Jump to content
  • Announcements

    • তানভীর™

      বিডিপিপসের নতুন ভার্সনে সবাইকে স্বাগতম   বৃহস্পতিবার 18 জানু 2018

      বিডিপিপসের নতুন ভার্সনে সবাইকে স্বাগতম। বিডিপিপসে বেশ কিছু নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন করে আপডেট করা হয়েছে। ফোরাম ব্যবহার করতে গিয়ে কোন নতুন সমস্যায় পরলে মডারেটরদের অবহিত করুন। এবং এখন থেকে ফোরামে ডিসপ্লে নেম পদ্ধতি উঠে যাচ্ছে। যে ইউজারনেম দিয়ে লগিন করছেন, সেই ইউজারনেমই ফোরামে দেখানো হবে। তাই ইউজারনেম/ডিসপ্লে নেম আপনার অ্যাকাউন্ট সেটিংস থেকে আপডেট করে নিতে পারেন।
    বিডিপিপস চ্যাট

    Load More
    চ্যাট করলে লগিন বা রেজিস্ট্রেশন করুন।

forexnews

BDPIPS News
  • Content count

    242
  • Joined

  • Last visited

  • Days Won

    103

forexnews last won the day on January 7

forexnews had the most liked content!

Community Reputation

836 Excellent

About forexnews

  • Rank
    Forex News by BdPips

Contact Methods

  • Website URL
    http://bdpips.com

Profile Information

  • Gender
    Male
  1. গত বছরের শুরুটা কিন্তু ইউরো-ডলারের জন্য আশার বাণী নিয়ে আসেনি। ইউরো ছিল যথেষ্ট দুর্বল। অনেক বাঘা বাঘা অ্যানালিস্টরাই ধারনা করছিলেন ইউরো বুঝি এবার পেয়ারিটিতে পৌঁছাবে। ১.০০ বা এরও নিচে নেমে আসবে EUR/USD পেয়ারটি। যেভাবে দুর্বল হয়েছিল ইউরো, তাতে এই ধারনাটি অমুলক ছিল না। তবে সব আশংকা কাটিয়ে ইউরো আবার শক্তিশালী রুপ ধারন করেছে। ডলারের বিপরীতে ছাড়িয়ে গেছে ১.২০ প্রাইস লেভেলকে। তবে চলে এসেছে নতুন বছর ২০১৮ এবং ২টি আশংকা সামনে থেকেই যায়। ইউরো-ডলার কি আরও শক্তিশালী হবে? পারবে ১.২৫ কেও ছাড়িয়ে যেতে? নাকি গত বছরের মত দুর্বল অবস্থায় ১.১০ এর নিচে চলে আসবে? ২টি প্রখ্যাত রিসার্চ সংস্থা EUR/USD পেয়ারের প্রতি ২ রকম ভবিষ্যৎবাণী করেছে। ট্রেডিংয়ের সুবিধার্তে ২টি সম্ভবনাই আপনি জেনে রাখতে পারেন। তবে ট্রেড করার সময় অবশ্যই নিজেকে অ্যানালাইসিস করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ১.২৫ এর পথে ইউরো-ডলারঃ ING ING ফরেক্স স্ট্রাটেজি রিসার্চ ইউরো সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেছে যে, ইউরো প্রাইস ডলারের বিপরীতে ১.২৫ এর দিকে বাড়তে বছরের ১ম প্রান্তিকের (Q1) পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে। নতুন বছরে ইউরো তার গতি ধরে রেখেছে। ইউরো ঊর্ধ্বগতিতেই রয়েছে এবং ইতিবাচক ভাব অব্যাহত রেখেছে। এই বিষয়গুলোই ING অ্যানালিস্টদের এই অভিমতের পেছনে গুরুত্ব পেয়েছে যে বছরের ২য় প্রান্তিকে (Q2) EUR/USD পেয়ারটি ১.২৫ এর ওপরে অবস্থান করবে। তবে ১.২৫ এর পথে প্রাইস বৃদ্ধির পথে সেন্ট্রাল ব্যাংকের কিছু ডোভিশ সিদ্ধান্ত বাধা হিসেবে আস্তেই পারে। তবে ING অ্যানালিস্টদের মতে, ইউরো-ডলারের ১.২৫ প্রাইসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেসব কারণে প্রাইস বাড়ার আগে ১.১০ তে আসবে ইউরো-ডলারঃ BofAML আমেরিকা মেরিল লিঞ্চ ব্যাংকের ফরেক্স স্ট্রাটেজি রিসার্চ ডিভিশন অভিমত প্রকাশ করেছে যে ইউরো ডোলারের বিপরীতে নিচের দিকে যাবে কিছু বিশেষ কারণে। কারণগুলো হলঃ ইউরোর প্রাইস বৃদ্ধির হার তার ফাইন্যান্সিয়াল ডাটাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে মার্কেট অনেকদিন ধরেই ইউরো বাই এর পক্ষে আছে। আর এই পজিশনটি এখন একটু ঝুঁকিপূর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ডাইভারজেন্স তৈরি হয়তে পারে, এবং ফেড এক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে ইউএস ট্যাক্স রিফর্ম ডলারকে বেগবান করবে বছরের ১ম প্রান্তিকে (Q1) ইউরো-ডলার দুর্বল হয়ে ১.১০ তে আসবে বলেই BofAML ধারনা করছে। তবে এরপর আস্তে আস্তে ওপরের দিকে ইকুইলিব্রিয়াম প্রাইসে চলে আসবে। তাতে ২০১৮ এর শেষে ১.১৯ এবং ২০১৯ সালের সেশে ১.২৫ প্রাইসে চলে আসবে EUR/USD তাই ধারনা করছেন BofAML বিশেষজ্ঞরা। আপনার কি অভিমত? বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোনদিকে যেতে পারে আপনার পছন্দের EUR/USD পেয়ারটি? নিচে মন্তব্য করে আপনার ধারনা এবং অ্যানালাইসিস শেয়ার করুন আমাদের সাথে। ২০১৮ তে সবার ট্রেডিং শুভ হোক এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করছি।
  2. চলে এসেছে নতুন একটি সপ্তাহ। ফরেক্স ট্রেডিং করতে গেলে সে সপ্তাহে কি কি গুরুত্বপূর্ণ নিউজ এবং ইভেন্ট রয়েছে তা জানা জরুরি। সাথে সাথে চলমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে নজর রাখা উচিত প্রতিটি ট্রেডারেরই। চলুন দেখে নেয়া যাক এ সপ্তাহে ফরেক্স মার্কেট কেমন যেতে পারে। নতুন মাস শুরু হলেই শুরু হয় নতুন নতুন নিউজ রিপোর্ট এবং ডাটা রিলিজ। এ মাসেও রয়েছে এরকম অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিউজ, আর তার অনেকগুলোই প্রকাশিত হবে এ সপ্তাহে। এ সপ্তাহে সার্ভিস PMI এবং ISM Non-Manufacturing PMI রিপোর্ট রয়েছে। ইউএস অটো সেলস গত কয়েক মাসে বেড়েছে। এরকম ভিন্ন ভিন্ন ডাটা নির্দেশ করছে যে আমেরিকার অর্থনীতি শক্তিশালি হচ্ছে। চতুর্থ প্রান্টিকে আটলান্তারফেডারেল রিজার্ভ জিডিপি ৩.৫% এবং নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ জিডিপি ৩.৯% এ দাঁড়িয়েছে। এ সপ্তাহে ট্রেডারদের মূল আকর্ষণ জব রিপোর্টের দিকে। প্রতি মাসের মত এ মাসেও NFP (নন ফার্ম পে-রোল) মার্কেটে ভাল প্রভাব ফেলতে পারে। নভেম্বরেরজব রিপোর্ট ৮ তারিখ শুক্রবার প্রকাশিত হবে। প্রতি মাসে জব রিপোর্ট পরিবর্তিত হলেও, গড় নতুন চাকরির পরিমান প্রায় একই রয়েছে। গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ১৮৭,০০০করে নতুন জব তৈরি হয়েছে। কিন্তু আগস্টে ঝড়ের আগে ১৭৬.