Jump to content

forexnews

BDPIPS News
  • Content count

    250
  • Joined

  • Last visited

  • Days Won

    105

forexnews last won the day on February 11

forexnews had the most liked content!

Community Reputation

842 Excellent

About forexnews

  • Rank
    Forex News by BdPips

Contact Methods

  • Website URL
    http://bdpips.com

Profile Information

  • Gender
    Male

Recent Profile Visitors

8,693 profile views
  1. ট্রেডারদের কাছে অন্যতম পছন্দের একটি ফরেক্স ব্রোকার হল XM. মূলত ভাল ট্রেডিং সার্ভিস, দ্রুত ট্রেডিং এক্সিকিউশন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি, সেরা রেগুলেশন এবং বাংলায় ডেডিকেটেড সাপোর্ট ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার থাকায় ব্রোকারটিকে ট্রেডাররা পছন্দ করেন। ব্রোকারটিতে অন্যান্য অনেক ব্রোকারের তুলনায় স্প্রেড অনেক কম। গোল্ড-সিলভারে স্প্রেড কমেছে সম্প্রতি ক্লায়েন্টদের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে XM তাদের গোল্ড এবং সিলভার পেয়ারে স্প্রেড কমিয়েছে। গোল্ডেঃ পূর্বে স্প্রেডঃ গড় ৪.৩ পিপ্স, সর্বনিম্ন ৪.০ পিপ্স নতুন স্প্রেডঃ গড় ৩.৫ পিপ্স, সর্বনিম্ন ৩.০ পিপ্স সিলভারেঃ পূর্বে স্প্রেডঃ গড় ৪.৮ পিপ্স, সর্বনিম্ন ৩.৭ পিপ্স নতুন স্প্রেডঃ গড় ৩.৬ পিপ্স, সর্বনিম্ন ৩.০ পিপ্স জিরো অ্যাকাউন্টে কমিশন কমেছে পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে XM তাদের জনপ্রিয় জিরো অ্যাকাউন্টে কমিশন কমাচ্ছে। জিরো অ্যাকাউন্ট হল XM এর আলাদা ধরণের একটি অ্যাকাউন্ট টাইপ যেখানে স্প্রেড থাকে খুবই কম, তবে কমিশন প্রযোজ্য হয়। তবে স্প্রেড আর কমিশন যোগ হলেও সাধারন অ্যাকাউন্ট থেকে স্প্রেডের তুলনায় অনেক কম কাটবে। স্ক্যাল্পারদের জন্য এই অ্যাকাউন্টটি অনেক সুবিধাজনক। পূর্বে যেকোনো ট্রেডে স্বল্প স্প্রেডের পাশাপাশি $৫+$৫=$১০ কমিশন প্রযোজ্য হত ১ স্ট্যান্ডার্ড লট ট্রেড করলে। কমিশন কমে এখন থেকে $৩.৫+$৩.৫=$৭ কমিশন প্রযোজ্য হবে। কম স্প্রেডের জিরো অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন এখান থেকে।
  2. EUR/USD পেয়ারটি এখন ১.২২ এর ঘরে ট্রেডিং হচ্ছে। বেশিরভাগ ট্রেডারেরই আশা ছিল পেয়ারটি ১.২৫ প্রাইস লেভেল অতিক্রম করায় ১.২৭ এর পথে অগ্রসর হবে। কিন্তু অনেক ট্রেডারদেরকে হতাশ করেই পেয়ারটি ১.২২ তে নেমে এসেছে। ১.২২৫০ প্রাইসকে কেন্দ্র করেই আজ EUR/USD ওঠানামা করছে। আজ ১.২২৮৬ তে উঠলেও তা আবার পরে ১.২২২৬ প্রাইসে নেমে আসে। বর্তমানে পেয়ারটি ১.২২৩৮ প্রাইসে অবস্থান করছে। গতকাল থেকেই ইউরো সাইডওয়ে ট্রেন্ডে রয়েছে। এ পর্যায় থেকে ইউরোডলারের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হতে পারে তাই ভাবছেন ট্রেডাররা। টেকনিক্যাল লেভেলঃ নিচের দিকে, ১.২২২৫ প্রাইসটি EUR/USD পেয়ারের জন্য নিকটবর্তী সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে (ফেব্রুয়ারী ৯ – সর্বনিম্ন) এবং ১.২২১০ (জানুয়ারি ২২ ও ফেব্রুয়ারী ৮ – সর্বনিম্ন) ও ১.২১৬০-৬৫ (জানুয়ারি ১৭ – সর্বনিম্ন) প্রাইস লেভেলগুলোও পরবর্তী সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। ওপরের দিকে, ১.২২৬০ (20H মুভিং এভারেজ), ১.২২৯৫ (বর্তমান রেঞ্জ লিমিট) এবং ১.২৩৩০ (জানুয়ারি ২৯ ও ৩০ – সর্বনিম্ন) প্রাইস লেভেলগুলো রেজিসট্যান্স হিসেবে কাজ করতে পারে। দ্রাঘিঃ ইউরোর এক্সচেঞ্জ রেটকে তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষন করা হবে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যাংক অনেক বেশী আত্নবিশ্বাসী যে অর্থনৈতীক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। কিন্তু ইউরো নিয়ে সৃষ্ট সংশয় এই প্রবৃদ্ধির পথে সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।“ স্ট্রাসবার্গে এক বক্তব্যে দ্রাঘি বলেন, “যদিও আমাদের আত্নবিশ্বাসের জায়গাটা হচ্ছে, আমাদের লক্ষ অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদেরকে সফল বলতে পারিনা।“ তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এক্সচেঞ্জ রেটের ভোলাটিলিটির ফলে নতুন হেডউইন্ডস এর উদয় হয়েছে, যা কিনা মধ্য মেয়াদি মূল্যের স্থীতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় যার কারণে এর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন দরকার।“
  3. কোন কিছুই অসম্ভব না। কিন্তু, ৫ হাজারের ঘরে থেকে ১ লক্ষের উপর মন্তব্য করাটা অর্থহীন, কেননা রেগুলেটররা চাইলে বিটকয়েন ১ লক্ষ না, ১ ডলারেও নেমে আসতে পারে। আপাতত যেটা মনে হচ্ছে, তা হচ্ছে বিটকয়েন ৩ হাজারের ঘরে নেমে আসবে, কারন selling momentum অনেক বেশী।
  4. কিছুদিন আগে ২০ হাজার ডলার, গত পরশুও ছিল ৮ হাজার ডলার। কিন্তু, ২০ হাজার ডলার থেকে গতকাল বিটকয়েন নেমে এসেছে কয়েনপ্রতি ৬ হাজার ডলারেরও নীচে, যা গত নভেম্বরের পরের সর্বনিম্ন প্রাইস। এভাবে দরপতন হওয়ায় আতঙ্কিত বিটকয়েন বায়াররা। তবে আজ প্রাইস কিছুটা বেড়ে আবার ৭,৪০৩ এ অবস্থান করছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বিটকয়েনের আরো বিশাল দরপতন হতে পারে। কারন, চীন বিটকয়েন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, চীনের নাগরিকগন যাতে বিটকয়েন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ব্রাউজ করতে না পারে, তারও ব্যবস্থা নিচ্ছে দেশটি। অর্থাৎ, বিটকয়েন ব্যানের জন্য যা যা করা দরকার, সব করবে দেশটি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন যদি নাগরিকদের বিটকয়েন ব্যবহার করতে না দেয়, তাহলে সম্ভাবনা আছে যে আরো অনেক দেশ একই পন্থা অনুসরন করবে। আর যেহেতু বিটকয়েন কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রনভুক্ত নয়, তাই অনেক দেশই চাইবে না বিকল্প আরেকটি অর্থ ব্যবস্থা তৈরি হোক। এক নজরে প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দরপতনঃ বিটকয়েনঃ নভেম্বর ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ডলার থেকে বর্তমানে ৭.৪০৩ ডলার ইথেরিয়ামঃ জানুয়ারী ৯, ২০১৮ সালের সর্বোচ্চ ১২৫৫ ডলার থেকে বর্তমানে ৫৭৪ ডলার বিটকয়েন ক্যাশঃ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ ৪০৯১ ডলার থেকে বর্তমানে ৭৬৬ ডলার লিটকয়েনঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ ৩৬৬ ডলার থেকে বর্তমানে ১০৬ ডলার এদিকে ইউকে এবং ফ্রান্সের রেগুলেটররা বিনিয়োগকারীদের মানা করেছেন কোন কোম্পানির ইস্যুকৃত ডিজিটাল কারেন্সি না কেনার জন্য। তারা সাবধান করে বলেছেন যে, এর ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের সব অর্থ হারাতে পারে।
