না হয় ,অনলাইনে কমোডিটি কিনলও, কিন্তু ডেলিভারীই বা কিভাবে নিবে আর বাজারে বিক্রিই বা কিভাবে করবে? এ পর্বে এ বিষয়গুলো আমরা জানব। সাথে আরো জানব, কমোডিটি মার্কেট ব্রোকারের কাজ কি। আপনি অনলাইনে কমোডিটি কিনতে চাইলে আপনাকে কোন একটি ব্রোকারের সহায়তা নিতে হবে যেটি কোন একটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সদস্য। এরকম অসংখ্য ব্রোকার রয়েছে। আজকাল ফরেক্স ব্রোকাররাও কমোডিটি ট্রেড করার সুবিধা দেয়, কেননা ট্রেডাররা স্মার্ট হচ্ছে। তারা এখন আর "All eggs in one basket" নীতিতে বিশ্বাসী না। যেহেতু, হাতের নাগালেই ট্রেড করার মত বিভিন্ন অপশন রয়েছে, তাই কোন ট্রেড ওপেন করার আগে তারা দেখতে চান, এই মুহূর্তে কোনটি ট্রেড করলে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কোন কারেন্সি, নাকি কোন কমোডিটি? প্রশ্ন হচ্ছে, ফরেক্স ব্রোকাররা কিভাবে কমোডিটি কেনাবেচা করতে সহায়তা করে? যেসব ফরেক্স ব্রোকাররা কমোডিটি ট্রেড করার সুবিধা দেয়, তারা সাধারণত কোন না কোন কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সদস্য। এক্ষেত্রে, ব্রোকারের কাজ হল কমোডিটি বায়ার ও সেলারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। ব্রোকার চাইলে নিজেও কমোডিটি বাই সেল করতে পারে। এখন, আপনি যখন কোন কমোডিটি বাই করেন, যেমন ধরুন, স্বর্ণ কিনলেন, তখন আপনি তা ব্রোকার থেকে কিনলেন। এক্ষেত্রে, আপনি হচ্ছেন বায়ার আর ব্রোকার হচ্ছে সেলার। এখন, আপনার আর ব্রোকারের মধ্যে কমোডিটি বেচাকেনা কি শর্তে হচ্ছে, তা ব্রোকারের "Terms and Conditions" পড়লে বুঝতে পারবেন। বিভিন্ন ব্রোকারের নিয়ম বিভিন্ন রকম। যেমন ধরুন, সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, আপনি কোন কমোডিটি কেনার সময়েই ব্রোকারের সাথে আপনার চুক্তি হয়ে গেল যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট প্রাইসে আপনি কমোডিটি কিনছেন। ধরুন, এই সময়টি তিন মাস। তাহলে, তিন মাস পরে কি হবে? তিন মাস পরে আপনি ব্রোকারকে পুরো টাকা দিবেন আর ব্রোকার আপনাকে আপনার কমোডিটি দিয়ে দিবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্রোকার এই কমোডিটি কোথা থেকে দিবে? সহজ উত্তর হচ্ছে, ব্রোকার আরেকজনের থেকে কিনে আপনাকে দিবে। ব্রোকারের কাজই হচ্ছে বাই আর সেল করা। আপনার থেকে যা কিনবে, তা আরেকজনের কাছে বিক্রি করবে, আর আরেকজনের কাছ থেকে যা কিনবে, তা আপনার কাছে বিক্রি করবে। যেহেতু, প্রত্যেকটি ব্রোকারেরই অসংখ্য ক্লায়েন্ট থাকে, তাই ব্রোকার সহজেই আপনার কাছে কমোডিটি বিক্রি করার চুক্তি করলে আরেকজনের কাছ থেকে কমোডিটি কেনার চুক্তি করবে। এখন, তিন মাস পরে আপনি যে ব্রোকারকে পুরো টাকা দিবেন, তার নিশ্চয়তা কি? আর ব্রোকার যার থেকে কমোডিটি কিনবে, সেও যে সময়মত কমোডিটি ডেলিভারী করবে, তারও বা নিশ্চয়তা কি? তাই, ব্রোকার উভয়ের থেকেই একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখে। এটা সাধারণত যত টাকার কমোডিটি কিনবেন, তার উপর নির্ভর করে। যেমন, শতকরা ৫%। এটাকেই মার্জিন বলে। কিন্তু, এই সিকিউরিটি ডিপোজিট বা মার্জিন নেবার পরেও কিন্তু ব্রোকার ঝুঁকিতে আছে। জানতে চান, কিভাবে? ধরুন, প্রতি আউন্স