Jump to content

shopnil

Moderators
  • Content count

    340
  • Joined

  • Last visited

  • Days Won

    82

shopnil last won the day on July 14

shopnil had the most liked content!

Community Reputation

538 Excellent

About shopnil

  • Rank
    মডারেটর

Profile Information

  • Gender
    Male
  • লোকেশন
    ঢাকা
  • Interests
    ফরেক্স, MQL প্রোগ্রামিং
  1. মার্কেট এনালাইসিসও যে এত সুুুুন্দর ও মজা করে করা যায়, সেটা দেখে ভালো লাগলো। এরকম এনালাইসিস নিয়মিত দিলে তো মানুষ এনালাইসিসগুলো একটু পড়ে দেখতো। চার্টকে অতিভক্তি (!) করতে গিয়ে সবাই পাশ কাটিয়ে চলে যায়!
  2. ট্রেডিং সাইকোলজি এবং ম্যানি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করে জানুন এবং সাথে ট্রেডিং সাইকোলজিটা ভালো করে বুঝুন। মার্কেটে টিকে থাকতে আপনার এগুলোই যথেষ্ট। এরপর যখন যেটা নিয়ে ট্রেড করবেন, আস্তে আস্তে সেটা সম্পর্কে একটু ধারনা নিলে ট্রেড করতে সুবিধা হবে।
  3. Crude Oil বা ক্রুড তেল বলতে যে অপরিশোধিত তেলকে বোঝায়, তা আমরা জানি। “তেল নিয়ে তেলসামাতি” পড়ে থাকলে আপনি এটাও জানেন যে বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে Brent Crude, WTI Crude এবং Opec Basket Crude সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যে, এই তেলগুলো কি জিনিস সেটা জেনে আমার কি লাভ? সত্যি বলতে তেমন কোন লাভ নেই, তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কোন আলোচনায় যাবো না। কিন্তু, তেলের যে বিভিন্ন ধরন আছে, আর কোনটা কি, তা জানার দরকার আছে। না জানলে কি ঝামেলায় পড়বেন, তা নিচের উদাহরন দেখলেই বুঝতে পারবেনঃ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপরিশোধিত তেল হচ্ছে Brent Crude (মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের দুই তৃতীয়াংশই হচ্ছে Brent Crude বা ব্রেন্ট ক্রূড)। আর XM এ Brent Crude Oil এর নাম হচ্ছে Brent, মানে mt4/mt5 এ Brent খুজে বের করলেই হবে। কিন্তু, আপনি যদি না জানেন যে Brent বলতে আসলে এক ধরনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলকে বোঝায়, তাহলে আপনি যেটা খুজে পাবেন, সেটা হচ্ছে Oil. XM এ শুধু OIL ট্রেডিং কোডটি দিয়ে West Texas Intermediate বা WTI ক্রুড তেলকে বোঝায়। OILMn নামে আরেকটি ট্রেডিং কোড আছে যেটি WTI ক্রুড এরই মিনি লটকে নির্দেশ করে, যেটিতে প্রতি পিপসের ভ্যালু মাত্র ১০ সেন্ট। তারমানে, Brent কি তা না জানলে আপনি সবচেয়ে জনপ্রিয় তেলটি ট্রেডের সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হবেন। মোটামুটি সব ব্রোকারেই Brent Crude তেল শুধু Brent নামেই পরিচিত। তাই, নাম না জানলে বিপদ। আবার, Brent, OIL এবং OILMn, এই তিনটি দিয়ে যে যথাক্রমে Brent Crude, WTI Crude এবং WTI Crude এর মিনি লটকে বোঝাচ্ছে, সেটাও বুঝতে পারবেন না। আমি নতুনদের সবসময় পরামর্শ দিব OILMn ট্রেড করতে, কেননা এটাতে প্রতি পিপসের ভ্যালু সর্বনিম্ন ১০ সেন্ট, অন্যগুলোতে ১ ডলার করে। তেলের ক্ষেত্রে XM এ ১ লট বলতে ১০০ ব্যারেল তেল বোঝায় (১ ব্যারেল মানে ১৫০ লিটার)। আগেই বলেছি যে কোন তেল কি, সেটা জেনে আপনার তেমন কোন লাভ নেই, আপনার শুধু জানা দরকার কোন তেলগুলো বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশী ট্রেড করা হয় এবং ব্রোকারগুলোতে সেগুলোর নাম কি। সেটা আপনি ইতিমধ্যেই জেনে আছেন। তারপরেও প্রধান তেলগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছিঃ প্রধান অপরিশোধিত তেলগুলো আমার সবার প্রথমে মাথায় এটা প্রশ্ন জেগেছিল যে, অপরিশোধিত তেলের আবার আলাদা আলাদা ধরন কেন? নারিকেল তেল, সয়াবিন তেলের মতই কি এগুলো আলাদা আলাদা ধরনের জ্বালানী তেল নির্দেশ করে? এগুলো সবগুলোই কি একই কাজে ব্যবহৃত হয়, নাকি নারিকেল তেল, সয়াবিন তেলের মত আলাদা আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয়? বিশ্বে ১৬০ ধরনের তেল ট্রেড করা হয়, আমরা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে তেলগুলো ট্রেড করা হয়, মানে Brent, WTI এবং Opec Basket, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করব। জ্বালানী তেলের গুনগতমান কিভাবে নির্ধারন করা হয়? জালানী তেলের ক্ষেত্রে গুনগতমান নির্ধারন করা হয়, এতে কতটুকু সালফার আছে এবং এটি কতটুকু ভারি তা দিয়ে। কোন তেলে সালফারের পরিমান শতকরা যত কম থাকবে, সেটিকে তত বেশী sweet বলা হবে। এখানে, sweet দিয়ে শুধুমাত্র সালফারের পরিমান কত কম, সেটাই নির্দেশ করছে, মিষ্টিজাতীয় কিছু না। আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে API Gravity, যেটা ওজন নির্দেশ করে। কোন তেলের API Gravity যত বেশী, সেটা ওজনে তত হালকা, একইভাবে API Gravity যত কম, ওজনে তত ভারী। যদি কোন তেলের API Gravity ১০ এর বেশী হয়, তাহলে সেটা পানিতে ডুবে যাবে, নাহলে পানির উপর ভেসে থাকবে। যেই তেলের API Gravity যত বেশী হবে, মানে যত হালকা হবে আর সালফারের শতকরা পরিমান যত কম হবে, মানে তেলটি যত sweet হবে, তার গুনগতমান তত বেশী হবে, বেশী পরিমানে উন্নতমানের গ্যাসোলিন উৎপন্ন করা যাবে। তাহলে, এবার দেখা যাক, ব্রেন্ট, WTI আর ওপেক বাস্কেট, কোনটার গুনগত মান সবচেয়ে ভালো। WTI বা West Texas Intermediate তিন ধরনের তেলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তেল হচ্ছে এবং খুবই উন্নতমানের তেল হচ্ছে WTI বা West Texas Intermediate. এতে সালফার আছে শতকরা মাত্র ০.২৪ ভাগ আর API Gravity হচ্ছে ৩৯.৬ ডিগ্রি। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয়। খুবই হালকা এবং সালফারের পরিমান খুব কম বলে, এটি গ্যাসোলিন উৎপাদনের জন্য সর্বোত্তম। WTI তেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশী হয় আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্রে। Brent Crude Oil এর পরেই আসবে Brent Crude Oil. এতে সালফারের পরিমান শতকরা ০.৩৭ ভাগ আর API Gravity হচ্ছে ৩৮.