  5. ফরেক্স মার্কেটে একটি কথা সবসময়ই শোনা যায়, তা হল - Market is always right! মার্কেট কিন্তু সবসময়ই সঠিক। আপনার ভুল হতে পারে, কিন্তু মার্কেট চলবে তার নিজের মত করে। আর লাভবান ট্রেডার হতে হলে সেই মার্কেটকেই অনুসরন করে ট্রেড করতে হবে, থাকতে হবে মার্কেটের সাথে। এ নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ - সোমবার রাত ৯টায় আয়োজিত হবে বাংলায় লাইভ ফরেক্স ওয়েবিনার। সঞ্জয় সরকারকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। ফরেক্স ট্রেডারদের কাছে খুব জনপ্রিয় একটি নাম তার তার ফ্রী লাইভ ট্রেনিং প্রোগ্রামগুলোর কারণে। মার্কেট সবসময় সঠিক বলতে কি বোঝায় এবং কিভাবে মার্কেটের সাথে থেকে ট্রেড করা যায়, এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আসছেন সোমবার রাত ৯ টায় অনলাইনের লাইভ ট্রেনিং সেশনে। প্রায় ১ ঘন্টার এই ট্রেনিং সেশনটিতে বিনামূল্যেই অংশগ্রহন করা যায়, তাই আপনি সোমবার রাত ৯ টায় ব্যস্ত না থাকলে, অংশগ্রহন করতে ভুলবেন না। বিশেষ করে যারা বর্তমানে লস করছেন এবং মার্কেটের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সমস্যায় পড়ছেন। ট্রেইনিং প্রোগ্রামটির জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে এখান থেকে।
  6. অ্যাপলের ফোন বিক্রি কমে গেছে, তাতে কি! লাভ তো কমে যায়নি। বরং ১ শতাংশ ফোন বিক্রি কমে গেলেও বেশী দামের আইফোন ১০ বাজারে এনে আগের সব লাভের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া ত্রৈমাসিক লাভের রিপোর্টে জানা গেছে ২০১৭ এর শেষ ৩ মাসে তারা ২০.১ বিলিয়ন ডলার (১৪ বিলিয়ন পাউন্ড) প্রফিট করেছে। এর মাধ্যমে অ্যাপল তাদের নিজেদের গত ২ বছর পূর্বের আয়ের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে গেলো এবার। সেপ্টেম্বরে আইফোন ৮ এবং নভেম্বরে আইফোন ১০ রিলিজের পরই অ্যাপল এমন বিশাল লাভের মুখ দেখলো। আইফোন ১০ এর মাধ্যমে অ্যাপল সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ফোনের বড় ধরনের আপডেট এনেছিল এবং ভোক্তারা দারুন ভাবেই অ্যাপলের এই নতুন পন্যটিকে লুফে নিয়েছে। ৩ মাসে অ্যাপল ৭৭ মিলিয়ন আইফোন বিক্রি করেছে। আগেরবারের থেকে কিছুটা কম বিক্রি হলেও এবার আইফোনের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমাণ বেড়েছে। অ্যাপলের সিইও টিম কুক বলেন, আইফোন ১০ আমাদের সব প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। নভেম্বর থেকে এর বিক্রি শুরু হবার পর প্রত্যেক সপ্তাহেই এটি সেরা বিক্রিত আইফোন ছিল। আইপ্যাডের বিক্রিও কিছুটা বেড়েছে, যেখানে অ্যাপল ম্যাকের বিক্রি কমে গেছে। অ্যাপল ওয়াচ, অ্যাপল টিভিসহ অন্যান্য পন্যের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। পরবর্তী ত্রৈমাসিকের পরিকল্পনা ঘোষণার পর শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছিল প্রথম ঘন্টার ট্রেডিংয়ে। বিনিয়োগকারীরা ঘোষণায় কিছুটা হতাশ হয়েছিল। কিন্তু এরপরই শেয়ারের দাম আবার বেড়েছে। টিম কুক আরও বলেন, অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক আয় ঘোষণা করতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত, যেখানে কোন আইফোন থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ এসেছে। কুক আরও বলেন, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরেও রেকর্ড একটি বছরে গেছে গত বছর। অগমেন্টেড রিয়েলিটি বেজড অ্যাপগুলোর দারুন বিকাশ ঘটেছে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৩ এর বিক্রিও সিরিজ ২ থেকে দুই গুন বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে আয়ের দিক থেকে দারুন একটি বছর পার করেছে অ্যাপল। স্টক ট্রেডারদের জন্য এটি দারুন একটি খবর। আপনি কি জানেন আপনি আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকেই অ্যাপলের শেয়ার (AAPL.OQ) ট্রেড করতে পারেন? ব্রোকারে অ্যাপলের স্টক ট্রেডিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  7. আজ এনএফপিঃ আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় প্রকাশিত হবে এনএফপি নিউজ। প্রতি মাসে ১ম শুক্রবারে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে আমেরিকার এই গুরুত্বপূর্ণ নিউজটি প্রকাশিত হয়। গতবার ফলাফল ছিল ১৪৮০০০ (148K) যা প্রত্যাশিত ১৯০০০০ (190K) থেকে কম ছিল। এবার আশা করা হচ্ছে ১৮১০০০ (181K). নিউজের ফলাফল যদি ১৮১০০০ (181K) থেকে বেশী আসে, তবে তা ডলারের জন্য পজিটিভ হতে পারে। আর ১৮১০০০ (181K) এর কম হলে তা ডলারের জন্য নেগেটিভ হতে পারে। এনএফপি নিউজের ফলাফল এক্সপেক্টেড থেকে প্রতি ৭০০০০ (70K) পরিবর্তনের জন্য ৭০ পিপসের মত মুভমেন্ট হতে পারে। ডলারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিউজ হওয়ায় এ নিউজটির প্রভাব মেজর কারেন্সিগুলোতে বেশি পড়ে। EURUSD, GBPUSD, USDJPY ইত্যাদি ডলারের পেয়ারগুলো বেশ প্রভাবিত হয়। প্রত্যাশিত ফলাফলের বেশি আসলে EURUSD, GBPUSD ইত্যাদি পেয়ারগুলোর প্রাইস কমতে পারে এবং USDJPY, USDCHF ইত্যাদি পেয়ারগুলোর প্রাইস বাড়তে পারে। প্রত্যাশিত ফলাফলের কম আসলে এর বিপরীত প্রভাব মার্কেটে দেখা যেতে পারে। Non-Farm Employment Change রিপোর্টের বিস্তারিত এবং ফলাফল পাওয়া যাবে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটেঃ https://www.forexfactory.com/#detail=86521 পরবর্তী NFP নিউজ পাবলিশ হবে মার্চ মাসের ২য় শুক্রবার ৯ মার্চ, ২০১৮ তারিখে। Non-Farm