গোল্ড ১০০০ ডলার, এই রেটে আপনি ১ আউন্স গোল্ড কিনলেন ব্রোকার থেকে। শর্ত হচ্ছে, ব্রোকার এই গোল্ড ডেলিভারি দিবে ৩ মাস পরে। এখন, ৩ মাস পরে গোল্ডের দাম যাই থাকুক না কেন, ব্রোকার আপনাকে এই ১ আউন্স গোল্ড ডেলিভারি দিতে বাধ্য, আর আপনি বাধ্য ব্রোকারকে ১০০০ ডলার দিতে। ধরুন, ১ মাস পরে গোল্ডের দাম কমে দাঁড়ালো আউন্স প্রতি ৮০০ ডলারে। অর্থাৎ, আউন্সপ্রতি দাম ২০০ ডলার কমে গিয়েছে। এখন, ১০০০ ডলারের ৫% হিসেবে আপনি মার্জিন বা সিকিউরিটি ডিপোজিট দিয়েছেন মাত্র ৫০ ডলার। চুক্তি করেছেন, বাকিটা গোল্ড ডেলিভারির সময় নিবেন। উন্নত বিশ্বে, এই চুক্তির দাম আছে। একবার চুক্তি করার পরে আপনি গোল্ড এই দামে নিতে বাধ্য। যদি, তিন মাস পরে গোল্ডের দাম কমে আউন্সপ্রতি ৫০০ ডলারও হয়ে যায়, তারপরেও আপনাকে ৫০০ ডলার বেশি দিয়ে হলেও ১০০০ ডলারেই নিতে হবে। ৫০ ডলার গেলে যাক, ব্রোকার থেকে গোল্ড নিবই না। এমনটা ভেবে যে এড়িয়ে যাবেন, তারও কোন উপায় নেই। ব্রোকার টাকা না পেলে মামলা করে দিবে আপনার নামে। আদালতে গেলে আপনি টাকা দিতেই হবে, তা নাহলে জেলে যেতে হবে। কিন্তু, যদি অনলাইনে এই গোল্ড কেনার চুক্তি করে থাকেন, অনেক দূরের কোন দেশের ব্রোকারের সাথে, তাহলে? ব্রোকার আপনাকে পাবে কোথায়? আপনি তো চাইলেই উধাও হয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ব্রোকারকে তো ঠিকই এই ১ আউন্স গোল্ডের জন্য কাউকে না কাউকে ১০০০ ডলার দিতে হবে। তখন? ব্রোকারদের বোকা ভাবার কোন কারন নেই। বরং, আমার আপনার থেকে অনেকগুন চালাক লোক আছে ব্রোকারে। তারাও এমন সিস্টেম বের করে রেখেছে যে, ব্রোকার এরকম কোন ঝুঁকিতে পড়বে না। সেটা কিভাবে? সহজ। আপনি যখনই ব্রোকারের সাথে গোল্ড কেনার অর্ডার দিচ্ছেন, তখনই তার মালিক আপনি। সিকিউরিটি ফি বা মার্জিন হিসেবে গোল্ডের পুরো দামের একটি অংশ ব্রোকারকে দিয়েছেন, বাকিটা দিবেন ডেলিভারির পরে। এখন, যদি গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার বাড়ে, তাহলে আপনি যে এক আউন্স গোল্ডের মালিক, তার দাম এখন আর ১০০০ ডলার না, ১১০০ ডলার। ব্রোকারের কাছে চাইলেই আপনি যেকোন সময় এই কেনা গোল্ড আবার বিক্রি করে দিতে পারবেন ডেলিভারির আগেই। সেক্ষেত্রে, ব্রোকার তার ফি কেটে রেখে আপনাকে আপনার লাভ বুঝিয়ে দিবে। অর্থাৎ, আপনার অ্যাকাউন্ট এ ৯৮ ডলার যোগ হয়ে যাবে, সাথে মার্জিন হিসেবে যে টাকা কেটে রাখা হয়েছিল, তাও ফেরত দেয়া হবে। (ধরলাম, ব্রোকারের ফি হচ্ছে আউন্সপ্রতি ২ ডলার, ১০০ ডলার-২ ডলার=৯৮ ডলার)। কিন্তু, ব্রোকারে যে আরেকজনের থেকে আপনার জন্য গোল্ড কেনার কথা? চিন্তার কারন নেই, ব্রোকার আরেকজনের সাথে গোল্ড বেচার চুক্তি করে নিবে বর্তমান প্রাইস অনুসারে। সেক্ষেত্রে, এখন যে ব্রোকার থেকে গোল্ড কিনবে, সে কিনবে প্রতি আউন্স ১১০০ ডলার দরে, আর ব্রোকার তো আগেই ১০০০ ডলার দরে গোল্ড কিনার চুক্তি করে রেখেছে। আর যদি দাম কমে? ধরুন, প্রতি আউন্স গোল্ডের মূল্য ৫০ ডলার কমে গেলো। আপনি মার্জিন দিয়েছেনও ৫০ ডলার। এখন যদি আরো কমে যায়, তাহলে তো আপনি পরে ওই গোল্ড আর না নিলে ব্রোকার বিপদে পড়বে। তাই, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া থাকে যে এরকম ক্ষেত্রে ব্রোকার সাথে সাথেই বা