০০০ জব তৈরি হয়েছিল। এবার নভেম্বরে প্রায় ২০০,০০০ নতুন জব তৈরি হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রত্যাশার চেয়ে কম-বেশি ফলাফল ডলারকে প্রভাবিত করবে। এছাড়াও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। তবে তার থেকে মার্কেটে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে Average Hourly Earnings রিপোর্টটি। অনেক বিশেষজ্ঞরাই ধারনা করছেন আগামী বছর মুদ্রাস্ফিতি বাড়তে পারে, আর নভেম্বরের রিপোর্টে তাতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে। ১৩ ডিসেম্বর ফেড রেট বৃদ্ধি করতে পারে এরকম কিছু ধারনা করছেন অনেকে। মুলত এক ফেড অফিসিয়ালের বক্তব্য থেকেই এ ধারনার সৃষ্টি। অর্থনৈতিক রিপোর্টগুলো এ সপ্তাহে হেডলাইন করলেও, আসল প্রভাব ফেলতে পারে রাজনৈতিক কারনগুলো। এ সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হল - ট্যাক্স রিফর্ম এবং ট্রাম্প-ফ্লিন সংক্রান্ত রাশিয়ান ইনভেস্টিগেশন। যদিও আজ ডলার শক্তিশালিভাবে দিন শুরু করেছে। ট্রাম্প-ফ্লিনের বিষয়টি পাত্তা না পেলেও ট্যাক্স রিফর্ম গুরুত্ব পেয়েছে মার্কেটে। ফ্লিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে রাজি হয়েছে এফবিআইয়ের কাছে যে ট্রাম্প তাকে রাশিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমানিত হলে তা ট্রাম্পেরজন্য ভয়ংকর, তথা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মঙ্গল এবং বুধবার রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউজিল্যান্ড এবং ব্যাংক অফ কানাডার পলিসি মিটিং রয়েছে। যদিও কোনটিরই পলিসি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রধান মারিও দ্রাঘি বক্তব্য রাখবেন। এই ছিল এ সপ্তাহের প্রাথমিক আপডেট। প্রতিদিনের আর বিস্তারিত মার্কেট আপডেট পেতে এখন থেকে বিডিপিপসের সাথেই থাকুন।
  3. যুক্তরাষ্ট্রে গেল সপ্তাহজুড়ে শিরোনাম দখলে রেখেছে FOMC এর দুটি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ডিসেম্বর নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়েলের নাম ঘোষণা করেন যিনি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরস বোর্ডের একজন সদস্য। সুদের হার বাড়তে পারে ডিসেম্বরে গত সপ্তাহে সর্বশেষ মিটিং এ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার ১% থেকে ১.২৫% সীমারেখার মধ্যে অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টি ফেডারেল ব্যাংকের নজরে আনে। অর্থনীতিবীদ এবং মার্কেট গবেষকগণ এমনটাই ধারণা করেছিলেন। এদিকে ডিসেম্বর থেকে হার বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে হ্যারিকেন আঘাত হানার ফলে সুদের হারের সাময়িক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কিছুটা বিপর্যস্ত হয়। “FOMC এর সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী হ্যারিকেন আঘাত হানা সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমের বাজার শক্তিশালী হতে থাকে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।“ এমনটাই বিবৃতি দিয়েছে FOMC যা সুদের হার বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। সম্প্রতি স্থায়ী বিনিয়োগে ঊর্ধ্বগতি আশা করে বলে ফেড তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে। ফেডের ঘোষনার ফলে মার্কেটে কিছুটা পরিবর্তন আসে। FOMC কর্তৃক এই ঘোষণা আসার সাথে সাথে মার্কেটের সুদৃঢ় অবস্থান লক্ষ করা যায় যা ৮৭.৫% এ দাড়ায়। এর ফলে ডিসেম্বরে রেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। ২০১৮ সালেও তিন দফায় সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারেও ফেডের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মার্কেট ২ দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে তা পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষত সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৩% প্রবৃদ্ধির কারণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক মাসিক বন্ড হ্রাসের কার্যক্রমও ঘোষনা করেছে। ব্যালেন্স সিটের নরমালাইজেশন হিসেবে পরিচিত এ পরিকল্পনার মাধ্যমে অক্টোবর থেকে ফেড তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে যার মাধ্যমে প্রতি মাসেই ১০ বিলিয়ন ডলার মুল্যের বন্ড কমানো হচ্ছে। পরবর্তী বছরের প্রথম দিকে এই হ্রাসের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রতি মাসে ৫০ বিলিয়ন ডলার করে কমবে বলে ধারণা করছে ফেড। জেরোমি পাওয়েল, ফেডের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এশিয়া সফরকে সামনে রেখে ফেড প্রধান নির্বাচনের ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত জানান। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ফেডের পরবরর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে জেরোমি পাওয়েলের নাম ঘোষণা করেছেন। বর্তমান আলোচিত ফেড চেয়ারম্যান জেনেট ইয়েলেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৪ সালে জ্যানেট ইয়েলেন ওবামা প্রশাসন কর্তৃক ফেডের প্রধান নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি বেন বার্নাঙ্কের অধীনে দায়িত্বরত ছিলেন। পাওয়েল নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা খুবএকটি আশ্চর্যজনক ছিল না কারো কাছেই। FOMC এর একজন সদস্য হিসেবে তিনিও যে তার পূর্বানুসারীদের মত নির্বাচিত হতে পারেন সে ধারনা অনেকেই করেছিল। পাওয়েল ২০১২ সাল থেকে FOMC এর বোর্ডে দায়িত্বরত আছেন এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে তার ভূমিকাই ছিল মূখ্য। যার ফলে তার নমিনেশন এবং নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারটি মার্কেটের চোখে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পাওয়েল তার বর্তমান ধারা বজায় রেখেই কাজ করবেন, তাই মার্কেটে হুট করে বড় ধরনের চমক আসার সম্ভাবনা কম বলেই ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।