Employment Change রিপোর্টের পাশাপাশি Average Hourly Earnings m/m এবং Unemployment Rate রিপোর্ট দুটিও মার্কেটে প্রভাব রাখে। এনএফপি রিপোর্ট আসলে কি? হুমায়ূন আহমেদের নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ এর সেই ব্ল্যাক ফ্রাইডে বাস্তবে বছরে মাত্র একবার আসলেও প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার কোনো না কোনো ফরেক্স ট্রেডারের জন্য ব্ল্যাক ফ্রাইডে। কত শত ট্রেডার যে তাদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টটি শূন্য করে এই দিনে, যে বা না জেনে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কারন? মজার ব্যাপার হচ্ছে, অধিকাংশ ট্রেডারই অ্যাকাউন্টটা শুন্য করে এই কারনের উত্তর খুঁজে। কারন মূলত একটাই, ইউএস ননফার্ম পেয়-রোল। নামে ননফার্ম হলেও শুধু কৃষি নয়, সাথে সরকারি কর্মচারী, পরিবারের ব্যক্তিগত কর্মচারী আর অলাভজনক প্রতিস্থানগুলোর কর্মচারীদের বাদ দিয়ে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার প্রকাশ করে পূর্ববর্তী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সংখ্যা কি আগের থেকে বাড়ল না কমল। শুধু তাই না, বাড়লে কয়টা বাড়ল আর কমলেও কয়টা কমলেও সে সংখ্যাটাও। যেহেতু, কৃষি খাতকে বাদ দিয়েই এই হিসাবটা করা হয়, তাই এর নাম হয়েছে ননফার্ম পেরোল। কি আছে এই রিপোর্টে যে তা প্রবলভাবে ফরেক্স মার্কেটকে নাড়া দেয়ার ক্ষমতা রাখে? শুধু ফরেক্স বললে ভুল হবে, স্টক মার্কেট, বন্ড মার্কেটেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে ইউএস ননফার্ম পেরোল বা এনএফপি এর কারনে। প্রথমত, দেশটির নাম আমেরিকা। ঋণ করতে অথবা যুদ্ধ বাঁধাতে ওস্তাদ হলেও এখনো বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি দেশটি। দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতি চীনেরও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে লাগবে অনেক বছর যদি তারা বর্তমান প্রবিদ্ধি ধরে রাখতে পারে (ইতিমধ্যেই কমতে শুরু করেছে চীনের প্রবিদ্ধি). সবচেয়ে আশাবাদী ব্যক্তিও আগামী দশকের আগে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে পারবে এমন আশা করেন না। আর সামরিক শক্তির দিক থেকে তো আমেরিকার ধারে কাছেও কেউ নেই। বলা হয়, আমেরিকা বাদে বিশ্বের শীর্ষ ২০ পরাশক্তির সম্মিলিত সমরশক্তিও এক আমেরিকার সমান নয়। মহাকাশ শাসনেও প্রায় একক আধিপত্য আমেরিকার। গায়ের জোরে ডলারকে বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সিও বানিয়েছে দেশটি। খরচের দিক থেকেও আমেরিকানদের তারিফ করতে হয়, এখানেও এরা এক নম্বর। আর তাই সারা বিশ্বের বড় বড় সকল কোম্পানির শাখা আছে আমেরিকায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হচ্ছে আমেরিকায়, এমনকি আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনেরও সবচেয়ে বড় রপ্তানির বাজার আমেরিকায়। এখন সেই আমেরিকার অর্থনীতি ঠিকঠাক মত চলছে কিনা সেদিকে নজর রাখা দরকার না? আমাকে আপনাকে কষ্ট না করলেও হবে, এই কাজটি করার জন্য অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো পাশাপাশি ফরেক্স, ষ্টক ট্রেডাররাও চোখ রাখে আমেরিকার সামগ্রিক অর্থনীতির উপরে। আমেরিকার অর্থনীতি ভালো থাকলে শেয়ার বাজারে সুবাতাস বয় (ডিএসি এর সাথে আবার তুলনা করতে যাবেন না), আর খারাপ হলে ঘটে এর উল্টোটা। প্রভাব পড়ে ফরেক্স মার্কেটেও। এনএফপি গুরুত্বপূর্ণ এই কারনে যে, আমেরিকার চাকরির বাজারের চালচিত্র মোটামুটি বোঝা যায় এই রিপোর্টের কারনে। চাকরীর সংখ্যা বাড়ল না কমল সেটার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ থাকে এনএফপি রিপোর্টে, যেমনঃ মোট কর্মক্ষম জনশক্তির কত শতাংশ বেকার কোন কোন সেক্টরে চাকরি বেড়েছে বা কমেছে ঘণ্টাপ্রতি গড় বেতন পূর্ববর্তী মাসের এনএফপি রিপোর্টের সংশোধন যেভাবে তৈরি করা হয় এনএফপি রিপোর্টঃ খুব স্বচ্ছ এবং যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় এনএফপি রিপোর্ট। প্রথমে, সরকারী বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের তথ্যই যোগাড় করে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো। যেহেতু, প্রায় ২৫ কোটি জনসংখ্যা আছে আমারিকায় এবং এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশই কর্মক্ষম, তাই আলাদাভাবে প্রত্যেকের উপর জরিপ চালান সম্ভব না প্রতি মাসে। আর তাই, মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরো বেছে নিয়েছে স্যাম্পল পদ্ধতি (দৈবচয়ন). প্রতি মাসে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর জরিপ চালায় সংস্থাটি আর সরকারি বিভিন্ন এজেন্সি মিলিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে প্রায় আরও ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার কর্মক্ষেত্র। চিঠি, ইমেইল, ইন্টারনেট অথবা অত্যাধুনিক ইডিআই প্রযুক্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মচারীদের তথ্য পাঠায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছে। এনএফপি রিপোর্টের প্রকাশের বেলায় প্রথম ঝামেলাটা বাঁধে এখানে। ছোটো বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সাধ্য অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে গিয়ে প্রতি মাসে অনেকেই দেরি করে বা সেই তথ্য পেতে দেরি হয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর। যেহেতু, এনএফপি রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত, প্রতি মাসের প্রথম সোমবার, তাই হাতে তা তথ্য আসে তা দিয়েই রিপোর্ট প্রকাশ করে দেয় পরিসংখ্যান ব্যুরো। এই রিপোর্টটি পরে দুইবার সংশোধন করা হয়। প্রথমবার, পরিবর্তী মাসের এনএফপি রিপোর্ট প্রকাশের সময়, দ্বিতীয়বার আরও এক মাস পরে। এছাড়াও পরবর্তীতে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলতি এনএফপি রিপোর্ট ও আগের এনএফপি রিপোর্টের সংশোধন। খুবই ঝামেলার কাজ, তাই না? অথচ দেখুন, এই ঝামেলার কাজটিই কিনা প্রতি মাসে সুন্দরভাবে করে যাচ্ছে মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরো। এনএফপি