তারও আগে আপনাকে ইনফর্ম করবে আরো ডিপোজিট দেওয়ার জন্য। এজন্যেই অ্যাকাউন্টে মার্জিন এর বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ রাখতে হয়। ব্রোকার সাথে কমোডিটি কেনার সময়েই আপনি চুক্তি করেছেন যে, কোন কারনে যদি দাম কমে যায় তাহলে আপনি আরো ডিপোজিট মানি দিবেন যাতে কোন অবস্থাতেই আপনার টোটাল ডিপোজিট মানি থেকে টোটাল লস বেশি না হয়। এমনটা হলেই, ব্রোকার সঙ্গে সঙ্গে আপনার জন্য বেশি দামে কেনা গোল্ড আবার বাজারে বাজারমূল্যে (কম দামে) বিক্রি করে দিবে, মানে আপনার ট্রেড ক্লোজ হয়ে যাবে। ব্রোকার তখন হিসাব করবে তার লস কত হল আর আপনি ডিপোজিট মানি মোট কত দিয়েছেন। আপনার দেয়া মোট ডিপোজিট মানি থেকে ব্রোকার তার লস আর ফি কেটে রেখে বাকি টাকা আপনাকে ফেরত দিবে। এখন, ব্রোকারের লস আর ফি মিলিয়ে যদি সর্বমোট ১০০ ডলার হয় আর আপনার দেয়া ডিপোজিট মানিও ১০০ ডলারই হয়, তাহলে আপনি লস+ফি কেটে নেয়ার পরে কিছুই ফেরত পাবেন না। আর যেহেতু ব্রোকার সবসময়েই তার লস আপনার ডিপোজিট মানি থেকে বেশি হবার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে দিবে, তাই ব্রোকারেরও লস হবার সম্ভাবনা নেই। (কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্রোকারও লসের সম্মুক্ষীন হতে পারে, সেটা আরেকদিন আলোচনা করব) কিছু কিছু ব্রোকার কমোডিটির ফিউচার কন্ট্রাকের ডেলিভারির তারিখের দিনে পন্য ডেলিভারি করে দেয় অথবা আপনাকে সুযোগ দেয় পন্য ডেলিভারি না নিয়ে লাভ বা লস যেটা হয়েছে, সেই টাকাটা নিয়ে নিতে। আর অনেক ব্রোকার তাদের ক্লায়েন্টদেরকে পন্য ডেলিভারীর বদলে ওই দিন ওই কমোডিটির যে মূল্য সেই অনুসারে লাভ বা লস বুঝিয়ে দেয়। ক্লায়েন্ট তখন ওই টাকা দিয়ে চাইলেই ওই পরিমান কমোডিটি বাজার থেকে কিনে নিতে পারে। অনলাইন ব্রোকারগুলোর পক্ষে যেহেতু বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদেরকে পন্য ডেলিভারী দেওয়া সম্ভন হয় না, তাই তারা দ্বিতীয় পন্থাতেই কাজ করে। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফিউচার কন্ট্রাক্টের মেয়াদ অনেক দীর্ঘ থাকে। ট্রেডাররা তাদের সুবিধামত তার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে লাভ বা লস বুঝে নেয়। তাহলে বুঝতে পারলন, ব্রোকারদের মাধ্যমে কিভাবে আমরা কমোডিটি বেচাকেনা করে থাকি। অনেকে জানেন না, আসলে কিভাবে আমরা ফরেক্স ব্রোকারদের সাথে কারেন্সি বেচাকেনা করে থাকি। আশা করি, এখন আপনি দুটোই বুঝতে পারেছেন। কমোডিটি ট্রেড করতে হলে আপনাকে আলাদা করে টেকনিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস শিখতে হবে না, এটা ফরেক্স ট্রেডিং এর মতই। তবে, বেশ কিছু বেসিক জিনিস জানা বেশ জরুরী। তা না হলে, আপনি সঠিকভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট করতে সম্যসায় পড়বেন এবং ভুল ট্রেড ওপেন করবেন। এই নিয়েই লিখব পরবর্তীতে। সাথে আরো থাকবে কমোডিটি ট্রেডিং এর বিভিন্ন টিপস। আপনার ট্রেডিং শুভ হোক। লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে বা কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে, অবশ্যই জানাবেন। ভালো থাকুন।
  3. ২৮ এমবি এর বই। এত বড় বই পড়ে শেষ করতে পারবে কয়জন!