৩ ডিগ্রি। WTI এর মত এত ভালো না হলেও, এই তেলও হালকা এবং এতে সালফারের পরিমান খুব বেশী না। মূলত ডিজেল, গ্যাসোলিন পরিশোধনের জন্যেই Brent Crude Oil বেশী ব্যবহৃত হয়। মূলত উত্তর সাগরের চারটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এই তেল আহরন করা হয়। Brent তেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশী হয় ইউরোপে এবং আফ্রিকাতে। Opec Basket সবশেষে আসবে ওপেক বাস্কেট। ওপেক নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে এই তেল কোথা থেকে আহরন করা হয়। ঠিক, মূলত ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে, যেমনঃ সৌদি আরব, আলজেরিয়া, ভেনিজুয়েলা ইত্যাদি। এগুলোতে সালফারের পরিমান খুবই বেশী, আবার তুলনামুলকভাবে ভারী। তাই, WTI বা ব্রেন্টের সাথে তুলনা করলে ওপেক বাস্কেট তেল বেশ নিম্নমানের। কিন্তু, সুবিধা হল ওপেক দেশগুলোতে প্রচুর তেল মজুদ আছে এবং তারা চাইলেই যেভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারে, সেইভাবে অন্য তেলগুলোর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না। তাই, বিশ্ববাজারে ওপেক বাস্কেট এর গুরুতবপূর্ন ভুমিকা আছে। কোন তেলের দাম সবচেয়ে বেশী? আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে দাম। ওপেক বাস্কেট তেলের দাম প্রধান তেলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সস্তা। Brent তেলের দাম সাধারনত ওপেক বাস্কেট থেকে ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার বেশী হয়। WTI এর দাম তো আরও বেশী। ওপেক বাস্কেট থেকে WTI ব্যারেলপ্রতি ৫-৭ ডলার বেশী দামে বিক্রি হয়, মানে Brent তেল থেকে WTI তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১-৩ ডলার বেশী।
  4. আমি নিজেও জানতাম না। কমোডিটি নিয়ে যতই জানছি, অবাক হচ্ছি। তবে এটা বুঝতে পারছি, ট্রেড করার অনেক অনেক ভালো সুযোগ হারিয়েছি গত কয়েক বছরে শুধুমাত্র না জানার জন্য। ফরেক্সের পাশাপাশি ব্রোকারগুলোতে আর যা যা ট্রেড করা যায়, আস্তে আস্তে তার সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত সব পাওয়া যাবে বিডিপিপসে। কারন, অনেকেই বলে থাকেন ফরেক্স ট্রেড করা কঠিন। তাই, তারা যাতে পাশাপাশি কমোডিটি বা স্টক ট্রেডও করতে পারেন, সেই জন্য বিডিপিপস সাহায্য করবে। কারন, কখনো কখনো কারেন্সিতে খুব ভালো ট্রেডের সুযোগ আসে, কখনো কমোডিটিতে আবার কখনো স্টকে। তাই, যে যেটাতে বেশি কমফোর্ট ফিল করবে, সে সেটা ট্রেড করবে। আমরা বিডিপিপস ফরেক্স স্কুলকেও একদম নতুন করে সাজাচ্ছি, যেটা এবছরের শেষে একেবারে আপডেট করা হবে।
  5. আমাদের অনেকের ছোটবেলার অনেক স্মৃতির সাক্ষী, ছবির ফিল্ম প্রস্তুতকারী বিখ্যাত কোডাক কোম্পানির কথা খেয়াল আছে? এককালের দুর্দান্ত প্রতাপশালী কোম্পানীটি সেই ১৯০৫ সালে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তার প্রায় ১০৭ বছর পরে ২০১২ সালে দেউলিয়া হয়ে যায় কোডাক। নিউইয়র্ক ষ্টক এক্সচেঞ্জ এর স্টক তালিকা থেকে কোডাকের নাম বাদ দিয়ে দেয়া হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ এই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত আছে প্রায় ২৮০০ কোম্পানি। এর মধ্যে গুগুল, অ্যাপলের মত বিশাল বড় কোম্পানী যেমন আছে, তেমনি অনেক ছোট ছোট কোম্পানিও আছে। তো, এই ২৮০০ কোম্পানির সবগুলোর অবস্থা তো আর ভালো নয়। অনেকগুলোর অবস্থা খুব ভালো, আবার অনেকগুলোর অবস্থা কোডাকের মত হতে যাচ্ছে, হয়ত অনেক বছর জুড়েই বাজে অবস্থা। তো এই স্টক এক্সচেঞ্জের সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের গড় প্রাইস বাড়ছে নাকি কমছে, তার থেকেও বিনিয়োগকারীরা খেয়াল বেশি রাখেন প্রধান ৫০০ টি কোম্পানির স্টকের দিকে। যদি সবচেয়ে বড় এই ৫০০ টি কোম্পানির গড় স্টক প্রাইস বাড়ে, তার মানে স্টক মার্কেটের অবস্থা ভালো যাচ্ছে, অন্যথায় স্টক মার্কেটের অবস্থা মন্দ। স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর গ্লোবাল (Standard and Poor Global) নামে নিউইয়র্ককেন্দ্রিক যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত আর্থিক সংস্থা আছে। এই সংস্থাটি স্টক, বন্ড এবং কমোডিটির উপর নিয়মিত বিভিন্ন আর্থিক নিরীক্ষা ও এনালাইসিস প্রকাশ করে থাকে। এই সংস্থাটিই মূলত নিজ নামে S&P 500 index বা সূচক চালু করেছে, যেটি মূলধনের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের সবচেয়ে বড় ৫০০ টি কোম্পানির স্টক প্রাইসের মূল্য সম্পর্কে ধারনা পাওয়ার জন্য স্টক ট্রেডারদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সূচক। S&P তার তালিকাভুক্ত ৫০০ টি কোম্পানির সর্বমোট সমন্বয়কৃত মূলধনকে একটি সংখ্যা (index divisor) দ্বারা ভাগ করে এই সূচকের মান বের করে। S&P 500 Index = SUM (market cap all S&P 500 stocks) / Index Divisor তারমানে, S&P ৫০০ সূচকটির বৃদ্ধি বা হ্রাস সরাসরি নির্দেশ করে যে এই ৫০০ টি কোম্পানির সমন্বিত মূলধন কি বাড়ছে নাকি কমছে। যদি স্টক মার্কেট ক্রমাগত ভালো করতে থাকে, তাহলে S&P 500 সূচক বাড়তে থাকবে, অন্যথায় কমতে থাকবে। লক্ষ্য করুন, S&P 500 কিন্তু নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের ২৮০০ কোম্পানির মধ্যে শুধুমাত্র প্রধান ৫০০ টি কোম্পানির মার্কেট মূলধনকে নির্দেশ করছে। তার মানে, কখনো কখনো এমন হতে পারে যে, সব কোম্পানি মিলিয়ে হয়তবা স্টক মার্কেটের অবনতি হয়েছে, কিন্তু প্রধান কোম্পানিগুলো ভালো করায় S&P 500 বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু, আগেই বলেছি, অধিকাংশ ট্রেডাররা মূলত প্রধান ৫০০ টি কোম্পানির ষ্টক লেনদেন করে, তাই তারা S&P 500 এর দিকেই নজর রাখে বেশি। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য এরকম আরও জনপ্রিয় সূচক আছে। যেমন, Dow Jones Industrial Average (DJIA), যেটি সবচেয়ে বড় এবং বাছাইকৃত ৩০ টি কোম্পানির (যেমনঃ Apple, IBM, Intel, McDonalds, Microsoft, Nike, Boeing CocaCola, Wallmart, Visa, Amrican Express ইত্যাদি ) স্টককে নির্দেশ করে। সময়ের সাথে সাথে কোম্পানিগুলোর পারফর্মেন্সের উপর ভিত্তি করে তালিকা থেকে পুরনো কোন কোম্পানিকে বাদ দিয়ে নতুন কোন কোম্পানিকে সংযুক্ত করা হয়। মজার বিষয় হল, গুগল বা ফেসবুক কিন্তু এই তালিকাতে নেই! আরেকটি তথ্য জেনে রাখুন, Dow Jones Industrial Average (DJIA) কে সংক্ষেপে প্রায়ই শুধু Dow নামে ডাকা হয় এবং এটি নিউইয়র্ক ষ্টক এক্সচেঞ্জের সাথে সাথে NASDAQ স্টক এক্সচেঞ্জকেও নির্দেশ করে। এই সূচকটিরও মালিকানা বর্তমানে S&P Global এর। Dow Jones Industrial Average সূচকটির জন্য বর্তমানে তালিকাভুক্ত প্রভাবশালী ৩০ টি কোম্পানি হচ্ছেঃ 3M,American Express, Apple, Boeing, Caterpillar, Chevron, Cisco Systems, Coca-Cola, DowDuPont, ExxonMobil, General Electric, Goldman Sachs, IBM, Intel, Johnson & Johnson, JPMorgan Chase, McDonald's, Merck, Microsoft, Nike, Pfizer, Procter & Gamble, The Home Depot, Travelers, United Technologies, UnitedHealth Group, Verizon, Visa, Walmart এবং Walt Disney. এ ২টি ইনডেক্স সম্পর্কে জানলে আপনি মার্কেটের বর্তমান অবস্থার একটি ধারনা সহজেই করতে পারবেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আসবে পরবর্তী লেখায়।