এর প্রভাবঃ যেহেতু, প্রতি মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউজগুলোর একটি হচ্ছে এনএফপি, তাই অনেক ট্রেডারই অপেক্ষা করে বসে থাকে এনএফপি ট্রেড করার জন্য। প্রায় প্রতিটি এনএফপি এর আগেই একই ঘটনা ঘটে। এনএফপির আগে আগে ট্রেডাররা ট্রেড করতে চান না বলে মার্কেটে মুভমেন্ট বা ভোলাটিলিটি কমে যায়, এনএফপি এর ঠিক আগেই শুরু হয় বড় বড় স্পাইক। সেকেন্ডে মার্কেট পরিবর্তিত হয় ৫-১০ পিপস করে। হঠাৎ করে পাগল হয়ে যাবে মার্কেট। হয় টানা পড়া/বাড়া শুরু করবে অথবা একলাফে ১৫-২০ পিপস করে কমবে/বাড়বে। হারিকেন শুরুর পূর্ব মুহূর্তে সাগর যেমন স্থির থাকে, হটাত করে শুরু হয় বড় বড় ঢেউ এর নাচন, ফরেক্স মার্কেটের অবস্থাও হয় তেমনি। আর এই ঢেউ এ ভেসে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে পিপস সংগ্রহের অভিযানে বের হওয়া মানি মানেজমেন্ট না জানা অসংখ্য ট্রেডারের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টটির। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ অত্যাধিক ঝুঁকি নিয়ে নিউজ ট্রেড করা অসংখ্য ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
  8. গত সপ্তাহ ইউরোডলারের জন্য ছিল বেশ দোদুল্যমান। দ্রাঘি, মিউচিন এবং ট্রাম্প সবাই মার্কেট কাঁপিয়েছে। কিছুদিন আগে আমরা ২টি বিখ্যাত রিসার্চ ফার্মের অ্যানালাইসিস প্রকাশ করেছিলাম যে ইউরোডলারের পরবর্তী গন্তব্য কোনদিকে হতে পারে। সেখানে ING রিসার্চ অ্যানালিস্টরা বলেছিলেন যে ইউরো-ডলারের ১.২৫ প্রাইসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর তা সত্যি প্রমানিত হল ২৫ জানুয়ারি। ইউরোডলার ১.২৫ এর ঘর ছাড়িয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। ২০১৪ সালের পর আবার পেয়ারটি ১.২৫ এর ঘরে পা রাখলো। দ্রাঘির বক্তব্যের উল্টো প্রভাবে ইউরোর প্রাইস বাড়লেও ডলারের কারণে তা আবার ১.২৫ এর নিচে চলে এসেছে। সোমবার পেয়ারটি কমে ১.২৩ এর ঘরে গেলেও আবার এখন ১.২৪ প্রাইসে ট্রেড হচ্ছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় প্রাইস কিছুটা কমেছিল, তবে ইউরোর সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে ১.২৭ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। TD রিসার্চ অ্যানালিস্টদের মতে ইউরো খুব শীঘ্রই ১.২৭ প্রাইসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বৃহস্পতিবারের ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের মিটিংয়ের পর ইউরো বছরের নতুন রেকর্ড প্রাইসে উঠেছে। তাদের মতে ইউরোর প্রাইস বৃদ্ধি আটকে রাখা আর সহজ হবে না। ইসিবিও বর্তমান অবস্থায় ইউরোর সম্পর্কে ডোভিশ (নেগেটিভ) মনোভাব দেখার সুযোগ আর পাবে না। TD রিসার্চ দলের মতে ইউরো ডলারের বিপরীতে খুব সহজেই ১.২৭ প্রাইসে চলে যাবে, এবং এ পথে তারা তেমন বাঁধা দেখতে পাচ্ছেন না। জনপ্রিয় BTMU রিসার্চ দলও ইউরোডলার সম্পর্কে একই মনোভাব ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে মার্কেট বুল্লিশ মনোভাবে রয়েছে। আর এই বুল্লিশ মনোভাবই ইউরোকে ডলারের বিপরীতে ১.২৭ এ নিয়ে যাবে সহজেই। আর কোন কারণে নিচে নামলেও ১.২২ এর নিচে নামার কোন সম্ভাবনা আপাতত তারা দেখছেন না। ডলার কিছুটা শক্তিশালী হলেও তা সামনে খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবেন না বলে তারা মনে করেন। BTMU রিসার্চ দল আরও বলেন, ইউরোডলার ১.২৫ এ রেসিস্ট্যান্স মোকাবেলা করতে পারে। তবে তা কাটিয়ে যেতে পারলেই ১.২৭ এর পথ সুগম। ১.২৭ ছাড়িয়ে গেলে ইউরোডলারের ১.২৯ প্রাইসে যাওয়ার পরবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় সকল মার্কেট বিশ্লেষণকারীরাই আপাতত ইউরো সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবছেন। স্বল্পমেয়াদী প্রাইস কমলেও দীর্ঘমেয়াদীভাবে ইউরো ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হবে তাই তাদের প্রত্যাশা। তবে কি EUR/USD পারবে ১.২৭ ছাড়াতে? সময় এবং মার্কেটই বলে দিবে সে কথা। EUR/USD এর পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে আপনি কি ভাবছেন?
  9. গত বছরের শুরুটা কিন্তু ইউরো-ডলারের জন্য আশার বাণী নিয়ে আসেনি। ইউরো ছিল যথেষ্ট দুর্বল। অনেক বাঘা বাঘা অ্যানালিস্টরাই ধারনা করছিলেন ইউরো বুঝি এবার পেয়ারিটিতে পৌঁছাবে। ১.০০ বা এরও নিচে নেমে আসবে EUR/USD পেয়ারটি। যেভাবে দুর্বল হয়েছিল ইউরো, তাতে এই ধারনাটি অমুলক ছিল না। তবে সব আশংকা কাটিয়ে ইউরো আবার শক্তিশালী রুপ ধারন করেছে। ডলারের বিপরীতে ছাড়িয়ে গেছে ১.২০ প্রাইস লেভেলকে। তবে চলে এসেছে নতুন বছর ২০১৮ এবং ২টি আশংকা সামনে থেকেই যায়। ইউরো-ডলার কি আরও শক্তিশালী হবে? পারবে ১.২৫ কেও ছাড়িয়ে যেতে? নাকি গত বছরের মত দুর্বল অবস্থায় ১.১০ এর নিচে চলে আসবে? ২টি প্রখ্যাত রিসার্চ সংস্থা EUR/USD পেয়ারের প্রতি ২ রকম ভবিষ্যৎবাণী করেছে। ট্রেডিংয়ের সুবিধার্তে ২টি সম্ভবনাই আপনি জেনে রাখতে পারেন। তবে ট্রেড করার সময় অবশ্যই নিজেকে অ্যানালাইসিস করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ১.২৫ এর পথে ইউরো-ডলারঃ ING ING ফরেক্স স্ট্রাটেজি রিসার্চ ইউরো সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেছে যে, ইউরো প্রাইস ডলারের বিপরীতে ১.২৫ এর দিকে বাড়তে বছরের ১ম প্রান্তিকের (Q1) পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে। নতুন বছরে ইউরো তার গতি ধরে রেখেছে। ইউরো ঊর্ধ্বগতিতেই রয়েছে এবং ইতিবাচক ভাব অব্যাহত রেখেছে। এই বিষয়গুলোই ING অ্যানালিস্টদের এই অভিমতের পেছনে গুরুত্ব পেয়েছে যে বছরের ২য় প্রান্তিকে (Q2) EUR/USD পেয়ারটি ১.২৫ এর ওপরে অবস্থান করবে। তবে ১.২৫ এর পথে প্রাইস বৃদ্ধির পথে সেন্ট্রাল ব্যাংকের কিছু ডোভিশ সিদ্ধান্ত বাধা হিসেবে আস্তেই পারে। তবে ING অ্যানালিস্টদের মতে, ইউরো-ডলারের ১.২৫ প্রাইসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেসব কারণে প্রাইস বাড়ার আগে ১.