  4. কি খবর কাজল ভাই? অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে।
  5. কই ছিল ইংল্যান্ড এর এখন কই। ২০০ বছর উপমহাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে সম্পদ লুটপাট করে চলেছে, কারেন্সিও শক্তিশালী ছিল। সে দিন আর নেই, সেই শক্তিশালী কারেন্সিও আর নেই। তারপরেও দীর্ঘ সময় ধরে GBP/USD, EUR/USD থেকে শক্তিশালী ছিল। আশা করি পাউন্ড একসময় ইউরো থেকেও দুর্বল হবে।
  6. কমোডিটি ট্রেডের জন্য জানার আছে আরো অনেক কিছু।
  7. ব্রিটিশরা আসার ফলে শুধুমাত্র ইংরেজি শিখে আমাদের আদৌ কি লাভ হয়েছে তা ভাবনার বিষয়। সেই মাতৃভাষার জন্য প্রান দেওয়া হল, অফিস আদালতে আজ তা অনুপস্থিত। তবে, ব্রিটিশরা যে পরিমানে সম্পদ চুরি করে দিয়ে আর পুরো উপমহাদেশকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে, সেই ক্ষতি পোষানো সহজ নয়। সামগ্রিকভাবে আগের মত শক্তিশালী ব্রিটেন আর নেই, তাই ইউ থেকে বের হয়ে গেলেও বড় ভুল করবে। ব্যবসা বানিজ্যে তখন ইউরোপে জার্মানির কাছে আরো মার খাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, অন্তত জার্মানরা তাদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইউতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে আর সহজে ব্যবসা করতে দিবে না। ব্রিটেন বের হয়ে গেলে আমি দীর্ঘ সময়ের জন্য GBP/USD তে বিয়ারিশ আমি।
  8. আপনার অ্যানালাইসিস ভালো লেগেছে। যেহেতু, অধিকাংশ ব্রোকারই জিবিপি পেয়ারগুলোর লেভারেজ কমিয়ে দিচ্ছে, তাই ট্রেড করার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো ক্যাপিটাল অনেক বেশি না থাকলে। আর ফন্টের দিকে একটু লক্ষ্য করবেন, লেখায় ফন্ট অনেক জায়গায় ভেঙ্গে যাওয়ায় পড়তে সমস্যা হচ্ছে।
  9. ব্রিটেন ইউরোজোনে থাকার চেয়ে না থাকলে ফরেক্স ট্রেডারদের লাভ বেশি। কেননা, ব্রিটেন যদি ইউ ছেড়ে চলে যায়, তাহলে এটা একপ্রকার নিশ্চিত যে, পাউন্ড বেশ দুর্বল হবে। তবে, যদি ব্রিটেন ইউতে থেকে যায়, তবে পাউন্ড কতটা শক্তিশালী হবে, তা বলা কঠিন। তবে, আমরা ফরেক্স ট্রেডাররা বাদে, প্রায় সবার জন্যই ব্রিটেন ইউতে থাকলে ভালো।
  10. যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি ছোট্ট গ্রামের তরতাজা তরুণ ডেভিড ক্লে। পেশায় একজন কৃষক। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নিজের ৪০ বিঘা জমিতেই বিভিন্ন ফসলের চাষ করে সে। গত মাসেই ধানের বীজ বপন করেছে, তড়তড়িয়ে বেড়ে উঠছে ধানের চারাগুলো। ফসল ক্ষেতে আসলেই তা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় ডেভিডের। আরও ৩ মাস, এরপরেই ধান তোলা যাবে, মনে মনে হিসাব কষলেন সে। প্রতি বিঘায় ২৫ মন করে প্রায় ১০০০ মন ধান বিক্রির আশা করছে সে। এ মাসের শুরু থেকেই হুহু করে ধানের দাম বাড়ছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও মনপ্রতি দাম ১০ ডলার থাকলেও,এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ ডলারে। গতবারও মৌসুম শেষে প্রতিমন ধান ডেভিড বিক্রি করেছে ১০.৮২ ডলারে। এবার বেশ ভালোই লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে আরো বেড়েছে ধানের দাম। প্রতি মনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.