  6. খবরের কাগজ খুললেই আপনি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে কোন না কোন খবর পাবেন, বিশেষ করে অর্থনীতি পাতায় বা এ সংক্রান্ত খবরের কাগজগুলোতে। অনেক বেশী ফরেক্স ট্রেডার এখন তেল নিয়ে ট্রেড করছেন। কিছু কিছু ট্রেডার তো শুধু তেলেরই ট্রেড করেন, যাদেরকে কমোডিটি ট্রেডার বলা হয়। কিন্তু, কম বেশী সব নতুন ট্রেডার একটাই অভিযোগ করেন, এক এক ব্রোকারে তেলের দাম নাকি এক এক রকম! ব্রোকারভেদে তেলের দাম আলাদা হবে কেন? এর উত্তর হচ্ছে, আসলে বিশ্ববাজারে অনেক ধরনের তেল ট্রেড হয়, যেগুলোর নাম অনেকে ঠিকমত খেয়াল করেন না। আর এর ফলেই ঘটে বিপত্তি। বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশী ট্রেড হয় জ্বালানী তেলের। জ্বালানী তেল দুই রকমেরঃ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত। খনি থেকে সরাসরি উত্তোলিত বা অপরিশোধিত তেলের ট্রেডই বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশী ট্রেড করা হয়। আমরা ব্রোকারগুলোতে মূলত অপরিশোধিত তেলই ট্রেড করি, যেটাকে ক্রুড (Crude Oil) বলে। আমরা জানি যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অপরিশোধিত তেল বা CruDe Oil এর উৎপাদন ও রপ্তানি করে। মজার বিষয় হচ্ছে, সব দেশের তেলের মান কিন্তু এক নয়। এটা অনেকটা নির্ভর করে তেল কোথা থেকে আহরণ করা হচ্ছে ও কিভাবে আহরন করা হচ্ছে। এই অপরিশোধিত তেলের বা Crude Oil এর তিনটি প্রধান ধরন আছে, Brent Crude, WTI Crude এবং Opec Basket Crude (এটি Dubai/Oman Crude নামেও পরিচিত), যেগুলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয়। আর এই তিন ধরনের তেলের দামও আলাদা আলাদা। যেমন, এই মুহুর্তে Brent এর দাম ব্যারেল্প্রতি ৬৮.৫৮ ডলার, WTI এর দাম ব্যারেল্প্রতি ৬৫.৪৫ ডলার ও Opec Basket এর দাম ব্যারেল্প্রতি ৬৬.৮৩ ডলার। ফরেক্স ব্রোকারগুলো মূলত এই তিন ধরনের তেলই ট্রেড করার সুযোগ দেয়। কিন্তু, যেহেতু, অনেক ট্রেডাররাই এটা জানেন না, তাই তারা এক ব্রোকারের Crude তেলের দামকে হয়ত আরেক ব্রোকারের Brent তেলের সাথে মিলিয়ে ফেলেন, আর এর ফলেই ঘটে বিপত্তি। কিন্তু, Brent Crude, WTI Crude এবং Opec Basket Crude তেল কি? আর এগুলোর দামই বা বিভিন্ন কেন? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তেলের খনিগুলো। মাটির নীচ থেকে যেমন তেল আহরন করা হয়, তেমনি আহরন করা হয় সমুদ্রের নীচের খনি থেকেও। এর মধ্যে এক ধরনের ঘন এবং অপ্রক্রিয়াজাত তেল রয়েছে যা মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করা হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে মাটির নিচ থেকে তেল উত্তলনের তুলোনায় সমুদ্র থেকে উত্তলন বেশী সুবিধাজনক। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে পাইপলাইন সুযোগ সুবিধার উপর। এ নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পরের পর্বটির দিকে লক্ষ্য রাখুন।
  7. গুগলের নাম আমরা কে না জানি! আপনি হয়ত বিডিপিপসের সন্ধান পেয়েছেন এই গুগল থেকেই। গত ২০ বছরে গুগল পুরো পৃথিবীকেই বদলে দিয়েছে গুগল সার্চের মাধ্যমে। ২০ বছর আগে কে জানতো যে গুগল আজকে এই অবস্থানে আসবে? আর চাইলেই তো তখন গুগলে বিনিয়োগ করা যেত না স্টক ট্রেডের জন্য। কিন্তু, ২০ বছর আগে না হলেও, ১০ বছর আগে কিন্তু ঠিকই বোঝা গিয়েছিল, গুগল কত দূর যেতে পারে। তাই, বুদ্ধি করে যারা তখন গুগুলের স্টকে বিনিয়োগ করেছিলেন, দশ বছর পরে তার ফলাফল কি? আপনাকে এটা জানতে হবে, কারন ১০ বছর আগে গুগল যে জায়গায় ছিল, ফেসবুক আজ সেখানে আছে। আর আগামী ১০ বছর নিয়মিতভাবে ফেসবুক নিজের প্রবিদ্ধি ধরে রাখবে। যাই হোক, ল্যারি পেজ এবং সার্গে ব্রিন যখন গুগলের সাথে বিশ্বকে উপস্থাপন করার জন্য একটা সুযোগ খুঁজছিলেন তখন থেকেই সার্চ ইঞ্জিন ছিলো। মানে, একদম আহামরি নতুন কিছু তারা নিয়ে আসেননি। বরং, তারা ভিন্নভাবে চিন্তা করেছেন কিভাবে সার্চ ইঞ্জিনকে আরো উন্নত করা যায়, ইয়াহুকে টপকানো যায়। তাদের সেই সিদ্ধান্তের উপযুক্ত প্রতিদান তারা পেয়েছেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর পর তাদের উভয়ের সম্পদের পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। আপনি যদি আজ থেকে ১০ বছর আগে গুগলে বিনিয়োগ করার সুযোগ গ্রহন করতেন তাহলে আপনার হয়তো বিলিয়ন ডলার থাকতো না, কিন্তু নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমানের মত একটি কাজ হত। এমনকি বিখ্যাত ওয়ারেন বাফেটও এমনটিই মনে করেন এবং তিনি তখন গুগলে বিনিয়োগ না করার জন্য এক প্রকার অনুতপ্তও বটে। এটা আমার মনগড়া কোন কথা না, বরং বিখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনবি অবলম্বনে বলছি। যাই হোক, বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে আপনি তেমন আহামরি কোন লাভ পেতেন না। কারন,তখন গুগলে বিনিয়োগ করলে আপনার লাভের পরিমান আজ মোটামুটিভাবে প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি হয়ে যেতো। ২০০৭ সালে গুগলের অঙ্গ সংগঠন এ্যলফাবেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১,০০০ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি আজ ২,৯২২ ডলারের মালিক হতে পারতেন। ১০ বছর আগে এই পরিমান টাকা বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে রাখলেও লাভের পরিমান এরকমই হত, এমনকি বেশিও হতে পারতো। কিন্তু, পার্থক্য এই যে, বাংলাদেশে যেখানে সুদের হার ১২-১৫ শতাংশ ছিল, সেখানে উন্নত দেশগুলোতে মাত্র ১-২ শতাংশ ছিল। তাই,উন্নত দেশগুলোর যেকেউ গুগলে বিনিয়োগ করলে ব্যাংক থেকে অন্তত ১০-১২ গুন বেশি লাভ করতে করতে পারত। শুধু পারত না, অনেকে এমন লাভ ইতিমধ্যেই করেছেন। সিএনবি এই হিসাবটি বের করেছে একটি অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট “How Much” থেকে। ওয়েবসাইটটি ২০০৭ সালে জনপ্রিয় কিছু স্টকে ১,০০০ ডলার বিনিয়োগ করলে আজ এর মূল্য কেমন হত তার একটা ধারণা প্রদান করে। (অনেক দরকারী এই ওয়েবসাইটি ভিজিট করতে এখানে ক্লিক করুন) চিত্রে, নীল বৃত্তগুলো হচ্ছে সেই সময়ে ১০০০ ডলার বিনিয়োগ এবং গোলাপী বৃত্তগুলো হচ্ছে ওই বিনিয়োগের বর্তমান মূল্য। তারমানে, গোলাপী বৃত্তগুলো যত বড় হবে, সেই ১০০০ ডলার বিনিয়োগের বর্তমান মূল্য আজ ততোটাই বেশী। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, গুগুল নয়, সবচেয়ে বেশী লাভ হত, নেটফ্লিক্সের শেয়ার থেকে। ১ হাজার ডলার বিনিয়োগ, ৫২ গুন বেড়ে আজ হত প্রায় ৫২ হাজার ডলার। কিন্তু, নেটফ্লিক্স যে আজ এই অবস্থানে আসবে, সেটা তখন অনুমান করা কোন সহজ কাজ ছিল না। তাই, এই ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে। বোঝা যাচ্ছে, কোন কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তার স্টক কিনতে পারলে সবচেয়ে বেশী লাভ করা যায়। কিন্তু, এটা জানা খুব কঠিন কোনটি প্রতিষ্ঠিত হিওতে যাচ্ছে, কেননা অনেকগুলোই ভালো সম্ভাবনা থাকার পরেও ব্যর্থ হয়। অপরদিকে, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির যদি আরো ভালো করার সুযোগ থাকে, তাহলে সেটা কেনা নিরাপদ কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম লাভ হবে। তাই, এটা মাথায় রাখতে হবে, যদিও তখন গুগলের স্টক এর অবস্থা ভালো ছিলো, কিন্তু অন্য স্টকগুলোর কোনোটা ভালো করছিলো আবার কোনোটা খারাপ করছিলো। অতীতের কোন অবস্থা দেখে ভবিষ্যতে কি হবে তা বলা যায় না। যদিও গুগল এখন এ্যলফাবেট এবং এ্যলফাবেট তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যকমে কিছুটা চিন্তিত। যেমন, ইউটিউব আপত্তিকর এবং অবমাননাকর বিষয়বস্তু সরাতে অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। তারপরেও বিনিয়োগকারীগণ কোম্পানীটিতে আস্থা রাখছে কারণ সার্চ ইঞ্জিনের উন্নতি, ফোনে এর সহজ ব্যাবহার, ভার্চুয়াল সাহায্যকারী হিসেবে এর অবদান, কোম্পানিটির সৃজনশীলতা এবং বিনোদনের সুবিধা প্রদান ইত্যাদি তো আর অস্বীকার করা যাবেনা। এম.কে.এম পার্টনার্স ফার্মের একজন গবেষক রব স্যান্ডারসন বলেন, ২০১৮ সালে এ্যলফাবেটের উচিৎ বিনিয়োগকারীদেরকে আরও বেশী পরিমানে লভ্যাংশ প্রদান করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যদি গুগলে বিনিয়োগের ব্যপারে আগ্রহী হন অথবা স্টক মার্কেটে প্রবেশের কথা ভাবেন, তবে আপনাকে সতর্কতার সাথে শুরু করতে হবে। ওয়ারেন বাফেট সহ আরও অন্যান্য অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীগণ যেমন মার্ক কিউবান এবং টনি রবিন্স নতুনদেরকে ইন্ডেক্স ফান্ড এর মাদ্যমে শুরু করার পরামর্শ প্রদান করেন। ইন্ডেক্স ফান্ড প্রত্যেকটি স্টককে একটি ইন্ডেক্সে ধরে রাখে এবং লো টার্নওভার রেট ( low turnover rate), এ্যটেন্ডেন্ট ফি ( attendant fee ) এবং ট্যাক্স বিলের ( tax bill ) মত সুবিধা প্রদান করে। এ ব্যাপারে আরো জানতে বিডিপিপসের সাথেই থাকুন!
  8. ব্যাংকে টাকা রাখলে যে সুদ পাওয়া যায়, তা দিয়ে আসলেই এখন আর চলে না। আর অনেকেই সুদ নেওয়া পছন্দ করেন না। তাই, স্টক মার্কেটই অনেকের পছন্দের জায়গা। আর ফরেক্স ট্রেডারদের কাছে স্টক মার্কেট হচ্ছে ট্রেড করার আরও একটি অপশন মাত্র। তবে, স্টক ট্রেড যারা করেন, তাদের অনেকেই সাধারণত ফরেক্সের একটি ট্রেডের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্টক ধরে রাখেন। সব স্টকের দাম তো আর একই রকম বাড়বে বা কমবে না। কিছু কিছু স্টক আছে, যা আসলেই বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফোটাতে যানে। আজকে লিখব ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক (NASDAQ) স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত এমন তিনটি কোম্পানি সম্পর্কে, যেগুলোর দাম ২০১৬ সালে যা ছিল, ২০১৭ সালেই তার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। আসলে স্টকগুলোর মূল্য দ্বিগুন এরও বেশী হয়েছে , আর তা হয়েছে মাত্র ১২ মাসেরও কম সময়ে। আর তাই, আপনি যদি সঠিক স্টকের পিছনে বিনিয়োগ করেন, তবে সেটার পেছনেই দীর্ঘ সময় লেগে থাকুন। যাই হোক, গত বছরের সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা এই তিনটি স্টকই কিন্তু মেডিকেল সেক্টরের। স্টকগুলো হলো, ১। এলাইন টেকনোলোজি (Align Technology) (NASDAQ:ALGN: বছরশেষে শেয়ারপ্রতি দাম ২২২ ডলার, একবছর আগে ছিল ৯৬ ডলার) ২। Bluebird (NASDAQ:BLUE: বছরশেষে শেয়ারপ্রতি দাম ১৭৮ ডলার, একবছর আগে ছিল ৬১ ডলার) ৩। এক্সাক্ট সায়েন্সেস (Exact Sciences) (NASDAQ:EXAS: বছরশেষে শেয়ারপ্রতি দাম ৫২ ডলার, একবছর আগে ছিল ১৩ ডলার) উপরোক্ত স্টকগুলোতে বিনিয়োগকারীরা দ্বিগুণেরও বেশী আয় করেছেন। এলাইন টেকনোলোজি (Align Technology) এলাইন টেকনোলোজি ২০১৭ সালে S&P এর ৫০০ টি সেরা স্টকগুলোর একটি হয়েছিলো। আমরা যদি বিগত ১২ মাসের পরিসংখ্যান দেখি, তাহলে দেখা যায় যে, সেই সময়ে কোম্পানিটির স্টকের মূল্য ১৯০ শতাংশের বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। তো কি জিনিস বানিয়ে কোম্পানিটি এতটা জনপ্রিয় হল? Align Technology এর মূল প্রোডাক্ট কিন্তু খুবই সাধারন। অনেকের দাত আঁকাবাঁকা থাকে, তো সেই দাঁতগুলো সোজা করার জন্য এক ধরনের ক্যাপ ব্যবহার করা হয়, যেগুলো মূলত তার ও ধাতু দিয়ে বানানো থাকে। Align এর বিশেষত্ব হল তাদের বানানো ক্যাপগুলো প্রায় অদৃশ্য, চোখে পড়ে না বললেই চলে। আর সে কারনেই এই ক্যাপগুলোর চাহিদা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, অনেক রোগী এবং দাঁতের ডাক্তারগণ এটি ব্যবহার করছেন। যার ফলে ২০১৭ সাল জুড়ে Align প্রতিনিয়ত রাজস্বের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর কিছুদিন পরেই জানুয়ারির ৩০ তারিখে কোম্পানীটি ২০১৭ সালের সম্পূর্ন আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং আরেকটি নতুন আয়ের রেকর্ড গড়বে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। Bluebird Bluebird স্টক বিগত ১২ মাসে প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ অর্জনগুলো জুন মাসের ৫ তারিখের পরে অর্জিত হয় যখন ছোট জৈব প্রজুক্তি CAR-T থেরাপির প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশ করে। ফলাফলগুলো ব্লুবার্ডের বড় অংশীদার Celgene এর জন্য অনেক ভালো খবর ছিলো। ২০১৩ সালে দুটি কোম্পানী ক্যান্সার রোগের নিরাময়ের জন্য একত্রিত হয় জিন (gene) থেরাপি ব্যবহারের জন্য। একত্রিত হওয়ায় অনেকভাবে উপকৃত হয় কোম্পানিটি। তবে, বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশী এই কারনে Bluebird এর শেয়ার কিনতে আগ্রহী হন যে, Celgene স্বয়ং Bluebird কেই কিনে নিতে পারে। এক্সাক্ট সায়েন্সেস (Exact Sciences) এক্সাক্ট সায়েন্সেস (Exact Sciences) এর স্টক এর পারফর্মেন্স ছিল এই তিনটি স্টকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। গত ১২ মাসে কোম্পানির স্টকের মূল্য প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সত্যি বলতে এক্সাক্ট সায়েন্সেস (Exact Sciences) এর স্টক এলাইন টেকনোলোজি এবং ব্লুবার্ড এর স্টকের চাইতেও অনেক বেশী চমকপ্রদ। মূলত একটি প্রোডাক্টই গত বছর এক্সাক্ট সায়েন্সেসকে সাফল্য এনে দেয়। আর সেটি হচ্ছে “Cologuard”. যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর মেডিকেয়ার এবং মেডিকেইড সার্ভিসেস ঘোষণা করলো যে, মেডিকেয়ার এডভান্টেজ প্লানের জন্য স্টার রেটিংস প্রোগ্রামে Cologuard সংযুক্ত করা হবে, তখন গত ফেব্রুয়ারিতে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের জন্য ডিএনএ স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য কিছু সুসংবাদ ছিল। কয়েকমাস পরেই এই পরিবর্তন কার্যকর হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে যেই তিনটি স্টকের মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে, সেগুলো সবগুলোই মেডিকেল সেক্টরের। তাই মেডিকেল সেক্টরের নতুন কোম্পানীগুলোর দিকে নজর রাখতেই হবে। তাই নয় কী? সহায়তায়ঃ নাসা (Motely Food অবলম্বনে)