  4. একেই বলে, কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। হ্যারিকেনের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্র পর্যুদস্ত হয়েছিল কিছু দিন আগেই। ফলে দেশটিতে তেলের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। আর তার সাথে যোগ হয়েছে অনেক দিন ধরেই চলা সৌদি আরব ও রাশিয়ার তেলের দাম বাড়ানোর প্রচেস্টা। ফলাফল? দুই বছরের শীর্ষে তেলের মূল্য এখন। ট্রেডারদের নজর তাই এখন তেলের দিকে। কিছুদিন ধরেই তেলের দাম বাড়ছে। আর অবশেষে এবার তেল শক্তিশালী রেজিসট্যান্স লাইন ভেঙ্গে $৫৫.২০ তে অবস্থান করছে, যা সাম্প্রতিককালে সর্বোচ্চ $৫৫.৬১ প্রাইসে উঠেছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর এবং ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে তেলের মূল্য ৫৫.২০ ডলারে উন্নীত হয়। বর্তমানে তেলের যে মূল্য সেটি নির্ধারিত হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে। তখন তেল উৎপাদনও হত অনেক দ্রুত। ২০১৪ সালে OPEC তেলের উৎপাদন না কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় যা পরবর্তিতে বিপর্যয় ডেকে আনে। ২০১৫ সাল নাগাদ দাম দাঁড়ায় ৫৬.৬৪ ডলারে। পরবর্তিতে তেলের মূল্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬২.৭০ ডলারে যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। বর্তমান সময়ের এই মূল্য বিগত বছরগুলোর মুল্যকে ছাপিয়ে আবার ২০১৪ সালের প্রাইসে অবস্থান করছে। OPEK এবং non-OPEC ভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে চলমান বাধাসমুহের ফলেই তেলের মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে যাওয়া হ্যারিকেনও মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ। তেলের মূল্য এভাবেই বৃদ্ধি পেতে থাকবে নাকি স্বাভাবিক থাকবে তা অনেকাংশে নির্ভির করে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনের ওপর। যদি আমেরিকা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়, তবেই এই ঊর্ধ্বগতি থামতে পারে।
  5. বৃহস্পতিবার ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড বিগত ১০ বছরে প্রথমবারের মত তাদের সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে আর বলা হয়েছে যে আগামী তিন বছর সুদের হার বৃদ্ধি বজায় থাকবে, তবে তা হতে পারে খুব অল্প। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এর ভাষ্যমতে, সুদের নীতিনির্ধারণকারী ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দেন যার ফলে ২০১৬ সালের প্রস্তাবিত নীতি বাতিল করে বর্তমানে সুদের হার ০.২৫% থেকে ০.৫০% এ বৃদ্ধি করা হয়। ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সুদের হার বৃদ্ধি করে। ইংল্যান্ডের মার্কেটে ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সতর্কতামূলক অবস্থানের ফলে ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রা এবং সরকারী বন্ডের মূল্য প্রায় এক শতাংশ কমে যায়। ব্রেক্সিট ভোটের পরে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে অতিমন্দায় পাউন্ডের মূল্য কমে যায়। যার ফলে বৃটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ধীর গতি লক্ষ করা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়তে না দিয়ে কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি করতে ব্যর্থ হয়। বরং তারা সুদের হার বৃদ্ধিকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। সেপ্টেম্বরে ভোক্তার মূল্যস্ফীতি ৩% এ গিয়ে ঠেকে যা বিগত ৫ বছরে প্রথম এবং ধারণা করা হচ্ছে এই হার অক্টোবর নাগাদ ৩.২% এ উন্নিত হবে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ভাষ্যমতে, ১৯৭০ সালের পর বেকারত্বের হার হ্রাস এবং জনবলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বৃদ্ধির লক্ষণ। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনে করে, যদি ফিনান্সিয়াল মার্কেটে ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধির ধীর গতি বজায় রাখে তাহলে মুদ্রাস্ফীতির হার ২% এ নামিয়ে আনা সম্ভব। মুদ্রাস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে এর হার ১% এ দাঁড়াবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও একই পথ অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মন্দা পরবর্তী সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি করে এবং ইউরোপীয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ইউরোভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এর মতে, আগামী বছর বৃটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশে এবং ২০১৯ সালে ১.৭ শতাংশে উন্নিত হবে। সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বে বৃটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ২% এর অধিক বৃদ্ধি হত।