১০ তে আসবে ইউরো-ডলারঃ BofAML আমেরিকা মেরিল লিঞ্চ ব্যাংকের ফরেক্স স্ট্রাটেজি রিসার্চ ডিভিশন অভিমত প্রকাশ করেছে যে ইউরো ডোলারের বিপরীতে নিচের দিকে যাবে কিছু বিশেষ কারণে। কারণগুলো হলঃ ইউরোর প্রাইস বৃদ্ধির হার তার ফাইন্যান্সিয়াল ডাটাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে মার্কেট অনেকদিন ধরেই ইউরো বাই এর পক্ষে আছে। আর এই পজিশনটি এখন একটু ঝুঁকিপূর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ডাইভারজেন্স তৈরি হয়তে পারে, এবং ফেড এক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে ইউএস ট্যাক্স রিফর্ম ডলারকে বেগবান করবে বছরের ১ম প্রান্তিকে (Q1) ইউরো-ডলার দুর্বল হয়ে ১.১০ তে আসবে বলেই BofAML ধারনা করছে। তবে এরপর আস্তে আস্তে ওপরের দিকে ইকুইলিব্রিয়াম প্রাইসে চলে আসবে। তাতে ২০১৮ এর শেষে ১.১৯ এবং ২০১৯ সালের সেশে ১.২৫ প্রাইসে চলে আসবে EUR/USD তাই ধারনা করছেন BofAML বিশেষজ্ঞরা। আপনার কি অভিমত? বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোনদিকে যেতে পারে আপনার পছন্দের EUR/USD পেয়ারটি? নিচে মন্তব্য করে আপনার ধারনা এবং অ্যানালাইসিস শেয়ার করুন আমাদের সাথে। ২০১৮ তে সবার ট্রেডিং শুভ হোক এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করছি।
  10. চলে এসেছে নতুন একটি সপ্তাহ। ফরেক্স ট্রেডিং করতে গেলে সে সপ্তাহে কি কি গুরুত্বপূর্ণ নিউজ এবং ইভেন্ট রয়েছে তা জানা জরুরি। সাথে সাথে চলমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে নজর রাখা উচিত প্রতিটি ট্রেডারেরই। চলুন দেখে নেয়া যাক এ সপ্তাহে ফরেক্স মার্কেট কেমন যেতে পারে। নতুন মাস শুরু হলেই শুরু হয় নতুন নতুন নিউজ রিপোর্ট এবং ডাটা রিলিজ। এ মাসেও রয়েছে এরকম অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিউজ, আর তার অনেকগুলোই প্রকাশিত হবে এ সপ্তাহে। এ সপ্তাহে সার্ভিস PMI এবং ISM Non-Manufacturing PMI রিপোর্ট রয়েছে। ইউএস অটো সেলস গত কয়েক মাসে বেড়েছে। এরকম ভিন্ন ভিন্ন ডাটা নির্দেশ করছে যে আমেরিকার অর্থনীতি শক্তিশালি হচ্ছে। চতুর্থ প্রান্টিকে আটলান্তারফেডারেল রিজার্ভ জিডিপি ৩.৫% এবং নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ জিডিপি ৩.৯% এ দাঁড়িয়েছে। এ সপ্তাহে ট্রেডারদের মূল আকর্ষণ জব রিপোর্টের দিকে। প্রতি মাসের মত এ মাসেও NFP (নন ফার্ম পে-রোল) মার্কেটে ভাল প্রভাব ফেলতে পারে। নভেম্বরেরজব রিপোর্ট ৮ তারিখ শুক্রবার প্রকাশিত হবে। প্রতি মাসে জব রিপোর্ট পরিবর্তিত হলেও, গড় নতুন চাকরির পরিমান প্রায় একই রয়েছে। গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ১৮৭,০০০করে নতুন জব তৈরি হয়েছে। কিন্তু আগস্টে ঝড়ের আগে ১৭৬.০০০ জব তৈরি হয়েছিল। এবার নভেম্বরে প্রায় ২০০,০০০ নতুন জব তৈরি হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রত্যাশার চেয়ে কম-বেশি ফলাফল ডলারকে প্রভাবিত করবে। এছাড়াও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। তবে তার থেকে মার্কেটে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে Average Hourly Earnings রিপোর্টটি। অনেক বিশেষজ্ঞরাই ধারনা করছেন আগামী বছর মুদ্রাস্ফিতি বাড়তে পারে, আর নভেম্বরের রিপোর্টে তাতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে। ১৩ ডিসেম্বর ফেড রেট বৃদ্ধি করতে পারে এরকম কিছু ধারনা করছেন অনেকে। মুলত এক ফেড অফিসিয়ালের বক্তব্য থেকেই এ ধারনার সৃষ্টি। অর্থনৈতিক রিপোর্টগুলো এ সপ্তাহে হেডলাইন করলেও, আসল প্রভাব ফেলতে পারে রাজনৈতিক কারনগুলো। এ সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হল - ট্যাক্স রিফর্ম এবং ট্রাম্প-ফ্লিন সংক্রান্ত রাশিয়ান ইনভেস্টিগেশন। যদিও আজ ডলার শক্তিশালিভাবে দিন শুরু করেছে। ট্রাম্প-ফ্লিনের বিষয়টি পাত্তা না পেলেও ট্যাক্স রিফর্ম গুরুত্ব পেয়েছে মার্কেটে। ফ্লিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে রাজি হয়েছে এফবিআইয়ের কাছে যে ট্রাম্প তাকে রাশিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমানিত হলে তা ট্রাম্পেরজন্য ভয়ংকর, তথা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মঙ্গল এবং বুধবার রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউজিল্যান্ড এবং ব্যাংক অফ কানাডার পলিসি মিটিং রয়েছে। যদিও কোনটিরই পলিসি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রধান মারিও দ্রাঘি বক্তব্য রাখবেন। এই ছিল এ সপ্তাহের প্রাথমিক আপডেট। প্রতিদিনের আর বিস্তারিত মার্কেট আপডেট পেতে এখন থেকে বিডিপিপসের সাথেই থাকুন।
  11. যুক্তরাষ্ট্রে গেল সপ্তাহজুড়ে শিরোনাম দখলে রেখেছে FOMC এর দুটি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ডিসেম্বর নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়েলের নাম ঘোষণা করেন যিনি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরস বোর্ডের একজন সদস্য। সুদের হার বাড়তে পারে ডিসেম্বরে গত সপ্তাহে সর্বশেষ মিটিং এ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার ১% থেকে ১.২৫% সীমারেখার মধ্যে অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টি ফেডারেল ব্যাংকের নজরে আনে। অর্থনীতিবীদ এবং মার্কেট গবেষকগণ এমনটাই ধারণা করেছিলেন। এদিকে ডিসেম্বর থেকে হার বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে হ্যারিকেন আঘাত হানার ফলে সুদের হারের সাময়িক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কিছুটা বিপর্যস্ত হয়। “FOMC এর সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী হ্যারিকেন আঘাত হানা সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমের বাজার শক্তিশালী হতে থাকে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।“ এমনটাই বিবৃতি দিয়েছে FOMC যা সুদের হার বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। সম্প্রতি স্থায়ী বিনিয়োগে ঊর্ধ্বগতি আশা করে বলে ফেড তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে। ফেডের ঘোষনার ফলে মার্কেটে কিছুটা পরিবর্তন আসে। FOMC কর্তৃক এই ঘোষণা আসার সাথে সাথে মার্কেটের সুদৃঢ় অবস্থান লক্ষ করা যায় যা ৮৭.