২৫ ডলার। খরার কারনে এবার নাকি ধানের দাম আরো অনেক বাড়তে পারে। দুদিনের মাথাতেই প্রতি মন ধানের দাম গিয়ে ঠেকল ১৩ ডলারে। আরও বাড়বে নাকি, এ নিয়ে দ্বিধাধন্দে ভোগা শুরু করল ডেভিড। ক্ষেতের ধান পুরোপুরি পাকবে আরো তিন মাস পরে। তখন দাম আরও বাড়তে পারে। কিন্তু, রিস্ক নিতে চাইল না সে। এক ব্রোকারের সাথে যোগাযোগ করে ফিউচার কন্ট্রাকের মাধ্যমে ১০০০ মন ধানই মনপ্রতি ১৩ ডলারে, মোট ১৩০০০ ডলারে বিক্রি করার চুক্তি করল। তবে, এই ১৩০০০ ডলার সে এখনই পাবে না, সে এটা পাবে তিন মাস পরে তার ধান বিক্রির সময়। তখন, ধানের দাম আরো বাড়ুক অথবা আরো কমুক, বিক্রেতার কাছ থেকে ডেভিড ১৩,০০০ ডলারই পাবে। অর্থাৎ, সে সময়ের বাজার দরে বিক্রি না করে, অগ্রীম দামে বিক্রি করেছে সে। বর্তমান মন প্রতি ১৩ ডলার থেকে যদি দাম আরো বাড়ে সেক্ষেত্রে ক্রেতার লাভ, আর কমে গেলে ডেভিডের লাভ। এতটুকু পড়ে আমিন সাহেব বুঝলেন যে, ডেভিড কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। এখন যে দাম, তাতেই সে খুশি। তাই, এই দামেই সে সব ধান অগ্রীম বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ডেভিড তো ধান বিক্রির টাকা এখন পেলো না, পাবে ৩ মাস পর। তখন দাম কমে গেলে ক্রেতা যদি এই ধান কিনতে না চায়, তখন? একবার চুক্তি করার পর ওই দামে কিনতেই হবে, এমন কোন আইনী বাধ্যবাধকতা আছে নাকি? আর ফিউচার কন্ট্রাক্টই বা কি? কন্ট্রাক্ট মানে চুক্তি হলে ফিউচার কন্ট্রাক্টের মানে দাড়ায় ভবিষ্যতের চুক্তি। আসল মানে হচ্ছে, একজন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে এমন একটি চুক্তি হওয়া, যেখানে ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট দামে একটি নির্দিষ্ট সময় পর কোন কিছুর কেনার চুক্তি করে। যেমন, এখানে ডেভিডের ক্রেতা তার কাছ থেকে তিন মাস পরে ১০০০ মন ধান কেনার চুক্তি করেছে প্রতি মন ১৩ ডলারে। যেহেতু, চুক্তিটি ভবিষ্যতের জন্য করা হচ্ছে এবং এখনই বিক্রেতা ক্রেতাকে পন্য ডেলিভারি করছে না, তাই এটাকে ফিউচার কন্ট্রাক্ট বলা হয়। উল্লেখ্য, এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই চুক্তিকৃত মোট অর্থের একটা অংশ জামানত দিতে হয়, একে মার্জিন বলে। এখন, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যদি কোন বিবাদ বাধে, তাহলে তার সমাধান কে করবে? উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই কমোডিটি ফিউচার এক্সচেঞ্জ রয়েছে। সকল কমোডিটি ট্রেডই এই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হতে হবে। প্রত্যেকটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের আবার নিজস্ব ক্লিয়ারিং হাউস থাকে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যে চুক্তি হচ্ছে , তা কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সব নিয়ম কানুন মেনে হচ্ছে কিনা এবং ভবিষ্যতে যেন এই চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন হয়, (বিক্রেতা যে ক্রেতাকে ঠিকমত পন্য সরবরাহ করছে এবং ক্রেতাও যে ঠিকমত পুরো টাকা পরিশোধ করছে) তা নিশ্চিত করা। কোন কমোডিটি ট্রেড করতে হলে ওই এক্সচেঞ্জের সদস্য হতে হবে বা ওই এক্সচেঞ্জের কোন সদস্যের সহায়তায় (ব্রোকার) ট্রেড করতে হবে। এইসব ক্ষেত্রে ব্রোকাররা নিজেরাই কমোডিটি বেচাকেনা করে অথবা অন্য কোন ট্রেডারের পক্ষে কমোডিটি কেনাবেচার করে তাদের নির্ধারিত ফির বিনিময়ে। ছোটখাট বা রিটেইল ট্রেডাররা সাধারণত কোন ব্রোকারের