  6. আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েও সুখে নেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন। অবশ্য সুযোগ পেলেই নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতেই ছাড়ছেন না ট্রাম্প। তবে, ফেড প্রধান নির্বাচন করতে যেয়ে যে ডলারকে শক্তিশালী করে ফেলছেন, সেটা কি ট্রাম্প নিজেও জানেন? তাহলে তো টুইটারে এটার ক্রেডিট নিয়েও একটা টুইট আসতো! ফরেক্স মার্কেটে বর্তমান ঘটনা হচ্ছে, ডলার শক্তিশালী হচ্ছে আর ইউরো দুর্বল হচ্ছে। ইউরোর দিনকাল এমনিতেই গত কয়েকদিনে বেশ মন্দ হচ্ছে।তবে গত সপ্তাহেই এই বছরের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মুল্যপতন হয়েছে ইউরোর, EUR/USD নেমে গিয়েছিল ১.১৫৮৬ এ। গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততর প্রত্যাশিত আর্থিক সহায়তার সমর্থনকারী ক্রেতারা এবং ব্যবসায়ের ব্যয় সম্পর্কে তথ্য জানানোর পর শুক্রবার মূল্যের মুদ্রানীতির বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে। মার্কিন ডলার সূচক, যা একটি বাণিজ্য ভিত্তিক সংস্থা গ্রীনব্যাক এর শক্তিমত্তার পরিমাপ করে তা ছয়টি প্রধান কারেন্সি এর বিরুদ্ধে বেড়ে দাড়িয়েছে ০.০৩% থেকে ৯৪.৯২ পর্যন্ত। গত শুক্রবার বাণিজ্য বিভাগ তাদের প্রাথমিক হিসেবে জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর এর মধ্যে গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট অর্থাৎ সকল দেশীয় পণ্যের বার্ষিক দাম ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ২.৫% এর চেয়ে বেশি ছিল। একটি সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় যে, আগামী ফেব্রুয়ারীতে বর্তমান ফেডারেল চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়েলেনের সময় শেষ হওয়ার পর তার পরিবর্তে সেই স্থানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন ফেডারেল গভর্নর জেরোম পাওয়েল এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ জন টেইলর। ট্রাম্প নভেম্বরের শুরুতে এশিয়ার একটি সফরের আগে প্রার্থী ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে কে হবে আগামী ফেডারেল চেয়ারম্যান সেটা জানার জন্য আমাদেরকে ট্রাম্পের আসন্ন ঘোষণার জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডলারের দাম টানা ২য় সপ্তাহে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে এবং সামনে এর আভ্যন্তরীণ মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন। এসিএলএস গ্লোবালের প্রধান কৌশলবিদ মার্শাল গিটলার বলেন, “আমি মনে করি ডলার এখন খুবই ভাল একটি অবস্থান এর মধ্যে রয়েছে এবং আরও মধ্যমেয়াদী লাভ হবে কিনা সেই ব্যাপারটা আমার কাছে খানিকটা ঘোলাটে। সপ্তাহ শেষের আগে কিছু লাভ এবং অবস্থার অবসান ঘটতে পারে। যাইহোক, এটি একটি দারুন সপ্তাহ ছিল ডলারের জন্য, যা অন্যান্য সমস্ত জি-১০ মুদ্রার বিপরীতে ডলারকে শক্তিশালী করেছে”। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ডের দাম কমে যাওয়ার এবং বৃহস্পতিবার ইসিবি সভাপতি মারিও দ্রাঘির কিছুটা বিব্রতকর মন্তব্যের পর ক্রমবর্ধমান ডলারের বিপরীতে ইউরোর মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যা ইউরোর জন্য আশংকাজনকই বটে। ইউরো/ডলার ৩ মাসের সর্বনিম্ন ১.১৫৮৬ এর নিচে ০.৫৭% কমে যায়, ইউরো/পাউন্ড ০.১৬% কমে ০.৮৮৩৯ তে নেমে আসে। পাউন্ড/ডলার ০.৩৭% কমে ১.১৩১২, ডলার/ইয়েন ১১৩.৯৭ প্রাইসে ট্রেড হয়েছে। বুধবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার জন্য কানাডার ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর ডলার/ক্যাড ০.২০% কমে ১.২৮৭২ প্রাইসে ট্রেড হয়েছে। তো এই ছিল আমাদের আজকের ফরেক্স আপডেট। আশা করি আপনারা এতক্ষণে পুরো বিষয়টি বুঝে গিয়েছেন যে, কে হতে পারে আগামী ট্রাম্প এর নির্বাচিত ফেড প্রধান এবং ২০১৭ সালের ইউরো এর সবচেয়ে বড় পতন সম্পর্কে। এভাবে ফরেক্স এর সকল আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ফরেক্স এর আপডেট সম্পর্কে আপনার যে কোন মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। নিজের খেয়াল রাখুন এবং ভাল বিষয়গুলো সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন।
  7. ব্রেক্সিটের ধাক্কায় এমনিতেই ইউরোপ কাহিল, তার মধ্যে মরার উপর খরার ঘা হতে পারে ফ্রান্সের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে মেরিনে লে পেন নির্বাচিত হলে তা ব্রেক্সিটের থেকেও মারাত্মক হবে। কেননা এতে ইউরোর অস্তিত্বই ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে, ট্রেডাররা হারাতে পারেন EUR/USD ট্রেড করার সুযোগ। এক নজরে ফ্রান্সের জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইলেকশন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ থেকে বেশ ভিন্ন। জনগন সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট হতে হলে একজন প্রার্থীকে নুন্যতম ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী লড়বেন। ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩ শে এপ্রিল। কোন প্রার্থীই ৫০ শতাংশ এর বেশি ভোট না পেলে, সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুইজন প্রার্থীর মধ্যে থেকে একজনকে নির্বাচনের জন্য আবার ভোট হবে ৭ মে, যেটাকে ভোটের দ্বিতীয় রাউন্ড বলা হয়। কোন প্রার্থীই যে প্রথম রাঊন্ডে সরাসরি বিজয়ী হতে পারবেন না, তা নিশ্চিত। তাই, দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটের উপরই সব নির্ভর করবে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীগন মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই অনুষ্ঠিত হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে মূলত মধ্য ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টি প্রার্থী Francois Fillon, চরম ডানপন্থী Marine Le Pen এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী Emmanuel Macron এর মধ্যে। এছাড়াও রয়েছেন বামপন্থী Benoît Hamon ও Jean-Luc Mélenchon। সর্বশেষ জন্মত জরীপে বেশ কিছুদিন ধরেই এগিয়ে রয়েছেন ফ্রান্সের ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেরিনে লে পেন। তীব্র অধিবাসী, শরণার্থী ও ইসলাম বিরোধী মেরিনে লে পেন ইউরোপিয়ান কারেন্সি ইউরোর বিপক্ষে। ক্ষমতায় গেলে তিনি ফ্রান্সের নিজস্ব কারেন্সি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন নীতির কট্টর বিরোধীও তিনি। মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার কারনেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি এবং এটাকেই পুজি করে তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। গতকালের জনমত জরীপ অনুসারে (The Elabe poll), ২৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লে পেনই। তবে, খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন এমানুয়েল ম্যাক্রন। ২৫.