  9. আপনি কি জানেন, ফেসবুকের শেয়ারের দাম এখন কত? ১৮১ ডলার মাত্র! আপনি কি জানেন, মাত্র ৫ বছর আগে ফেসবুকের শেয়ারের দাম কত ছিল? ৩১ ডলার মাত্র! অর্থাৎ, ৫ বছরে ফেসবুকের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ গুনেরও বেশি। মাত্র ১ বছর আগেও ফেসবুকের শেয়ারের দাম ছিল ১৩১ ডলার। প্রতিবছর ফেসবুকের শেয়ারের দাম বাড়ছে ক্রমাগত কোন বড় উত্থান পতন ছাড়াই। আর ফেসবুকের সামনের কয়েক বছরে অন্তত আয় কমার কোন সম্ভাবনা নেই, বরং বাড়বে অনেক। তাই, ফেসবুকের শেয়ারের মূল্যও বাড়বে। তো, আপনি যখন জানেনই ফেসবুকের শেয়ারের দাম বাড়বে আর যদি দীর্ঘমেয়াদে আপনার ফেসবুকের শেয়ার কিনে রাখার ধৈর্য থাকে, তাহলে ফেসবুকের শেয়ার কিনবেন না কেন? যদি সে সুযোগ আপনার থেকেই থাকে! এক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো কি কি? সহজ হচ্ছে অনলাইনে ট্রেড করা একটা সময় ছিল, যখন কোন কিছু ট্রেড করা কঠিন ছিল। স্টক ট্রেড করতে হলে আপনাকে যেতে হত কোন স্টক ব্রোকারের কাছে, খুলতে হত স্টক ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট। আবার, ফরেক্স ট্রেডিং করতে হলে, হতে হত ব্যাংকের সম্পদশালী গ্রাহক। শুধুমাত্র, তাহলেই ব্যাংক থেকে ফরেক্স ট্রেড করার সুবিধা মিলত। আবার, কমোডিটি, যেমন, তেল, চিনি, কফি ইত্যাদি কেনাবেচার জন্যে যেতো হতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জে। আবার, স্টক ব্রোকারগুলো থেকে শুধুমাত্র স্থানীয় কোম্পানীগুলোর শেয়ারই কেনা যায়। যখন, স্টক মার্কেটে ধ্বস নামে, তখন বসে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না। অথচ, উন্নত দেশগুলোতে মানুষ কিন্তু স্টক মার্কেট ক্রাশের সময় সেল ট্রেড থেকেও লাভ করতে পারে। সেই সুযোগ আমাদের এখানে নেই। কিন্তু, প্রযুক্তির কল্যাণে সব বদলে যাচ্ছে। অনলাইনেই ফরেক্স ব্রোকাররা স্বল্প বিনিয়োগে যে কাউকে ট্রেড করার সুযোগ দিল। তবে সময়ের সাথে সাথে ফরেক্স ব্রোকাররা এখন আর শুধু নিজেদের ফরেক্স ব্রোকার বলতে রাজি না। ব্রোকারদের সাথে আপনি এখন শুধু কারেন্সি না, ট্রেড করতে পারেন বিদেশী অধিকাংশ বিখ্যাত কোম্পানির স্টকের, আর তেল বা স্বর্ণ কেনাবেচার সুযোগ তো অনেক আগে থেকেই রয়েছে। স্টক ট্রেডও যে একেবারে নতুন করা যাচ্ছে, তা নয়। কিন্তু, অনেক ট্রেডারই শুধুমাত্র না জানার কারনেই এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর তার সাথে জানা দরকার কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্যও। অন্যথায় আপনাকে পড়তে হবে ক্ষতির মুখে। স্থানীয় কোন স্টক ব্রোকার থেকে শেয়ার কেনা আর অনলাইনে স্টক কেনার মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে শুরুতেই জেনে নিন যে, স্থানীয় কোন স্টক ব্রোকার থেকে স্টক কেনা আর অনলাইনে কোন ব্রোকার থেকে স্টক কেনার মধ্যে কিন্তু কিছু পার্থক্য আছে। আপনি অনলাইনে স্টক কিনতে গেলে কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হবেন, যেগুলো প্রথমেই জেনে নেওয়া ভালো। যদিও অনেক আলাদা সুবিধাও আছে, তারপরেও বিডিপিপসে আমরা সীমাবদ্ধতাগুলোকেই আগে তুলে ধরি। এর উপর ভিত্তি করেই আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি অনলাইনে স্টক ট্রেড করবেন কিনা। অনলাইনে স্টক ট্রেডিং এর সীমাবদ্ধতা সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে, আপনি সরাসরি স্টক কিনতে পারবেন না। আপনাকে কিনতে হবে স্টক সিএফডি (CFD)। অবাক হচ্ছেন তো? ভেঙ্গে বলছি। CFD মানে হচ্ছে Contract For Difference. দুই পক্ষের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হওয়া, যেখানে একটি পক্ষ ট্রেড করা যায় এমন কোন জিনিস কেনার জন্য মূল্য পরিশোধ করবে, কিন্তু সেই পণ্যের মালিক হবে না। যার থেকে সে কিনেছে, শুধু তার কাছেই বিক্রি করা যাবে। এখানে, কেনার সময় মার্কেট প্রাইসেই কিনতে হবে, আর বিক্রির সময় মার্কেট প্রাইসেই বিক্রি করা হবে। অপর পক্ষ বাধ্য, যেকোন সময় বিক্রি করার আদেশ দিলেই তা মেনে নিতে। বিক্রি করার সময়, ক্রেতা যে পরিমানে CFD কিনেছিল, বিক্রির সময় তার যে দাম, তার পুরোটা দিতে হবে। এখন, কেনার সময় থেকে বিক্রির সময় যদি মার্কেট প্রাইস বেশী থাকে, তাহলে ক্রেতার লাভ। আর যদি কম থাকে, তাহলে বিক্রেতার লাভ। কেননা, বিক্রেতা যে জিনিস বেশী দামে বিক্রি করেছিল, তা কম দামে কিনে নিয়েছে। সাধারন কেনাবেচার সাথে পার্থক্য হল, ক্রেতা চাইলেই বলতে পারবে না যে, আমার জিনিস আমাকে বুঝিয়ে দেও। আমি বিক্রি করতে চাই না। সে সুযোগ নেই। কিন্তু, বিক্রি করার সময় বিক্রেতা চাইলেই বলতে পারবে না, আমি আপনাকে এখন এই দাম দিব বা এখন আমি কিনব না। যদি আগে থেকে কোন নির্ধারিত তারিখ উল্লেখ করা না থাকে, তাহলে ক্রেতা যখন বিক্রি করতে চায়, ঠিক তখনই ক্রেতার থেকে মার্কেটে তখন যে দাম থাকবে, সেই দামে কিনে নিতে হবে। অনলাইনে এই প্রক্রিয়াটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়, ক্রেতা যখনই ট্রেড ক্লোজ বাটনে ক্লিক করে, তখনই আসলে সে মার্কেট প্রাইসে তার কাছে থাকা CFD ব্রোকারের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। তারমানে, বোঝা গেল যে, আপনি স্টকের সত্যিকারের মালিকানা পাচ্ছেন না, ফেসবুকের কোন শেয়ার সরাসরি আপনার নামে ইস্যু হবেনা। কিন্তু, দাম বাড়লে কমলে ঠিকই আপনার লাভ অথবা লস হবে। তবে আপনি যেই কোম্পানির স্টক CFD কিনছেন, তারা যখন বার্ষিক সাধারন সভাতে ডিভিডেন্ট দিবে, সেটা আপনি ঠিকই পাবেন। যদি এটা আপনার জন্য সমস্যা না হয়, তাহলে অন্য সীমাবদ্ধতাগুলো আসলে সুবিধার তুলনায় বেশ নগণ্য। পরবর্তী সীমাবদ্ধতা হচ্ছে যে, আপনি যদি স্টকটি একদিনের চেয়ে বেশি সময় ধরে রাখেন, তাহলে আপনার Swap পে করতে হবে প্রতিদিনের জন্য। অধিকাংশ স্টক ট্রেডার লিভারেজ বা ঋন সুবিধা নিয়ে ট্রেড করে, তাই ব্যাংকগুলো এর উপর প্রতিদিন যে সুদ আরোপ করে, সেটাই হচ্ছে swap. তবে, XM সহ বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকারেরই swap free ইসলামিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই, এই সীমাবদ্ধতা অনেকের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না। প্রতিদিন যদি এভাবে swap পে করতেই হয়, তাহলে একটু একটু করে হলেও দীর্ঘদিন ট্রেড ওপেন রাখলে swap জমতে জমতে বেশ ভালোই বড় একটি অ্যামাউন্টে পরিনত হয়। এর ফলে ট্রেড ক্লোজ লাভ হলে লাভের পরিমান কম যায়, আর লস হলে তো লসের পরিমান আরো বেড়ে যায়। তাই, অনলাইনে স্টক ট্রেড