সহায়টাতেই কমোডিটি কেনাবেচা করেন। অনলাইনে বা সরাসরি নিজে উপস্থিত থেকে, দুভাবেই এটা করা যায়। আর কমোডিটি মার্কেট নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থাও থাকে যারা এই মার্কেটে ট্রেড করার বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার এক্সচেঞ্জের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল সিএফটিসি (Commodity Futures Trading Commission (CFTC))। যারা কমোডিটি ট্রেড করেন, তারা সিএফটিসির নাম প্রায়ই শুনে থাকবেন। তাহলে বোঝা গেল, ফিউচার কন্ট্রাক্ট কি আর কমোডিটি মার্কেটে ফিউচার কন্ট্রাক্ট কিভাবে করতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যে উৎপাদক সে না হয় তার পন্য আগেভাগেই এই কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কোন এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিল। তাহলে, এই মার্কেটে আমিন সাহেবের মত ছোটখাট ট্রেডারদের ভূমিকা কি? তাদের কাজ কি? তারা না হয় ,অনলাইনে কমোডিটি কিনলও, কিন্তু ডেলিভারীই বা কিভাবে নিবে আর বাজারে বিক্রিই বা কিভাবে করবে? এই নিয়েই বিস্তারিত থাকছে পরের পর্বে।
  11. রমযান মাসে রোজা রেখে বাজার করা এমনিতেই কস্টের, তার থেকেও বেশি কস্ট লাগে, যখন আমিন সাহেব দেখেন হুহু করে বাড়ছে সব পণ্যের দাম। সেই যে রমজান আসার আগেই দাম বাড়া শুরু করে, ঈদের আগ পর্যন্ত তা চলতেই থাকে। মানুষ কেন যে শুধু না খেয়ে থাকাটাকেই সংযম মনে করে, সেটাই বুঝতে পারেন না আমিন সাহেব। আরও যেটা বুঝতে পারেন না, তা হল শুধু বাংলাদেশেই কি রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়ে নাকি পুরো বিশ্বেই পণ্যের দাম কিছুটা বাড়ে এই সময়ে? আমিন সাহেব একবার ভাবলেন, চিনির দাম যেভাবে বাড়ে রমজান মাসে,আগে থেকে কি বেশি করে চিনি কিনে রাখা যায় না? তিনি জানেন যে, মজুদদারী হারাম। তারপরেও, আগে থেকে বেশি করে চিনি কিনে রেখে তো রমজানের সময় বাজারমুল্যের থেকে বেশ খানিকটা কম মূল্যে বিক্রি করলেও তো মানুষের উপকার হয়, আর নিজেরও কিছুটা লাভ হয়। বাংলাদেশে এক কেজি চিনির দাম এখন ৮০ টাকা। আন্তর্জাতিক বিশ্বে এর দাম কত? বাসায় গিয়েই চেক করতে হবে, বাজার করতে করতে ভাবলেন আমিন সাহেব। ইন্টারনেটে চিনির মূল্য চেক করতে গিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য পেলেন আমিন সাহেব, যা দেখে তো তার মাথা তো চড়কগাছ। "ওয়াও, অনলাইনে চিনিও ট্রেড করা যায়।" আরও জোরে ওয়াও বললেন, যখন দেখলেন তার প্রিয় ফরেক্স ব্রোকারই চিনি ট্রেড করার সুযোগ দিচ্ছে। এ নিয়ে আরো বিস্তারিত ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলেন, অনলাইনে শুধুই চিনি না, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই, যেমন সয়াবিন তেল, আটা, চিনি, কফি থেকে শুরু করে স্বর্ণ, রুপা সবকিছু ট্রেড করা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ে কমে। আর এগুলোকে বলে কমোডিটি। একদম কারেন্সির মতই এসব কমোডিটিকে ট্রেড করা যায়। বাই যেমন করা যায়, তেমনি সেলও করা যায়। মজার ব্যাপার হল, EUR/USD, GBP/USD এর মত এই কমোডিটিগুলোরও বিভিন্ন টাইমফ্রেমের চার্ট রয়েছে, Indicator ও EA গুলোও একইভাবে কাজ করে। বাহ, আমি এখন থেকে ট্রেড করার মত আরও বেশি অপশন পেলাম। কমোডিটিগুলোর স্প্রেডও তেমন বেশি না দেখে উৎসাহ বাড়ল আমিন