৫% এ দাড়ায়। এর ফলে ডিসেম্বরে রেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। ২০১৮ সালেও তিন দফায় সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারেও ফেডের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মার্কেট ২ দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে তা পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষত সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৩% প্রবৃদ্ধির কারণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক মাসিক বন্ড হ্রাসের কার্যক্রমও ঘোষনা করেছে। ব্যালেন্স সিটের নরমালাইজেশন হিসেবে পরিচিত এ পরিকল্পনার মাধ্যমে অক্টোবর থেকে ফেড তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে যার মাধ্যমে প্রতি মাসেই ১০ বিলিয়ন ডলার মুল্যের বন্ড কমানো হচ্ছে। পরবর্তী বছরের প্রথম দিকে এই হ্রাসের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রতি মাসে ৫০ বিলিয়ন ডলার করে কমবে বলে ধারণা করছে ফেড। জেরোমি পাওয়েল, ফেডের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এশিয়া সফরকে সামনে রেখে ফেড প্রধান নির্বাচনের ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত জানান। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ফেডের পরবরর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে জেরোমি পাওয়েলের নাম ঘোষণা করেছেন। বর্তমান আলোচিত ফেড চেয়ারম্যান জেনেট ইয়েলেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৪ সালে জ্যানেট ইয়েলেন ওবামা প্রশাসন কর্তৃক ফেডের প্রধান নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি বেন বার্নাঙ্কের অধীনে দায়িত্বরত ছিলেন। পাওয়েল নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা খুবএকটি আশ্চর্যজনক ছিল না কারো কাছেই। FOMC এর একজন সদস্য হিসেবে তিনিও যে তার পূর্বানুসারীদের মত নির্বাচিত হতে পারেন সে ধারনা অনেকেই করেছিল। পাওয়েল ২০১২ সাল থেকে FOMC এর বোর্ডে দায়িত্বরত আছেন এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে তার ভূমিকাই ছিল মূখ্য। যার ফলে তার নমিনেশন এবং নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারটি মার্কেটের চোখে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পাওয়েল তার বর্তমান ধারা বজায় রেখেই কাজ করবেন, তাই মার্কেটে হুট করে বড় ধরনের চমক আসার সম্ভাবনা কম বলেই ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।
  12. একেই বলে, কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। হ্যারিকেনের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্র পর্যুদস্ত হয়েছিল কিছু দিন আগেই। ফলে দেশটিতে তেলের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। আর তার সাথে যোগ হয়েছে অনেক দিন ধরেই চলা সৌদি আরব ও রাশিয়ার তেলের দাম বাড়ানোর প্রচেস্টা। ফলাফল? দুই বছরের শীর্ষে তেলের মূল্য এখন। ট্রেডারদের নজর তাই এখন তেলের দিকে। কিছুদিন ধরেই তেলের দাম বাড়ছে। আর অবশেষে এবার তেল শক্তিশালী রেজিসট্যান্স লাইন ভেঙ্গে $৫৫.২০ তে অবস্থান করছে, যা সাম্প্রতিককালে সর্বোচ্চ $৫৫.৬১ প্রাইসে উঠেছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর এবং ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে তেলের মূল্য ৫৫.২০ ডলারে উন্নীত হয়। বর্তমানে তেলের যে মূল্য সেটি নির্ধারিত হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে। তখন তেল উৎপাদনও হত অনেক দ্রুত। ২০১৪ সালে OPEC তেলের উৎপাদন না কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় যা পরবর্তিতে বিপর্যয় ডেকে আনে। ২০১৫ সাল নাগাদ দাম দাঁড়ায় ৫৬.৬৪ ডলারে। পরবর্তিতে তেলের মূল্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬২.৭০ ডলারে যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। বর্তমান সময়ের এই মূল্য বিগত বছরগুলোর মুল্যকে ছাপিয়ে আবার ২০১৪ সালের প্রাইসে অবস্থান করছে। OPEK এবং non-OPEC ভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে চলমান বাধাসমুহের ফলেই তেলের মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে যাওয়া হ্যারিকেনও মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ। তেলের মূল্য এভাবেই বৃদ্ধি পেতে থাকবে নাকি স্বাভাবিক থাকবে তা অনেকাংশে নির্ভির করে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনের ওপর। যদি আমেরিকা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়, তবেই এই ঊর্ধ্বগতি থামতে পারে।
  13. বৃহস্পতিবার ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড বিগত ১০ বছরে প্রথমবারের মত তাদের সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে আর বলা হয়েছে যে আগামী তিন বছর সুদের হার বৃদ্ধি বজায় থাকবে, তবে তা হতে পারে খুব অল্প। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এর ভাষ্যমতে, সুদের নীতিনির্ধারণকারী ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দেন যার ফলে ২০১৬ সালের প্রস্তাবিত নীতি বাতিল করে বর্তমানে সুদের হার ০.২৫% থেকে ০.৫০% এ বৃদ্ধি করা হয়। ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সুদের হার বৃদ্ধি করে। ইংল্যান্ডের মার্কেটে ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সতর্কতামূলক অবস্থানের ফলে ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রা এবং সরকারী বন্ডের মূল্য প্রায় এক শতাংশ কমে যায়। ব্রেক্সিট ভোটের পরে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে অতিমন্দায় পাউন্ডের মূল্য কমে যায়। যার ফলে বৃটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ধীর গতি লক্ষ করা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়তে না দিয়ে কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি করতে ব্যর্থ হয়। বরং তারা সুদের হার বৃদ্ধিকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। সেপ্টেম্বরে ভোক্তার মূল্যস্ফীতি ৩% এ গিয়ে ঠেকে যা বিগত ৫ বছরে প্রথম এবং ধারণা করা হচ্ছে এই হার অক্টোবর নাগাদ ৩.