৫ শতাংশ ভোট নিয়ে লে পেনের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি। বয়সে তরুন মাক্রন (৩৯ বছর), ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমর্থক। এছাড়া শরণার্থীদের প্রতিও তুলনামুলক উদার দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে মিলে মিশে সীমান্ত, সন্ত্রাস, বেকারত্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পক্ষে তিনি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফিলন জনমত জরীপে অবস্থান করছেন তৃতীয় অবস্থানে। মূলত তাকেই লে পেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হলেও, স্ত্রীকে বিনা কাজে সরকারী চাকুরীর নামে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ চলছে। এর ফলে দ্রুতই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন তিনি। নির্বাচনে যা হতে পারে আগেই বলা হয়েছে যে, প্রথম রাউন্ডে কোন প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন না। ধারনা করা হচ্ছে, মেরিনে লে পেন ও ম্যাক্রন এর মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে মজার ব্যাপার হল, ২৬ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ তার চরম ডানপন্থী নীতির বিরুদ্ধে। এখন পর্যন্ত সবগুলো জনমত জরীপ বলছে যে, প্রথম রাউন্ডে তিনিই বিজয়ী হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি হেরে যাবেন ম্যাক্রন বা ফিলনের কাছে। (ম্যাক্রন বা ফিলন পাবেন ৬০ শতাংশ, লে পেন পাবেন ৪০ শতাংশ) । তবে, জনমত জরীপও যে ভুল হতে পারে, তা তো সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে। যে কারনে একজন ফরেক্স ট্রেডারের কাছে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ জার্মানির পরেই ইউরোপের দ্বিতীয় প্রধান পরাশক্তি হচ্ছে ফ্রান্স। ফ্রান্স ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। যদি লে পেন নির্বাচিত হয়ে ইউরোর বদলে নিজস্ব মুদ্রা চালু করেন, তাহলে অস্তিত্বের সংকটে পড়বে ইউরো। বর্তমানে, গ্রিসসহ অনেক দেশই ইউরোর মূল্যায়নের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত। ফ্রান্স ইউরো থেকে বের হয়ে গেলে, তারাও এর সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে। লে পেন নির্বাচিত হলে, ইউরো এর মেজর কারেন্সি পেয়ারগুলো ১০০০ পিপস এর বেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এমনকি, EUR/USD এর সর্বকালের সর্বনিম্ন প্রাইসের রেকর্ডও ভেঙ্গে যেতে পারে। অন্যদিকে, ম্যাক্রন নির্বাচিত হলে ইউরো তাৎক্ষনিক কয়েকশ পিপস শক্তিশালী হবে। তবে, ইউরো দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল থাকায়, তা খুব বেশি সময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এটাতো গেল শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনের কথা। ফ্রান্সের ইলেকশনের প্রভাব এখনই পড়তে শুরু করেছে ফরেক্স মার্কেটে। সাম্প্রতিক সময়ে যখনই জনমত জরীপে লে পেনের এগিয়ে থাকার খবর আসছে, ইউরো তাৎক্ষনিকভাবে দুর্বল হচ্ছে। এমনটা চলবে ৭ মে পর্যন্ত। আর তাই, নির্বাচনের দিন আপনি ট্রেড করুন আর নাই করুন, চাইলেই এই নির্বাচন থেকে আপনি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারছেন না। ব্রেক্সিটের মতই ফ্রান্সের নির্বাচনের সমস্ত আপডেট পাওয়া যাবে বিডিপিপসে। এছাড়াও, নির্বাচনের দিন বিডিপিপসের বিশেষ কাভারেজ থাকবে।
  8. গত বছরের শেষ শক্তিশালী ডলারের দাপটে পেয়ারিটি নিয়ে ফরেক্স মার্কেটে প্রেসার থাকলেও গত সপ্তাহে ইউরোডলারের ১.০৬৫২ প্রাইসে ঘুরে আসায় বিশেষজ্ঞরা আপাতত পেয়ারিটির সম্ভাবনা কমই দেখছেন। বছরের শেষে বিডিপিপসে আমরা পেয়ারিটি কি এবং EUR/USD কি পেয়ারিটি ১.০০ পয়েন্টের দিকেই যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখা প্রকাশ করেছিলাম যা ট্রেডাররা বেশ পছন্দ করেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই EUR/USD কারেন্সি পেয়ারটির পেয়ারিটি ১.০০ প্রাইসে পৌঁছে যাওয়ার বর্তমান হালচাল নিয়ে এই লেখা। গত সপ্তাহেও পেয়ারিটি হওয়ার যে সম্ভাবনাটি দেখা যাচ্ছিল, তার থেকে বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাবনা কমই দেখছেন। নেদারল্যান্ডের রাবো ব্যাংকের সিনিয়র ফরেক্স স্ট্রাটেজিস্ট জেন ফলেয় এর মতে পেয়ারিটি হবার প্রেসার মার্কেটে তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। মে ২০১৬ এর তুলনায়, ডলার ইনডেক্স বর্তমানে ১২% ওপরে ট্রেড হচ্ছে যার মূল কারণ ছিল আমেরিকার অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি, ফেডারেল রিসার্ভের ইন্টারেস্ট রেট বৃদ্ধি। কিন্তু মার্কেট থেকে এরকম প্রত্যাশা অব্যাহত থাকলে ফেডকে তাদের শৃঙ্খল ভেঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। FOMC থেকে এ বছর ৩ বার ইন্টারেস্ট রেট বৃদ্ধি করা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এটা প্রশ্নাতীত যে আমেরিকার শ্রমবাজার গত কয়েক বছরে বেশ উন্নত হয়েছে। টানা ৯৫ সপ্তাহ ধরে বেকারত্বের হারের সাপ্তাহিক রিপোর্ট ৩ লাখের (300K) এর নিচে। যদিও Hourly Earning Rate m/m ০.