করতে হলে অবশ্যই প্রথমে আপনাকে একটি swap free ইসলামিক অ্যাকাউন্ট ওপেন করে নিতে হবে। আরেকটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে যে, ব্রোকারগুলোতে ডিপোজিট করা। যদিও বড় বড় অধিকাংশ ব্রোকারই এখন লোকাল কারেন্সিতে ডিপোজিট করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে, আপনার ব্রোকারের কাস্টমার সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ করুন। সুবিধা আগে সীমাবদ্ধতাগুলো ভালো করে পড়ুন। মনে রাখবেন, আপনার সামনে ট্রেড করার সুযোগ অবারিত। সেটা অনলাইনেই হোক অথবা দেশীয় স্টক মার্কেটেই হোক। যদি আপনি লোকাল স্টক মার্কেটে ভালো করতে থাকেন আর অনলাইনের এই সীমাবদ্ধতাগুলো আপনার ভালো না লাগে, তাহলে অনলাইনে ট্রেড করতেই হবে, এমন কোন কথা নেই। কিন্তু, এই সীমাবদ্ধতাগুলো যদি আপনার কাছে গুরুতবপূর্ন না হয়, তাহলে বেশ কিছু সুবিধা আছে, যেগুলো তুলে ধরছি। সর্বপ্রথম সুবিধা হচ্ছে বাই অথবা সেল, দুটো থেকেই প্রফিট করার সুবিধা, যেটা বাইরের দেশগুলোতে ইতিমধ্যে চলে আসলেও আমাদের এখানে এখনও আসেনি। আপনি জানেন যে, স্টক প্রথমে কিনতে হয় এবং পরে বিক্রি করতে হয়। এক্ষেত্রে, আপনার কেনা দাম থেকে মার্কেটে দাম কমে যেতে থাকলে আপনার হয় লসে বিক্রি করা অথবা চেয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার থাকে না। কিন্তু, অনলাইনে ব্রোকারগুলোতে আপনি স্টক CFD একই সময়ে বাই অথবা সেল করার অর্ডার দিতে পারবেন, ঠিক কারেন্সি ট্রেডিং এর মতই। ফেসবুকের উদাহরনই দেই। আপনি যদি ফেসবুকের স্টক CFD বাই অর্ডার দেন, তাহলে ফেসবুকের স্টকের দাম বাড়লে আপনার লাভ হবে, দাম কমলে লস হবে। আর যদি সেল অর্ডার দেন, তাহলে ওই স্টকের দাম কমলে আপনার লাভ হবে, আর দাম বাড়লে আপনার লস হবে। অর্থাৎ, মার্কেট আপট্রেন্ড হোক আর ডাউনট্রেন্ড হোক, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আপনার লাভ করার সুযোগ আছে, যেটা স্থানীয় স্টক ট্রেডের ক্ষেত্রে এখনও সম্ভব না এবং এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। দ্বিতীয়ত, লোকাল স্টক মার্কেটে অনেক বেশী মার্কেট ম্যানিপুলেশন বা কারসাজী হয়। এমনটা আমেরিকার স্টক এক্সচেঞ্জে যে হয়না, তা না। কিন্তু, তুলনামুলকভাবে অনেক কম। আবার, আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু ইভেন্টের আগে পরে বা কোন নিউজের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক স্টক মার্কেটে স্টকের দাম বাড়ে কমে, যেটা অনুমান করা বেশ সহজ। স্থানীয় স্টক মার্কেটে এটা অনুমান করা খুবই কঠিন যে, কোন ঘটনার কারনে দাম বাড়বে আর কোনটার কারনে দাম কমতে পড়ে। আর আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোর প্রভাবও লোকাল স্টক মার্কেটে পড়েনা বললেই চলে। আরেকটি বড় সুবিধা হল, স্থানীয় কোন ব্যাংক তিন বছর পরে কেমন করবে, তার থেকে এটা অনুমান করা সহজ যে ফেসবুকের মত বড় কোম্পানি তিন বছর পর কেমন করবে। ফলে, ট্রেডিং করাটাও তুলনামুলক সহজ হয়ে যায়, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে ট্রেড করার ক্ষেত্রে। আর হ্যাঁ। লিভারেজ বা ঋণ সুবিধা বলে একটা ব্যাপার আছে। স্থানীয় মার্কেটে ট্রেড করার ক্ষেত্রে যেখানে মূলধনের সমপরিমাণ ঋণই সহজে পাওয়া যায় না, সেখানে ফরেক্স ব্রোকারগুলো ২৫ গুন থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে মুলধনের ১০০ গুন পর্যন্তও লোন দেয় ট্রেড করার জন্য। মানে, আপনার মূলধন মাত্র ১ লক্ষ টাকা হলেও, আপনি সেটা দিয়েই কোটি টাকার সমপরিমাণের ট্রেড করতে পারবেন। তবে, এই কারনে যদি আপনি অনলাইনে ট্রেড করতে চান, তাহলে আমি বলব আপনার অনলাইনে ট্রেড করার কোন দরকারই নেই। এত বেশী ঋন নিয়ে ট্রেড করলে আপনি ফতুর হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই হবেন না। অনলাইনে কোন কোন কোম্পানির স্টক ট্রেড করা যায়? এটা নির্ভর করবে আপনি কোন ব্রোকারের সাথে ট্রেড করছেন তার উপর। যেমন, XM এর মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার সব বড় কোম্পানির স্টক কেনাবেচা করা যাবে। গুগুল, ফেসবুক, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, আমাজন, ইনটেল, আইবিএম সহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডসহ মোট ১৪ টি প্রধান দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে তালিকাভুক্ত ৩০৯ টি কোম্পানির ষ্টক ট্রেড করতে পারবেন। অনলাইনে স্টক ট্রেড করার জন্য আপনার কি কি করতে হবে? প্রথমে একটি জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত ব্রোকারের সাথে অ্যাকাউন্ট ওপেন করে তাতে ডিপোজিট করতে হবে। তবে, সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি প্রথমে একটি ফ্রী ডেমো অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন কোন একটি ব্রোকারের সাথে। সেক্ষেত্রে, ব্রোকার আপনাকে ট্রেড করার জন্য ভার্চুয়াল ক্যাশ দিবে, যেটা দিয়ে আপনি ডিপোজিট করার পরে যেভাবে ট্রেড করতে পারতেন, ঠিক সেভাবে ট্রেড করতে পারবেন। তবে, পার্থক্য একটাই, লাভ বা লস যাই হোক, সবই ভার্চুয়াল। এটাকে ডেমো ট্রেডিং বলে। আপনি যদি অন্তত ৩ মাস ডেমো ট্রেড করার পর দেখেন যে আপনি ভালো করছেন, তখন আপনি একটি রিয়েল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে ডিপোজিট করতে পারেন। ব্রোকারের ওয়েবসাইট থেকে ট্রেডিং সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। ট্রেডিং সফটওয়্যারে আপনার অ্যাকাউন্ট ইনফরমেশন দিয়ে লগিন করতে হবে এবং আপনি এই সফটওয়ার ব্যবহার করে ট্রেড করতে পারবেন। আপনি যদি ব্রোকারে ডিপোজিট করে থাকেন Neteller/Skrill/Payza/Credit card অথবা অন্যান্য মাধ্যমে, তাহলে যে মাধ্যম দিয়ে ডিপোজিট করেছিলেন, সে মাধ্যমে আপনার ডিপোজিটের সম্পুর্ন অর্থ+ লাভ যেকোন সময় তুলে নিতে পারবেন ব্রোকারকে পেমেন্ট করার রিকোয়েস্ট করে। যদি লাভ হয়, তাহলে তো ডিপোজিট থেকে বেশী অর্থ ফেরত পাবেন, আর লস হলে ডিপোজিট থেকে সেই লসের পরিমান অর্থ কেটে রেখে বাকি টাকা ব্রোকার থেকে তোলা যাবে। পুরোটা একেবারে না তুলে শুধু লাভের পরিমান বা ডিপোজিটের যেকোন একটি অংশ তুলে নেয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই বাদ পড়ে গিয়েছে। উপরে যা যা বললাম, সেগুলো সবই করা সহজ, কিন্তু নিয়মিত লাভ করা সহজ না। অনেকে লাভ করলেও শুধুমাত্র ১ দিনের লোভে বিশাল বড় ট্রেড খুলে একদিনেই ফতুর হয়ে যায়। তাই, অনলাইনে স্টক ট্রেড করতে হলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ট্রেডিং স্ট্রাটেজি এবং মানি ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে। এ সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ভিজিট করুন, বিডিপিপস ফরেক্স স্কুল।
  10. http://www.atelor.fr/