সাহেবের। সিদ্ধান্ত নিলেন, এখন থেকে কমোডিটিও ট্রেড করবেন তিনি, EUR/USD ট্রেড করার পাশাপাশি। তবে, করব বললেই তো আর করা যায় না। কোন খোঁজখবর না নিয়ে স্রেফ ঝোঁকের বশেই কোন কিছু শুরু করার পক্ষপাতী নন আমিন সাহেব। তাই ভাবলেন এ নিয়ে আরো পড়াশোনা করবেন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ কমোডিটি নিয়ে পড়াশোনা শেষে কি কি জানলেন আমিন সাহবে, চলুন দেখে নেই এক নজরে। কমোডিটি কি? কৃষিপণ্য অথবা কাচামাল, যেগুলো মূলত কেনাবেচা করা যায় এবং উত্পাদকভেদে মোটামুটি গুনগত মান একই থাকে, সেগুলোকে অর্থনীতির ভাষায় কমোডিটি বলে. যারা দীর্ঘদিন ধরে ফরেক্স ট্রেড করছেন, তারা কমবেশি কমোডিটি শব্দটির সাথে পরিচিত। কমোডিটি পন্যগুলোর একটি বিশেষত্ব হল, উত্পাদনকারী যেই হোক না কেন, তাতে পণ্যের তেমন একটা হেরফের হয় না। এই পণ্যগুলো সাধারনত কাচামাল হিসেবে অন্য পণ্যের উত্পাদনে ব্যবহৃত হয়। স্বর্ণ, রুপা, জালানী তেল, খনিজ পণ্য, চা, চিনি, শস্য, যেমন - চাল, ডাল, গম, এসবই কমোডিটি পন্যের উদাহরণ। তবে, পোশাক আশাক , ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ইত্যাদি কিন্তু কমোডিটি পণ্য নয়, কেননা এগুলো একেক উত্পাদক একেক রকম ভাবে বানায়। কিন্তু, বাসমতি চাল বিশ্বের যেখানেই উত্পন্ন হোক না কেন, তাতে খুব বেশি হেরফের হয় না। কমোডিটি দুই ধরনের। হার্ড কমোডিটি ও সফট কমোডিটি। নামেই বোঝা যাচ্ছে, পার্থক্যটা কি। সাধারণত গবাদি ও কৃষিজাত পন্যকে সফট কমোডিটি (soft commodity) বলে, যেমনঃ ভুট্টা, গম, কফি, চিনি, সয়াবিন, গরুর মাংস ইত্যাদি। আর হার্ড কমোডিটি হল সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ যেগুলোকে খনি থেকে উত্তোলন করা হয়, যেমনঃ স্বর্ণ, তেল, রুপা, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি। কমোডিটি মার্কেট কি? সহজভাবে বললে, যে মার্কেটে কমোডিটি বেচাকেনা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৫০ টি প্রধান কমোডিটি মার্কেটে ১০০ টিরও বেশি কমোডিটি কেনাবেচা করা হয়। সময়ের সাথে সাথে অনলাইনে কমোডিটি কেনাবেচার পরিমাণ বাড়ছে। কমোডিটি কিভাবে কেনাবেচা হয়? নানাভাবেই কমোডিটি কেনাবেচা করা হয়। কৃষক যখন তার ক্ষেতের ধান আরেকজনের কাছে বিক্রি করছেন, সেটাকেও কিন্তু কমোডিটি বেচাকেনা বলে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরের পর্বে। সামনের পর্বগুলোতে আরো থাকছে কমোডিটি নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু।
  12. কাজল আহমেদ, আপনার প্রব্লেম কি সলভড হয়েছে?
  13. ফরেক্সের ইতিহাস তুলে ধরার চেস্টা করেছি সংক্ষেপে এই টপিকে। গোল্ড ষ্ট্যাণ্ডার্ড সম্পর্কে পরের পোস্টে আলোচনা থাকবে, যেটাকে আমি মর্ডান ফরেক্সের অন্তর্ভুক্ত করেছি। তারও আগে ফরেক্স ট্রেডিং কিভাবে হত বা কিভাবেই বা এর সূচনা হয়েছিল, এই পোস্টে মূলত সেটিই আলোচনা করেছি। মানুষ সভ্য হওয়ার পর থেকেই পণ্যের বিনিময়ে পণ্য কেনাবেচা শুরু করলেও কারেন্সি বা মুদ্রার উদ্ভব তার বেশ পরে এবং কারেন্সি কেনাবেচা শুরু হয় তারও অনেক পরে। মানি এন্ড এম্পপ্লয়মেন্ট থিওরি সম্পর্কে সংক্ষেপে বিডিপিপসে কিছু লেখার অনুরোধ রইল।
  14. ধন্যবাদ! আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ! আশা করি এই পোস্টটিও আপনাদের ভালো লাগবেঃ ফরেক্সের ইতিহাস - কিভাবে এলো ফরেক্স ট্রেডিং?