১% কমেছে ডিসেম্বরে, লেবর ডাটা নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে ভালো আসছে এবার। তবুও এই রিপোর্টগুলো থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে মুদ্রাস্ফিতির চাপ এখনও ভালভাবেই রয়েছে। ফেড এই মুদ্রাস্ফিতির ঝুঁকিকে বিবেচনায় রেখেছে। ওদিকে ডলার শক্তিশালী হবার পাশাপাশি মনেটারি কন্ডিশনও তুলনামূলক কঠোর হচ্ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ফেড ২০১৬ সালে ৪ বার রেট বৃদ্ধির কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১ বার রেট বৃদ্ধি করেছে। এবার ২০১৭ তে ৩ বার রেট বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন এ বছর মাত্র ১ বার রেট বৃদ্ধি হতে পারে এবং এ বছরের মাঝামাঝি থেকে ডলারের আধিপত্য কমতে থাকবে। একটি কারেন্সি পেয়ারের ভাগ্য নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। কিন্তু ২০১৭ সালে ইউরোডলারের ভাগ্য নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক হবে আমেরিকা এবং ইউরোজোনের রাজনৈতিক ঘটনাগুলো। ট্রাম্প সরকারের Fiscal Policy এবং নেদারল্যান্ডের, ফ্রান্স এবং জার্মানির নির্বাচন সামনে প্রধান ভুমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা ২০১৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ইউরোডলার ১.০৩ এর আশেপাশেই অবস্থান করবে। এবং বছরের মাঝামাঝিতে ১.০৫ এবং বছরের শেষ নাগাদ ১.১০ তে পৌঁছতে পারে। তবে মার্কেটই বলে দিবে কি হতে চলেছে সামনে। কারণ ফরেক্স মার্কেটে একমাত্র নিশ্চিত করে বলা যায় শুধু পরিবর্তনের কথা। কেমন লাগলো আপনাদের এই মার্কেট আপডেট? এখন থেকে বিডিপিপসের সাথে মার্কেট আপডেট পাবেন সবসময়। ফরেক্স সম্পর্কে আপনি কি জানতে চান শেয়ার করুন আমাদের সাথে। আপনার ফরেক্স সংক্রান্ত যেকোনো জিজ্ঞাসায় পাশে আছে বিডিপিপস।
  9. পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার ইউরো/ডলার তার গত ১৪ বছরের সর্বনিম্ন প্রাইসে নেমে গিয়েছিল সম্প্রতি। ডলার থেকে ইউরো শক্তিশালী সেই গত ২০০৩ সাল থেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বেশ জোর দিয়েই বলছেন এই কারেন্সি দুটির বিনিময় মূল্য নাকি সমান হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, আপনার জনপ্রিয় EUR/USD পেয়ারটি নেমে আসতে পারে ১.০০ প্রাইসে। একটি কারেন্সি পেয়ারের ২টি কারেন্সির সমান মূল্য হয়ে যাওয়াকেই পেয়ারিটি বলে। এবং ইউরোডলার যদি পেয়ারিটিতে পৌঁছে যায়, তার প্রভাব হতে পারে ব্যাপক। তবে আসলেই কি তা ঘটতে পারে, অথবা এর সম্ভাবনা কতটুকু? তাই নিয়ে বিষদ আলোচনা থাকবে এই লেখায়। ইউরোডলার পেয়ারটি এখন একদম পেয়ারিটির কাছাকাছি রয়েছে। ১.০৩-০৪ এ পেয়ারটির বর্তমান প্রাইস ঘুরছে। কখনও প্রাইস কমলেই ট্রেডাররা ভাবছেন এই বুঝি মার্কেট ১.০০ তে যাচ্ছে। আবার একটু বাড়লেই ভাবছেন ধুর কিসের পেয়ারিটি, ইউরোর প্রাইস কখনও অত নিচে নামবেই না। ডলার দিক থেকে বিবেচনা করলে, মনেটারী পলিসির দিয়ে নজর রাখতে হবে। ফেডের ইন্টারেস্ট রেট বৃদ্ধি ডলারকে অনেক শক্তিশালী করেছে। এছাড়া জিডিপির প্রত্যাশা বাড়িয়েছে তারা। ডলারকে আরেক ভাবে প্রভাবিত করবে নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি অনেক পরিকল্পনার কথা বলেছেন। জানুয়ারির ২০ তারিখ অফিসিয়ালি প্রেসিডেন্ট পদ পাচ্ছেন তিনি। সাধারনত প্রেসিডেন্ট হবার প্রথম ১০০ দিন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা এবং চাপ থাকে। ধরা হয় প্রেসিদেন্ট যদি প্রথম ১০০ দিন ভালো ধরনের কাজ এবং উন্নয়ন করতে পারেন, পরবর্তী ৪ বছরেও তা পারবেন। তাই এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনেক বেশী থাকবে এবং প্রত্যাশা পূরণ হলেও ডলার এবং আমেরিকার অর্থনীতি আরও অনেক এগিয়ে যাবে। আর ট্রাম্প প্রথম ১০০ দিনের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হলে ডলার বিপাকে পড়তে পারে। তবে ফেডারেল রিসার্ভের অ্যাকশনগুলো যে শুধু ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করে তা কিন্তু নয়। আমেরিকার বিভিন্ন ইকোনমিক ডাটাগুলোর ভালো ফলাফলের প্রেক্ষিতেই ফেড ইন্টারেস্ট রেট এবং জিডিপির ফরেকাস্ট বৃদ্ধি করেছে। ইউরোর দিক বিবেচনা করলে, ইসিবির অ্যাকশন ইউরোকে খুব একটা শক্তিশালী করতে পারছে না। এদিক থেকে ইসিবির অবস্থান অনেক ডোভিশ। ফ্রান্সের নির্বাচন প্রভাব ফেলবে। নেদারল্যান্ড এবং জার্মানির নির্বাচনও রয়েছে এই তালিকায়। জাতীয় নির্বাচনগুলো যে বড় ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট তা তো সবাই জানে। ইতালির সমস্যাও রয়েছে। আর গ্রিসও যেকোনো সময় আবার লাইমলাইটে চলে আসতে পারে। সবদিক থেকে ইউরোপ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাদের হুটহাট বড় ধরনের রিকভার করার আশা দেখা যাচ্ছে না। ইউরো লাভাররাও বেশী কিছু প্রত্যাশা করতে পারছেন না ইউরো থেকে এই অবস্থায়। পেয়ারিটি হবার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হবেই যে তা বলা যাবে না। সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে। অনেক অ্যানালিস্টরাই বলছেন হয়তো ২০১৭ এর প্রথম কোয়ার্টারের (Q1) এর মধ্যে ইউরোডলার ০.৯৮৫ এও চলে আসতে পারে। বেশিরভাগ অ্যানালিস্টরাই কনফিডেন্ট যে পেয়ারিটি হবেই। তবে পেয়ারিটি হবে কিনা তার জন্য নজর রাখতে হবে মার্কেটের দিকে। EUR/USD পেয়ারটি যেহুতু ইউরো এবং ডলার ২টি কারেন্সির সমন্বয়ে তৈরি, তাই এটি ট্রেড করতে গেলেই ২টি কারেন্সির দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা মাথায় রেখেই ট্রেড করতে হবে, যেকোনো একটি নিয়ে ভাবলে চলবে না। প্রতিদিনের নিউজ আপডেটগুলো ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে, ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলো অনুসরন করতে হবে। হবে কিংবা হবে না গুজব শুনে ট্রেড করলে হবে না। এখন বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ ট্রেডার বাই করছেন এই ভেবে যে ইউরোর প্রাইস তো একদিন বাড়বেই। আবার যারা পেয়ারিটি সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন, তারা সেল করছেন এই ভেবে যে পেয়ারিটিতে যাবে আর নিশ্চিত লাভ করবো। এভাবে ট্রেড করলে লসের সম্ভাবনাই বেশী। গুজব ট্রেড না করে মার্কেট বুঝে ট্রেড করলেই লস এড়ানো যাবে। এ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত আপডেট প্রকাশিত হবে বিডিপিপসে।