২% এ উন্নিত হবে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ভাষ্যমতে, ১৯৭০ সালের পর বেকারত্বের হার হ্রাস এবং জনবলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বৃদ্ধির লক্ষণ। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনে করে, যদি ফিনান্সিয়াল মার্কেটে ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধির ধীর গতি বজায় রাখে তাহলে মুদ্রাস্ফীতির হার ২% এ নামিয়ে আনা সম্ভব। মুদ্রাস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে এর হার ১% এ দাঁড়াবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও একই পথ অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মন্দা পরবর্তী সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি করে এবং ইউরোপীয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ইউরোভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এর মতে, আগামী বছর বৃটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশে এবং ২০১৯ সালে ১.৭ শতাংশে উন্নিত হবে। সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বে বৃটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ২% এর অধিক বৃদ্ধি হত।
  14. আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েও সুখে নেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন। অবশ্য সুযোগ পেলেই নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতেই ছাড়ছেন না ট্রাম্প। তবে, ফেড প্রধান নির্বাচন করতে যেয়ে যে ডলারকে শক্তিশালী করে ফেলছেন, সেটা কি ট্রাম্প নিজেও জানেন? তাহলে তো টুইটারে এটার ক্রেডিট নিয়েও একটা টুইট আসতো! ফরেক্স মার্কেটে বর্তমান ঘটনা হচ্ছে, ডলার শক্তিশালী হচ্ছে আর ইউরো দুর্বল হচ্ছে। ইউরোর দিনকাল এমনিতেই গত কয়েকদিনে বেশ মন্দ হচ্ছে।তবে গত সপ্তাহেই এই বছরের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মুল্যপতন হয়েছে ইউরোর, EUR/USD নেমে গিয়েছিল ১.১৫৮৬ এ। গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততর প্রত্যাশিত আর্থিক সহায়তার সমর্থনকারী ক্রেতারা এবং ব্যবসায়ের ব্যয় সম্পর্কে তথ্য জানানোর পর শুক্রবার মূল্যের মুদ্রানীতির বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে। মার্কিন ডলার সূচক, যা একটি বাণিজ্য ভিত্তিক সংস্থা গ্রীনব্যাক এর শক্তিমত্তার পরিমাপ করে তা ছয়টি প্রধান কারেন্সি এর বিরুদ্ধে বেড়ে দাড়িয়েছে ০.০৩% থেকে ৯৪.৯২ পর্যন্ত। গত শুক্রবার বাণিজ্য বিভাগ তাদের প্রাথমিক হিসেবে জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর এর মধ্যে গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট অর্থাৎ সকল দেশীয় পণ্যের বার্ষিক দাম ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ২.৫% এর চেয়ে বেশি ছিল। একটি সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় যে, আগামী ফেব্রুয়ারীতে বর্তমান ফেডারেল চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়েলেনের সময় শেষ হওয়ার পর তার পরিবর্তে সেই স্থানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন ফেডারেল গভর্নর জেরোম পাওয়েল এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ জন টেইলর। ট্রাম্প নভেম্বরের শুরুতে এশিয়ার একটি সফরের আগে প্রার্থী ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে কে হবে আগামী ফেডারেল চেয়ারম্যান সেটা জানার জন্য আমাদেরকে ট্রাম্পের আসন্ন ঘোষণার জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডলারের দাম টানা ২য় সপ্তাহে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে এবং সামনে এর আভ্যন্তরীণ মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন। এসিএলএস গ্লোবালের প্রধান কৌশলবিদ মার্শাল গিটলার বলেন, “আমি মনে করি ডলার এখন খুবই ভাল একটি অবস্থান এর মধ্যে রয়েছে এবং আরও মধ্যমেয়াদী লাভ হবে কিনা সেই ব্যাপারটা আমার কাছে খানিকটা ঘোলাটে। সপ্তাহ শেষের আগে কিছু লাভ এবং অবস্থার অবসান ঘটতে পারে। যাইহোক, এটি একটি দারুন সপ্তাহ ছিল ডলারের জন্য, যা অন্যান্য সমস্ত জি-১০ মুদ্রার বিপরীতে ডলারকে শক্তিশালী করেছে”। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ডের দাম কমে যাওয়ার এবং বৃহস্পতিবার ইসিবি সভাপতি মারিও দ্রাঘির কিছুটা বিব্রতকর মন্তব্যের পর ক্রমবর্ধমান ডলারের বিপরীতে ইউরোর মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যা ইউরোর জন্য আশংকাজনকই বটে। ইউরো/ডলার ৩ মাসের সর্বনিম্ন ১.১৫৮৬ এর নিচে ০.৫৭% কমে যায়, ইউরো/পাউন্ড ০.১৬% কমে ০.৮৮৩৯ তে নেমে আসে। পাউন্ড/ডলার ০.৩৭% কমে ১.১৩১২, ডলার/ইয়েন ১১৩.৯৭ প্রাইসে ট্রেড হয়েছে। বুধবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার জন্য কানাডার ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর ডলার/ক্যাড ০.২০% কমে ১.২৮৭২ প্রাইসে ট্রেড হয়েছে। তো এই ছিল আমাদের আজকের ফরেক্স আপডেট। আশা করি আপনারা এতক্ষণে পুরো বিষয়টি বুঝে গিয়েছেন যে, কে হতে পারে আগামী ট্রাম্প এর নির্বাচিত ফেড প্রধান এবং ২০১৭ সালের ইউরো এর সবচেয়ে বড় পতন সম্পর্কে। এভাবে ফরেক্স এর সকল আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ফরেক্স এর আপডেট সম্পর্কে আপনার যে কোন মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। নিজের খেয়াল রাখুন এবং ভাল বিষয়গুলো সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন।