  11. একসময় জার্মানি, ফ্রান্সে, ইতালিরও নিজস্ব মুদ্রা ছিল। ফরেক্স ট্রেডারদের ট্রেড করার মত অনেক কারেন্সি পেয়ারও ছিল। তারপর ইউরো এল। দেশগুলোর নিজস্ব কারেন্সিগুলো বাতিল হল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চাইলেই ইচ্ছেমত কারেন্সি ছাপাবার ক্ষমতা হারাল। ইউরোপের বনেদি দেশগুলোর বনেদি কারেন্সি ইউরো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনপ্রিয় কারেন্সিতে পরিনত হল। EUR/USD হয়ে উঠল ফরেক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার। আপনি সবসময় EUR/USD ট্রেড করেন। কিন্তু, ইউরো সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? জানেনকি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত হওয়ার পরেও কেন ডেনমার্ক, পোল্যান্ড ইউরো ব্যবহার করে না? জানেনকি ইউরোর দরপতনের উত্থান পতনের পেছনে প্রধান কারনগুলো কি কি? ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭ টি দেশের মধ্যে (ব্রেক্সিটের কারনে UK কে বাদ দিয়ে ধরে) ১৯ টি দেশের প্রধান কারেন্সি হচ্ছে ইউরো। এই ১৯ টি দেশের তালিকা একটু পরে দিচ্ছি, তবে কয়েকটি বাদে গুরুত্বপূর্ন সবগুলো দেশই ইউরো ব্যবহার করে। যেমন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড, স্পেন ইত্যাদি। এই সবগুলো দেশেরই আগে নিজস্ব কারেন্সি ছিল। তবে, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারী ইউরো প্রচলনের পরে ইউভুক্ত এই দেশগুলো ইউরো ব্যবহার করা শুরু করে। ইউভুক্ত যে দেশগুলো ইউরো ব্যবহার করে, তাদেরকে একত্রে ইউরোজোন বলে ডাকা হয়। যে ১৯ টি দেশ ইউরো ব্যবহার করে: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুইনিয়া, লুক্সেম্বার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন যে ৮ টি দেশ ইউরো ব্যবহার করে নাঃ বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, হাঙ্গেরি, পোলান্ড, রোমেনিয়া ও সুইডেন এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই ৮ টি দেশ কেন ইউরো ব্যবহার করে না? UK কে ধরলে যা আগে ৯ ছিল। ১৯৯২ সালের Maastricht Treaty অনুযায়ী সকল ইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ইউরো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু, সে সময়েই ডেনমার্ক ও ইউকে বিশেষ অব্যাহতি লাভ করে। আর বাকি ৭ টি দেশই এর পরে ইউতে যোগ দেয়। সাধারণত ইউতে যোগ দেয়ার পর প্রথম ২ বছর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষন করে ইউরো ব্যবহার চালু করার কথা। কিন্তু, ইউ এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোকে ইউরো ব্যবহারে বাধ্য করার জন্য তেমন একটা চাপ দেয়নি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইউ গঠনের সময় বড় দেশগুলোর, বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের একটা গোপন উদ্দেশ্য ছিল। এই দুটো দেশ, বিশেষ করে জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ছিল। অর্থনীতি খুব শক্তিশালী হওয়ায় স্বভাবতই জার্মানির কারেন্সি ডয়েচে মার্ক ছিল অনেক শক্তিশালী, যেটা রপ্তানীকারক যেকোন দেশের জন্য সমস্যা। কেননা, তাতে পণ্যের মূল্য বেড়ে যায় কারেন্সির উচ্চ মূল্যের কারনে। আবার, একার পক্ষে জার্মানি বা ফ্রান্স কারো পক্ষেই সম্ভব না ডলার বা পাউন্ডের মত জনপ্রিয় করা নিজেদের কারেন্সিকে, যেটা বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করার জন্য খুবই জরুরি। তাই, তাদের মাথায় এল যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবগুলো দেশের জন্য যদি একটি কারেন্সি চালু করা যায়, তাহলে এক ঢিলে কয়েকটি পাখি মারা যাবে। প্রথমত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অনেক তুলনামুলক দুর্বল দেশও থাকবে। যেহেতু, সবগুলো দেশের একটাই কারেন্সি থাকবে, তারমানে হচ্ছে সবগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর ইউরোর মূল্যমান নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে, জার্মানির অর্থনীতি খুব শক্তিশালী পর্যায়ে চলে গেলেও, ইউরো ততটা শক্তিশালী হবে না। ফলে, রপ্তানীতে জার্মানি একটা অদ্ভুত সুবিধা লাভ করবে, শক্তিশালী কারেন্সি কিন্তু দুর্বল অর্থনীতি। আবার, ইউরো জার্মানির কারেন্সি থেকে দুর্বল হলেও ইউভুক্ত দুর্বল বা মধ্যম সারির দেশগুলোর কারেন্সি থেকে শক্তিশালী হবে। একই কারেন্সিতে পুরো ইউরোপজুরে ব্যবসা হলে, স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল বা মধ্যম সারির দেশগুলো জার্মান বা ফ্রান্সের কোম্পানিগুলোর সাথে প্রোডাক্টের গুনগতমানে পেরে উঠবে না, আবার চাইলেও নিজেদের কারেন্সিকে দুর্বল করে পন্যের মূল্য কমাতে পারবে না। ফলে, আস্তে আস্তে জার্মানি বা ফ্রান্স ইউ এর সামগ্রিক অর্থনীতি দখল করে নেবে। আরও সুবিধা আছে,, জার্মানি নিজে একা চাইলে অন্য কোন দেশ তার সাথে ডয়েচে মার্কে ট্রেড করবে না, কিন্তু, যদি ইউভুক্ত এতগুলো দেশ যদি বলে যে, আমার সাথে ব্যবসা বানিজ্য করতে হলে ইউরোতেই করতে হবে, ডলারে বা পাউন্ডে না, তখন তা করতে অন্য দেশগুলো বাধ্য। শুধু বুদ্ধি করে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। তাহলেই, নিজেদের সুবিধামত ব্যবসা বানিজ্য করা যাবে। তাছাড়া, ইউ এর ছোট বড় সবগুলো দেশেরই একটা অভিন্ন সুবিধা ছিল যে, এর ফলে আর দেশগুলোর বার বার কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করার ঝামেলা পোহাতে হবে না। ইউরোপের মধ্যে আগে থেকেই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি ব্যবসা বানিজ্য করত। এক কারেন্সি ব্যবহার করলে ইউরোপের ভেতরে ব্যবসা বানিজ্য আরো দ্রুত, সহজতর ও নিরাপদ হবে। কেননা, ইউরোর দাম যতই বাড়ুক কমুক না কেন, ইউরোপের ভেতর তো তার প্রভাব তেমন পড়বে না। ইউরোপের ভেতরের কোন কোম্পানি তার পণ্যের উৎপাদনের জন্য কাচামাল ইউরোপের ভেতর থেকেই বেশি কিনবে। কেননা, বাইরে থেকে কিনলে কারেন্সি এক্সচেঞ্জের ব্যয় ও ঝামেলা যেমন আছে, তেমনি কারেন্সিগুলোর ক্রমাগত উত্থান পতনের জন্যে কাচামালের দামও ক্রমাগত উঠানামা করবে। যেটা ইউরোজোনের মধ্যে মোটামুটি সবসময় স্থিতিশীল থাকবে। বলা বাহুল্য, এই পরিকল্পনা পুরোপুরি কাজে দেয়। আর এজন্যেই জার্মানি, চীনের এই বিশাল উত্থানের পরেও আজও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানীকারক দেশ এবং খুবই শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতির অধিকারী। ফ্রান্স তার পরিকল্পনামত সাফল্য না পেলেও, ইউরোর সুবিধামত ঠিকই ভোগ করছে ইউরোর দুর্বল মূল্যমানের কারনে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইতালি, গ্রীস। বিশেষ করে, গ্রীসের জনগণ ইউরোর উপর ত্যক্ত বিরক্ত ও নিজেদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে। অন্য সব কারেন্সির তুলনায় ইউরোর উত্থান পতনের পেছনে তাই শুধুমাত্র একটি দেশ নয়, ইউরোজোনের সবগুলো দেশেরই ভুমিকা আছে। আর তাই, ইউরো ট্রেড করতে হলে আপনাকে শুধু জার্মানি বা ফ্রান্স নয়, সবগুলো দেশের অর্থনীতির হালচালের উপরই কমবেশি খেয়াল রাখতে হবে। ইউরোজোনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসিবির উপর নজর রাখতে হবে। তবে, অসুবিধা যেমন আছে, সুবিধাও আছে। অনেক ফরেক্স ট্রেডার ইউরো শুধু সেল করেন যখন ইউরো শক্তিশালী হয়, কখনো বাই করেন না। কেননা, ইউরো তখনই শক্তিশালী হয়, যখন ইউরোজোনের সামগ্রিক অর্থনীতি ভালো থাকে। আর দুর্বল হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি সদস্যরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিপর্যস্ততাই যথেষ্ট। তাই, অভিজ্ঞ ফরেক্স ট্রেডার মাত্রই বুঝেন যে, ইউরো খুব শক্তিশালী হওয়া মানেই হচ্ছে ইউরো সেল করার আর প্রফিট করার সময় চলে এসেছে। আর এটাই ফরেক্স ট্রেডারদের মাঝে ইউরোর এত জনপ্রিয়তার প্রধান রহস্য, এর স্থিতিশীলতা। ইউরো গঠনের ইতিহাস থেকেই বুঝতে পারছেন যে, এর পেছনের প্রধান উদ্যোক্তা জার্মানি বা ফ্রান্স কখনোই চাবেনা ইউরো খুব শক্তিশালী হোক। আর এটাও চাবেনা যে খুব বেশি দুর্বলও হয়ে পড়ুক। তাই, পাউন্ড বা ইয়েনের মত অস্বাভাবিক উত্থান পতন ইউরোর কমই হয়। এতগুলো দেশের অর্থনীতির খবর রাখার ঝামেলা, নাকি ইউরোর এই অদ্ভুত স্থিতিশীলতা, কোনটি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন? আপনার সুবিধা অনুসারে এখন আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারবেন, আপনি ইউরো ট্রেড করবেন কি না! কোন কোন ঘটনা বা ইভেন্টের কারনে ইউরো বা এর সবচেয়ে জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার EUR/USD সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়, তা নিয়ে আলোচনা করব আরেকদিন। আপনি নিয়মিত ইউরো ট্রেড করে থাকলে আরো পড়ুনঃ ECB – ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক কি? ফরেক্স মার্কেটে ইসিবির প্রভাবই বা কি?
  12. ফরেক্স মার্কেটে যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড করে থাকেন, তবে সম্ভবত আপনার সবচেয়ে লাভের এবং লসের ট্রেডটি পাউন্ডের কোন পেয়ারের। হ্যাঁ, পাউন্ড হল সবচেয়ে ভোলাটাইল কারেন্সিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। ঐতিহাসিক ভাবেও পাউড কারেন্সিটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। ফরেক্স ট্রেড করতে হলে শুধু প্রাইস কোনদিকে বাড়ছে বা কমছে তা জানাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, সাথে সাথে আপনি যে দুটি কারেন্সি বা মুদ্রা নিয়ে ট্রেড করছেন, সেগুলো সম্পর্কে জানাও বেশ জরুরী। গত আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে ডলার আদ্যোপান্ত নিয়ে। আজকের লেখায় আমরা জানবো পাউন্ড কি, পাউন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কি কি বিষয় পাউন্ডকে প্রভাবিত করে। পাউন্ড কি? পৃথিবীতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুদ্রা হচ্ছে ব্রিটিশ পাউন্ড। ব্রিটিশ পাউন্ডকে “পাউন্ড স্টারলিং” ও বলা হয়। পাউন্ড বিশ্বের চতূর্থ সর্বোচ্চ ট্রেড হওয়া মুদ্রা এবং তৃতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ কারেন্সি। এর পূর্ণরুপ Great Britain Pound বা সংক্ষেপে GBP নামে পরিচিত। পাউন্ড সংশ্লিষ্ট কারেন্সি পেয়ারগুলোকে আমরা GBP/XXX অথবা XXX/GBP এভাবে দেখতে পাই। আসুন, পাউন্ড সম্পর্কে আরো জানি অর্থনীতির ইতিহাসে পাউন্ডের গুরুত্ব রয়েছে অনেক। একটা সময় ছিলো যখন পাউন্ডই ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রা। কিন্তু বর্তমান মার্কেটের আন্তর্জাতিক ট্রেড এবং অ্যাকাউন্ট বিবেচনায় পাউন্ডের সেই অবস্থান দখল করেছে মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ এবং ব্রিটিশ সম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ার ফলশ্রুতিতে ১৯৪০ সালে পাউন্ড তার শ্রেষ্ঠত্ব হারায়। এরপর ধাপে ধাপে পাউন্ড বিভিন্ন সময় অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় পড়ে। হেজ ফান্ড এবং কারেন্সি এক্সচেঞ্জের ইতিহাসেও পাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। ১৯৯০ সালে বৃটেন ইউরোপিয়ান এক্সচেঞ্জ রেট মেকানিজমে যোগ দেয় এই প্রত্যাশায় যে এটি এক্সচেঞ্জ রেটের সমস্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে সক্ষম হবে এবং একটি মাত্র কারেন্সি ব্যবহারের পথ সুগম করবে। দুর্ভাগ্যবশত এই পদ্ধতির মাধ্যমে আশানুরূপ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়নি এবং পাউন্ড বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মুখে পড়ে। এ সময়ে বিখ্যাত কারেন্সি বিশেষজ্ঞ জর্জ সরোস বলেন যে পাউন্ডের এই রেট টিকবে না এবং অনেকেই তখন বিপুলভাবে পাউন্ড শর্ট করেন। এবং পাউন্ডও ইতিমধ্যে এই সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসে যা Black Wednesday নামে পরিচিত। জর্জ সরোস একাই ১ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমান লাভ করেন সেই ঘটনার কারণে। সম্প্রতি ব্রেক্সিটের কারনেও পাউন্ড বিপুলভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। ফরেক্স মার্কেটের সকল গুরুত্বপূর্ণ কারেন্সির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তেমনি পাউন্ড মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক - ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মাধ্যমে। মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রন সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির হার ২% এ বজায় রাখতে। যে বিষয়গুলো পাউন্ডকে প্রভাবিত করে যেই সাধারন অর্থনৈতিক বিষয়গুলো ডলারকে প্রভাবিত করে, সেগুলোর বেশিরভাগই অন্যান্য কারেন্সিগুলোকেও প্রভাবিত করে। পাউন্ডও এর ব্যাতিক্রম নয়। ট্রেডিংয়ের জন্য ট্রেডাররা পাউন্ডের অর্থনৈতিক ডাটা বা রিপোর্টগুলকে খুব গুরুত্বের সাথে নেয়। সুদের হার বা ইন্টারেস্ট রেটের পরিবর্তন, জিডিপি, রিটেইল সেলস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন, মুদ্রাস্ফিতি এবং ট্রেড ব্যালেন্স রিপোর্টগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। এছাড়া Employment রিপোর্টগুলো যেমন কি পরিমান নতুন চাকরী হচ্ছে, বেকারত্বের হার ইত্যাদি রিপোর্টগুলোও মার্কেটে প্রভাব ফেলে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্য মার্কেটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পাউন্ড ট্রেডিং করার সময় এ সকল বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। রিজার্ভ কারেন্সির দিক থেকে পাউন্ডের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। বর্তমানেও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কারেন্সি হিসেবে পাউন্ড মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। জনসংখ্যা এবং আকারের দিক থেকে খুব বড় না হলেও ব্রিটেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি এবং বিশ্ব নেতৃত্বের দিক থেকেও অন্যতম। ভোলাটাইল কারেন্সি হিসেবে পরিচিত হলেও ডলারের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে পাউন্ডের অবস্থান নিঃসন্দেহে সুদৃঢ়। পরবর্তীতে আমরা আলোচনা করবো কোন ৫ ধরনের নিউজ পাউন্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×