  15. পাঠক, আমি সেই ২০০ খ্রিস্টাব্দের কথা বলছি … ঈসা (আঃ) এর আগমনের দুই শতাব্দী পরেও যখন ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাল্মুদ সংকলনের কাজ চলছিল, তখনকার কথা। ইহুদীদের ৭ টি পবিত্র দিন ফিস্টের সময়গুলোতে ইসরাইলের জেরুজালেমের টেম্পলস কোর্ট অফ দ্যা জেন্টাইলসের কাছে কিছু লোককে বসে থাকতে দেখা যেত। কিছু কমিশনের বিনিময়ে এই লোকগুলো উৎসবে আগত মানুষদেরকে মুদ্রা পরিবর্তন করে দিত। ইতিহাস বলছে, মুদ্রা পরিবর্তন থেকেও যে লাভ করা যায়, এমন ধারনার সূচনা এখান থেকেই সর্বপ্রথম এসেছে। চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দে তো পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের সরকার কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এর জন্য একটি প্রতিষ্ঠানই চালু করেছিল। শুধুমাত্র ওই প্রতিষ্ঠানটিই মুদ্রা পরিবর্তন করতে পারত বলে তা সরকারের মনোপলি ব্যবসায় পরিণত হয়েছিল। পাঠক, আপনার কৌতূহলী মন হয়ত ইতিমধ্যেই জানতে চাচ্ছে, এত এত বছর আগে মানুষের কি দরকার পড়ত মুদ্রা পরিবর্তনের? আর তখনকার দিনে মুদ্রা পরিবর্তনের রেটই বা কিভাবে নির্ধারিত হত? তখনকার মানুষও কিন্তু ব্যবসার প্রয়োজনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেত। স্বভাবতই, এক দেশের মুদ্রা অন্য দেশে আর কাজ করত না। তাই, দেশ ত্যাগের পূর্বে মানুষ স্বর্ণ বা রুপা কিনে নিয়ে তা অন্য দেশে বিক্রি করে ওই দেশের কারেন্সি কিনে নিত। আর এই বিড়ম্বনা দূর করার জন্যই কমিশনের বিনিময়ে কিছু লোক সরাসরি এক দেশের মুদ্রাকে অপর দেশের মুদ্রায় পরিবর্তন করে দিত। আর দর নির্ধারিত স্বর্ণ বা রুপার বিনিময়ে কোন দেশের মুদ্রা কতখানি পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতে। এরও ১০০০ হাজার বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত তেমন কোন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেনি মুদ্রা পরিবর্তন বাজারে। এর জন্য দরকার ছিল একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার। ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নে পৃথিবীতে সবচেয়ে ভূমিকা রেখেছে ইতালিয়রা। ১৪ শ শতাব্দীতে ইতালীর বিভিন্ন প্রভাবশালী ধনী পরিবার অনেকগুলো ব্যাংক ওপেন করে। এগুলোর মধ্যে ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় বোধহয় ১৩৯৭ সালে মিদিচি পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত Medici Bank, যা প্রায় ১০০ বছর টিকে থাকে। এই পরিবারটি কত ধনী ছিল, তা বোঝানোর জন্য একটি বাক্যই যথেষ্ট। একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে পুরো ইউরোপের সবচেয়ে সম্পদশালী পরিবার ছিল মিদিচি পরিবার। নিজেদের ব্যবসা এবং টেক্সটাইল মার্চেন্টদের প্রয়োজনে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্রাঞ্চ ওপেন করে ব্যাংকটি। ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুবিধার্থে চালু করে “Nostro” অ্যাকাউন্ট বুক, ইতালীয় ভাষায় Nostro শব্দের অর্থ “আমরা”। এই “Nostro” অ্যাকাউন্ট বুক ব্যবসায়ীদের লোকাল কারেন্সিতে তাদের ব্যালেন্স ও বৈদেশিক ব্যাংকের বৈদেশিক ব্যালেন্স, দুটোই দেখাত, আর সুবিধা দিত কারেন্সি একচেঞ্জ এরও। ফলে, ব্যবসায়ীদের পক্ষে বিদেশে ব্যাবসা করা আরও সহজ হয়ে উঠে। ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি বড় ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ইতালির তুস্কানীতে। মন্টে দেই পাস্কি দি সিয়েনা নামের এই ব্যাংকটি কিন্তু আজও টিকে আছে। শুধু তাই নয়, এটি বর্তমানে ইতালির তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক এবং টিকে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ব্যাংক। ১৭ ও ১৮ খ্রিস্টাব্দতে নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে একটি সক্রিয় ফরেক্স মার্কেট ছিল। ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে তখন বিপুল পরিমানে বৈদেশিক বাণিজ্য হত। এই ফরেক্স মার্কেটে দেশদুটির মার্চেন্ট ও এজেন্টদের মধ্যেই মূলত কারেন্সির আদান প্রধান হত। পাঠক, আপনি এতক্ষন জেনেছেন ফরেক্স ট্রেডিং এর প্রাচীন যুগের কথা, যেখানে না ছিল ইন্টারনেট, না ছিল ঘরে বসে ট্রেড করার সুবিধা। মূলত ব্যবসায়ীরাই নিজেদের ব্যাবসার প্রয়োজনে ফরেক্স মার্কেট থেকে এক দেশের মুদ্রা পরিবর্তন করে অন্য দেশের মুদ্রা নিতেন। লিকুইডিটি সুবিধা ছিল না, ছিল না যখন তখন ট্রেড করার সুবিধাও। এমনকি এখনকার মত এত দেশের কারেন্সিও একজায়গায় এক্সচেঞ্জ করা যেত না। দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে অস্টদশ শতাব্দী পর্যন্ত যেখানে শামুকের গতিতে ফরেক্স মার্কেটের উন্নয়ন ঘটেছে সেখান থেকে কিভাবে মাত্র দুই শতাব্দি পরে এতটা সহজ হয়ে গিয়েছে ফরেক্স ট্রেড করা? এ নিয়েই আমরা জানব পরের পর্বেঃ ফরেক্সের ইতিহাস - যেভাবে এলো মর্ডান ফরেক্স ট্রেডিং ফরেক্সের মজার কিছু বিষয়

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×