  10. কে বেশি শক্তিশালী? আমেরিকার কর্মবাজার নাকি আমেরিকান ডলার? এ প্রশ্ন শুনে আপনি একটু অবাক হতেই পারেন। কিন্তু, correlation বলে তো ফরেক্স মার্কেটে একটি শব্দ আছে। আর কর্মবাজার শক্তিশালী হলে যে কারেন্সি শক্তিশালী হবে, তা তো সবারই জানা। যাই হোক, আমেরিকার কর্মবাজার আর ডলার, দুটোই কিন্তু পাল্লা দিয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান জ্যানেট ইয়েলেন সোমবার জানালেন যে, বিগত এক দশকের মধ্যে এখনই নাকি সবচেয়ে তেজী দেশটির জব মার্কেট। আর তার পরেই কিনা ১৪ বছরের সর্বোচ্চ প্রাইসে ডলার? গতকাল EUR/USD নেমে আসে মাত্র ১.০৩৫০। সেই ২০১৩ সালের জানুয়ারীর পর এমন করুন হাল আর কখনোই হয়নি ইউরোর। যারা ভাবছেন, ইউরো তো শুধু দুর্বলই হয়। তা ব্রেক্সিটই হোক আর ট্রাম্পের জয়েই হোক, শুধু ইউরো দিয়ে ডলারের শক্তিমত্তা যাচাই করা অনুচিত । তাদের দেখতে হবে ডলার ইনডেক্স এর কি খবর। বিভিন্ন দেশের কারেন্সির বিপরীতে ডলারের শক্তিমত্তা হিসেব করেই গণনা করা হয় ডলার ইনডেক্স এর সূচকের মান। সেই, ডলার ইনডেক্সও গতকাল বেড়ে ১০৩.৬৫ তে পৌঁছেছে, যা কিনা ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে, ইউরোর দুর্দশা এখানেই শেষ হবে, খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইউরো বুলরাও মনে হয় এমনটা আশা করার সাহস পাচ্ছেন না। যেভাবে, ইউরোপজুড়ে বইছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিরোধী হাওয়া, সামনের দিনে আরও কোন ব্রেক্সিটের মত ঘটনার আশঙ্কা খুব বেশি। আর তা মানেই যে আরো দুর্বল ইউরো, এমনটা বলাই বাহুল্য। ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ জার্মানিতে গতকাল যে সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে, তার কোন প্রভাব এই কারেন্সি পেয়ারটির উপর পড়ে কিনা, সেটা এখন দেখার বিষয়।
  11. বেশ অনেকটা সময়ই দাপটের সাথে ছিল পাউন্ড। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর পাউন্ডের সেই সুসময় শেষ। জুলাইতে ১.২৭ এর ঘরে GBP/USD ট্রেড হবার পর আবার ১.৩৪ এ উঠে এসেছিল পাউন্ড-ডলার। কিন্তু সেই সুসময় বেশিরদিন দীর্ঘস্থায়ী হল না। এ সপ্তাহে আবার ১.২৯ এর ঘরে ট্রেড হচ্ছে পাউন্ড-ডলার। আজ সর্বনিম্ন ১.২৯৩৫ এ নেমে এসেছিল পেয়ারটি। কেন আবার এতো কমে গেলো পেয়ারটির প্রাইস, তার পেছনে ৩টি প্রধান কারণ রয়েছেঃ RICS Survey: ব্রেক্সিটের প্রভাব পড়েছে হাউজিং মার্কেটেও। RICS সার্ভে অনুযায়ী ২০০৮ এর পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চলছে এ সেক্টরে। BOE Survey: এই ডাটা রিলিজেও প্রভাব পড়েছে GBP/USD এর পতনে। NFP এবং শক্তিশালী ডলারঃ গত শুক্রবারের শক্তিশালী NFP রিপোর্টের কারণে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে GBPUSD তে। ডলার আরও সামনে শক্তিশালী হবে এমনই পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সামনে রয়েছে পাউন্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী সাপোর্ট হিসেবে সামনে রয়েছে ৩১ বছরের সর্বনিম্ন লেভেল ১.২৭৯০. অপরদিকে রেসিস্ট্যান্স হিসেবে রয়েছে ১.৩০ এবং ১.৩০৬০ লেভেল। বিশেষজ্ঞ অনেকের ধারনা ২০১৭ এর প্রথম কোয়ার্টার নাগাদ ১.২৫ এ নেমে আসতে পারে পাউন্ড/ডলার। দেখা যাক কি আছে পাউন্ডের ভাগ্যে।
  12. পুরো সপ্তাহের মধ্যে যদি শুধু বৃহস্পতিবারেই ট্রেড করার মত নিউজ থাকে, তাহলে নিউজ ট্রেডারদের জন্য তা একটু বোরিংই। এ সপ্তাহে বুধবার পর্যন্ত সত্যি বলতে সে অর্থে গুরুত্বপূর্ণ কোন ফরেক্স ইভেন্টস নেই। পুরো সপ্তাহে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ নিউজ নেই, তা নয় কিন্তু তাদের অধিকাংশের অবস্থাই, "যত গর্জে তত বর্ষে না" এর মত। যেসব নিউজের মার্কেট প্রভাব কম, সুগুলো ট্রেড না করাই ভালো। তাই, অপেক্ষার পালাকে একটু দীর্ঘ করে আপনাকে তাকিয়ে থাকতে হবে বৃহস্পতিবারের দিনের শুরুর বা বুধবার রাত ১২:০০ এর FOMC স্টেটমেন্টের দিকে। চলুন দেখে নেই, কি কি ইভেন্টস এই সপ্তাহের ফরেক্স মার্কেটকে প্রভাবিত করবে। গত শনি রবিবারেই হয়ে গেছে G20 Meetings যেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল মূলত কারেন্সি ম্যানুপুলেশন ও ব্রেক্সিট। এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ফরেক্স নিউজগুলো চলুন দেখে নেই এক নজরে। সোম ও মঙ্গলবার সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় রয়েছে German Ifo Business Climate এবং মঙ্গলবার রাত আটটায় রয়েছে US CB Consumer Confidence। এই দুটি ইভেন্টসকেই মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ ধরা হলেও এদের মার্কেট প্রভাব নগণ্য। অধিকাংশ ট্রেডারের মত তাই আপনিও এই দুটি নিউজকে ইগনোর করতে পারেন। বুধবার শুধু বুধবারেই রয়েছে মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইভেন্টস। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এর কোনটিই সাম্প্রতিক সময়ে মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কোন প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। বেলা আড়াইটায় আসছে UK GDP, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় যুক্তরাষ্ট্রের Core Durable Goods Orders (যেটা প্রতি মাসেই একবার এসে থাকে) এবং রাত সাড়ে আটটায় যুক্তরাষ্ট্রের Crude Oil Inventories। বৃহস্পতিবার FOMC Statement এবং Federal Funds Rate বুধবার পর্যন্ত মার্কেটে কি ঘটছে তা নিয়ে ডে ট্রেডারদের তেমন ভাববার দরকার না হলেও, বুধবার রাতে বড় ধরনের মার্কেট মুভমেন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকুন। কেননা, ঠিক রাত ১২ টা তেই আসছে FOMC স্টেটমেন্ট এবং একই সময়ে ফেড তার সুদের হার প্রকাশ করবে। এই দুটো নিউজ সবসময়েই একই সাথে প্রকাশ করা হয় এবং মার্কেটে তার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সুদের হার না বাড়াবার সম্ভাবনাই বেশি। এ বছরেই ফেড (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) সুদের হারকে একবার বাড়িয়ে ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫০ শতাংশ করেছে। যদি ফেড এ বছরেই আরো দুইবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এবারই তা বাড়ানোর সম্ভাবনা কম, কেননা চাকরীর প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তাই, এবারের প্রত্যাশাও গতবারের মত ০.৫০ শতাংশই। কোন কারনে সুদের হার বাড়ানো হলে প্রধান কারেন্সিগুলোর বিপরীতে ডলার অন্তত ২০০ পিপস শক্তিশালী হবে। তবে, সে সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেহেতু, ফেডের সুদের হার পরিবর্তন করবে না, এমনটা প্রায় নিশ্চিতই, তাই মার্কেট মুভ করবে মুলত FOMC স্টেটমেন্ট এর জন্য। FED অর্থনীতির সূচকগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে এবং সামনের দিনগুলোর অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলে তা ডলারকে শক্তিশালী করবে। আর যদি ফেড অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বা Dovish সুরে কথা বলে, তাহলে তা ডলারকে দুর্বল করবে। তাই, FOMC স্টেটমেন্ট থেকে ফেডের মনোভাব কি, তা আপনাকে বুঝতে হবে। US Unemployment Claims এই নিউজটি দিয়ে বুঝায় বিগত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মত কত মানুষ বেকারত্ব সুবিধার জন্য আবেদন করেছে, এর ফলাফল বেশি মানে কারেন্সি দুর্বল হতে পারে এবং কম হলে কারেন্সি শক্তিশালী হবার সুযোগ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় Unemployment Claims নিউজটি প্রকাশ হবে। গতবারের ফলাফলঃ 253 K (২৫৩ হাজার বা ২ লক্ষ ৫৩ হাজার) এবার আশা করা হচ্ছেঃ 261 K (261০০০) সচরাচর প্রভাবঃ ফলাফল যদি 261K এর কম হয় তবে তা ডলারকে শক্তিশালী করতে পারে। এই নিউজটির প্রভাবে মার্কেটে কি পরিমান প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে প্রত্যাশা (Expectation) থেকে বাস্তবের (actual) পার্থক্য কতটা বেশি হয়। তবে 246K-276K এর মধ্যে থাকলে বড় মুভমেন্ট হবে না, এর কম বা বেশি হলে বড় মুভমেন্ট হবে বলে আশা করা যায়। শুক্রবার বেলা ১১ টার সময় Bank of Japan তার ত্রৈমাসিক ইকোনমিক আউটলুক প্রকাশ করবে। BOE এর Hawkish বা Dovish মনোভাবের উপর ভিত্তি করে জাপানিজ কারেন্সি ইয়েন শক্তিশালী বা দুর্বল হবে। [আরও পড়ূনঃ Hawkish ও Dovish কি? এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?] এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় Canadian GDP Data এবং একই সময়ে US GDP Data ও পাবলিশ হবে। এই মার্কেটে এই দুইটি নিউজের প্রভাব তেমন একটা পড়বে না। এগুলোই মূলত এই সপ্তাহের (২৫-২৯ জুলাই) প্রধান প্রধান ফরেক্স নিউজ ইভেন্টস। আপনি নিউজ ট্রেড করুন আর নাই করুন, ডে ট্রেড করলে সম্ভাব্য মুভমেন্টকে মাথায় রাখুন। তবে, যারা ডেইলী টাইম ফ্রেমে ট্রেড করেন, এই নিউজগুলোর প্রভাবে তাৎক্ষণিক যে মার্কেট মুভমেন্ট তৈরি হবে, তা তাদের ট্রেডকে খুব বেশি প্রভাবিত করবে না।
  13. বড় ধরনের গ্যাপ দিয়ে ওপেন হয়েছে ফরেক্স মার্কেট। শুরু হয়েছে এ সপ্তাহের ট্রেডিং। সবচেয়ে বেশি ২০০ পিপস গ্যাপে ওপেন হয়েছে GBP/USD. গত সপ্তাহে শেষে GBP/USD ১.৩৬৭৬ প্রাইসে ক্লোজ হলেও এ সপ্তাহে মার্কেট ওপেন হয়েছে ১.৩৪২১ প্রাইসে। সেই তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থা EUR/USD এর। কারেন্সি পেয়ারটি গত সপ্তাহের ক্লোজিং প্রাইসেরও ১০০ পিপস নীচে ওপেন হয়েছে। এই মুহূর্তে ট্রেড হচ্ছে ১.১০৪০ তে। Brexit এর প্রভাব মার্কেটে ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে। তাই, আরো বড় কোন পতনের সম্ভাবনা কম। কিন্তু, ফরেক্স মার্কেটে কোন গ্যাপ তৈরি হলে, মার্কেট আগে বা পরে অবশ্যই সেই গ্যাপ পূরণ করে। সাম্প্রতিককালে অধিকাংশ গ্যাপই ২-৩ দিনের মধ্যেই পূরণ হয়ে যাচ্ছে। তাই, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এই সপ্তাহে EUR/USD ও GBP/USD এর শক্তিশালী হওয়ার কথা।
  14. Brexit - আপডেট

    ইউ ছেড়ে চলে যাচ্ছে ব্রিটেন। Leave এগিয়ে গেছে Remain থেকে শতকরা ৪ শতাংশ ভোটে (৭ লক্ষেরও বেশি)। ১.৩৪ এ ট্রেড হচ্ছে GBP/USD, ১.১০ ব্রেক করে ফেলেছে EUR/USD
  15. Brexit - আপডেট

    অনেক দিন পর ফরেক্স মার্কেটের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন ফরেক্স ট্রেডাররা, দেখছেন মার্কেট মুভমেন্ট কতটা বেশি হতে পারে। ইতিমধ্যেই আজ সর্বোচ্চ ১.৫০ থেকে মাত্র ১.৩৪৬১ এ নেমে এসেছে GBP/USD, ইউকে হারানোর যন্ত্রণায় কাঁদছে ইউরোপ ও তার কারেন্সি ইউরোও। EUR/USD নেমে এসেছে ১।১০১৭ এ, অপেক্ষা এখন ১.১০ ভাঙার। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ভোট গণনা শেষে Leave এগিয়ে আছে ৫১ শতাংশ ভোটে। ব্রিটেনের ইউ ছেড়ে চলে যাওয়া এখন নিশ্চিতই বলা যায়।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×