  15. ব্রেক্সিটের ধাক্কায় এমনিতেই ইউরোপ কাহিল, তার মধ্যে মরার উপর খরার ঘা হতে পারে ফ্রান্সের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে মেরিনে লে পেন নির্বাচিত হলে তা ব্রেক্সিটের থেকেও মারাত্মক হবে। কেননা এতে ইউরোর অস্তিত্বই ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে, ট্রেডাররা হারাতে পারেন EUR/USD ট্রেড করার সুযোগ। এক নজরে ফ্রান্সের জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইলেকশন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ থেকে বেশ ভিন্ন। জনগন সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট হতে হলে একজন প্রার্থীকে নুন্যতম ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী লড়বেন। ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩ শে এপ্রিল। কোন প্রার্থীই ৫০ শতাংশ এর বেশি ভোট না পেলে, সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুইজন প্রার্থীর মধ্যে থেকে একজনকে নির্বাচনের জন্য আবার ভোট হবে ৭ মে, যেটাকে ভোটের দ্বিতীয় রাউন্ড বলা হয়। কোন প্রার্থীই যে প্রথম রাঊন্ডে সরাসরি বিজয়ী হতে পারবেন না, তা নিশ্চিত। তাই, দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটের উপরই সব নির্ভর করবে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীগন মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই অনুষ্ঠিত হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে মূলত মধ্য ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টি প্রার্থী Francois Fillon, চরম ডানপন্থী Marine Le Pen এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী Emmanuel Macron এর মধ্যে। এছাড়াও রয়েছেন বামপন্থী Benoît Hamon ও Jean-Luc Mélenchon। সর্বশেষ জন্মত জরীপে বেশ কিছুদিন ধরেই এগিয়ে রয়েছেন ফ্রান্সের ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেরিনে লে পেন। তীব্র অধিবাসী, শরণার্থী ও ইসলাম বিরোধী মেরিনে লে পেন ইউরোপিয়ান কারেন্সি ইউরোর বিপক্ষে। ক্ষমতায় গেলে তিনি ফ্রান্সের নিজস্ব কারেন্সি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন নীতির কট্টর বিরোধীও তিনি। মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার কারনেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি এবং এটাকেই পুজি করে তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। গতকালের জনমত জরীপ অনুসারে (The Elabe poll), ২৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লে পেনই। তবে, খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন এমানুয়েল ম্যাক্রন। ২৫.৫ শতাংশ ভোট নিয়ে লে পেনের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি। বয়সে তরুন মাক্রন (৩৯ বছর), ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমর্থক। এছাড়া শরণার্থীদের প্রতিও তুলনামুলক উদার দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে মিলে মিশে সীমান্ত, সন্ত্রাস, বেকারত্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পক্ষে তিনি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফিলন জনমত জরীপে অবস্থান করছেন তৃতীয় অবস্থানে। মূলত তাকেই লে পেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হলেও, স্ত্রীকে বিনা কাজে সরকারী চাকুরীর নামে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ চলছে। এর ফলে দ্রুতই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন তিনি। নির্বাচনে যা হতে পারে আগেই বলা হয়েছে যে, প্রথম রাউন্ডে কোন প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন না। ধারনা করা হচ্ছে, মেরিনে লে পেন ও ম্যাক্রন এর মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে মজার ব্যাপার হল, ২৬ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ তার চরম ডানপন্থী নীতির বিরুদ্ধে। এখন পর্যন্ত সবগুলো জনমত জরীপ বলছে যে, প্রথম রাউন্ডে তিনিই বিজয়ী হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি হেরে যাবেন ম্যাক্রন বা ফিলনের কাছে। (ম্যাক্রন বা ফিলন পাবেন ৬০ শতাংশ, লে পেন পাবেন ৪০ শতাংশ) । তবে, জনমত জরীপও যে ভুল হতে পারে, তা তো সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে। যে কারনে একজন ফরেক্স ট্রেডারের কাছে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ জার্মানির পরেই ইউরোপের দ্বিতীয় প্রধান পরাশক্তি হচ্ছে ফ্রান্স। ফ্রান্স ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। যদি লে পেন নির্বাচিত হয়ে ইউরোর বদলে নিজস্ব মুদ্রা চালু করেন, তাহলে অস্তিত্বের সংকটে পড়বে ইউরো। বর্তমানে, গ্রিসসহ অনেক দেশই ইউরোর মূল্যায়নের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত। ফ্রান্স ইউরো থেকে বের হয়ে গেলে, তারাও এর সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে। লে পেন নির্বাচিত হলে, ইউরো এর মেজর কারেন্সি পেয়ারগুলো ১০০০ পিপস এর বেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এমনকি, EUR/USD এর সর্বকালের সর্বনিম্ন প্রাইসের রেকর্ডও ভেঙ্গে যেতে পারে। অন্যদিকে, ম্যাক্রন নির্বাচিত হলে ইউরো তাৎক্ষনিক কয়েকশ পিপস শক্তিশালী হবে। তবে, ইউরো দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল থাকায়, তা খুব বেশি সময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এটাতো গেল শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনের কথা। ফ্রান্সের ইলেকশনের প্রভাব এখনই পড়তে শুরু করেছে ফরেক্স মার্কেটে। সাম্প্রতিক সময়ে যখনই জনমত জরীপে লে পেনের এগিয়ে থাকার খবর আসছে, ইউরো তাৎক্ষনিকভাবে দুর্বল হচ্ছে। এমনটা চলবে ৭ মে পর্যন্ত। আর তাই, নির্বাচনের দিন আপনি ট্রেড করুন আর নাই করুন, চাইলেই এই নির্বাচন থেকে আপনি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারছেন না। ব্রেক্সিটের মতই ফ্রান্সের নির্বাচনের সমস্ত আপডেট পাওয়া যাবে বিডিপিপসে। এছাড়াও, নির্বাচনের দিন বিডিপিপসের বিশেষ কাভারেজ থাকবে।

বিডিপিপস কি এবং কেন?

বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। যারা বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিডিপিপস একটি আলোচনা এবং অ্যানালাইসিস পোর্টাল। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং করছেন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে।

×